চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ স’মিলের অনিয়ম

0 77

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার বেশির ভাগ করাতকলের স’মিল বৈধতা নেই। কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বছরের পর বছর ধরে মালিকরা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চালাচ্ছেন সমিলগুলো।

প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়ন করার বিধান থাকলেও ১০-১১ বছর ধরে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে এসব সমিল। কর্তৃপক্ষ বলছে, লাইসেন্সবিহীন সমিলগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৮১টি সমিল রয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেবে অবৈধ এসব সমিলের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ৮১টি স’মিলের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২৬টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২৩টি, জীবননগর উপজেলায় ১৪টি ও দামুড়হুদা উপজেলায় ১৮টি স’মিল আছে।

২০০৭ সালে জেলার সব করাতকলের লাইসেন্স ছিল। এর পর থেকেই লাইসেন্স নবায়নের ব্যাপারে উদাসীন স’মিল মালিকরা। বর্তমানে মাত্র পাঁচ থেকে সাতটি সমিলের লাইসেন্স আছে। আর নবায়নের আবেদন পড়ে আছে কিছু সমিলের। অভিযোগ আছে, অবৈধভাবে পরিচালিত এসব স’মিলের মাধ্যমে বেপরোয়াভাবে চলছে বৃক্ষ নিধন।

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়কের পাশে রয়েছে অনেক সমিল। এসব করাতকলের মালিকরা রাস্তার পাশে যত্রতত্র ফেলে রাখেন কেটে আনা গাছের গুড়ি। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা গাছের কারণে পথচারীদের চলতে অসুবিধা হয়। যানবাহন চালকদের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা গাছ এড়িয়ে চলতে হয়।

ব্যবসার জন্য আইন থাকলেও তা জানেন না অনেক সমিল মালিক। তারা ইউপি কিংবা পৌরসভা থেকে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে করাতকলের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।

স’মিল লাইসেন্স বিধিমালা ২০১২ অনুযায়ী, কোনো স’মিল মালিক লাইসেন্স না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না। লাইসেন্স নেয়ার পর থেকে প্রতিবছর তা নবায়ন করতে হবে। কোনো করাতকলের লাইসেন্স নবায়ন করা না হলে তা লাইসেন্সবিহীন সমিল হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু এই আইন মানেন না বেশির ভাগ সমিল মালিক।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ভিমরুল্লা গ্রামের সাজিদুর রহমান বলেন, ‘দুই বছর হলো আমি সমিল করেছি। বৈধ কাগজপত্র নিয়েই ব্যবসা করছি। বেশির ভাগ স’মিল অবৈধ। তাদের কোনো খরচ নেই। তারা কম পয়সায় কাজ করে। আমাদের লাইসেন্সের জন্য খরচ হয়। এ জন্য অবৈধ সমিল মালিকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পারি না।’

ফকিরপাড়া গ্রামের সমিল মালিক ইউসুফ আলী খোকন বলেন, ‘যা মিল আছে তার অর্ধেকের বেশির লাইসেন্স নেই। অবৈধ মিল বন্ধ হয় না বলে অনেকে লাইসেন্স করে না। লাইসেন্স না করেই যদি চলে, তাহলে কেন লাইসেন্স করবে মিল মালিকরা?

চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিল মালিক সমিতির সভাপতি মুন্সী মো. আরঙ্গজেব বেল্টু বলেন, ৭৬টি সমিল মালিক তাদের সমিতির সদস্য। বর্তমানে সমিল মোটেও লাভজনক ব্যবসা নয়। কিছু শ্রমিক এখানে কাজ করার সুযোগ পায়। তাদের রুজিরোজগারের ব্যবস্থা হয়। কোনো সমিল মালিক সারা দিন যদি করাতকলে বসে থাকেন, তাহলে তার নিজের সংসার চলবে না। করাতকলে যা আয় হয় তাতে শ্রমিকদের দেওয়ার পর যৎসামান্য থাকে। আয় কম, এ জন্য করাতকলের দিকে নজরও কম অনেকের।

চুয়াডাঙ্গা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হামিদ বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। অবৈধ সমিল মালিকদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মের বাইরে কোনো স’মিল চলতে দেওয়া হবে না। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ স’মিল মালিকদের জরিমানা করা হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.