অবশেষে সেই বাস মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, জামিন বাতিল

0 18

কুষ্টিয়া: অবশেষে কুষ্টিয়ার বহুল আলোচিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু আকিফার মামলায় ৩০২ ধারা সংযোজন হয়েছে। এতে আকিফার মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত হবে। এ ঘটনায় ওই বাস মালিক ও চালকের জামিনও বাতিল করেছেন কুষ্টিয়ার আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে আকিফার বাবার দায়ের করা মামলায় ৩০২ ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে একটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুমন কাদেরী।

কুষ্টিয়ার সিনিয়র বিচারিক হাকিম এম এম মোর্শেদ আবেদনটি মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে জিআরও শাখার উপপরিদর্শক আজাহার আলী জামিনপ্রাপ্ত দুই আসামি বাসের মালিক ও চালকের জামিন বাতিলের আরেকটি আবেদন করেন।

ওই আবেদনটিও মঞ্জুর করেন আদালত। তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

গত ২৮ আগস্ট রাজশাহী থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসা গঞ্জেরাজ পরিবহনের একটি বাস শহরের চৌড়হাস মোড়ের কাউন্টারে এসে থামে। সে সময় থেমে থাকা বাসের সামনে দিয়ে এক বছরের শিশুকন্যা আকিফাকে কোলে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন মা রিনা বেগম।

হঠাৎ কোনো হর্ন ছাড়াই চালক খোকন বাসটি চালিয়ে দেন। বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে আহত হয় শিশু আকিফা।

বাসের ধাক্কায় রিনা বেগমও আহত হন। এরই মধ্যে বাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ২৯ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু আকিফা।

পরে এ দুর্ঘটনার (সিসি টিভির ফুটেজ) ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

আকিফার বাবা হারুন উর রশীদ গত ৩০ আগস্ট এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানায় বাসচালক ও মালিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ- তা ৩০৪ ধারায় নথিভুক্ত করে।

পরে ওই মামলায় গঞ্জেরাজ পরিবহনের মালিক জয়নাল মিয়াকে ফরিদপুর থেকে আটক করে র‌্যাব সদস্যরা। রোববার বিকালে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

সোমবার সকালে মালিকের পক্ষের আইনজীবীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম এম মোর্শেদের আদালতে জামিন আবেদন করেন। একই সময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন চালক মহিদ মিয়া ওরফে খোকন। পরে আদালত দুজনকে জামিন দেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.