তাদের প্রেমকাহিনী…

0 93

ডেস্ক:মিডিয়ার তারকাদের প্রেম ভালোবাসা কখনো থামেনি, দেদারসে চলে আসছে তাদের প্রেম। সেকাল-একাল পর্যন্ত হলিউড, বলিউড, টলিউড ও ঢালিউডে যুগে যুগে তারকাদের প্রেম-প্রণয়ের গুঞ্জনে বাতাস ভারি হয়েছে, এখনো হচ্ছে। সময়ে অসময়ে বিভিন্ন প্রেমে নিজেকে জড়িয়ে খবরের শিরোনামও হতে হয়েছে মিডিয়ার অনেকের।

তবে গোটা বিশ্বের মিডিয়ার কথা না বলে আজ ডেইলি বাংলাদেশ পাঠকদের জানাবো ঢালিউডের ক’জন নায়িকার প্রেমের গুঞ্জন বা সত্যিকারের প্রেম-বিয়ের খবর। যা আজো জানা-অজানার মধ্যে রয়ে গেলো।
শাবনাজ

নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে যখন গৎবাঁধা ছবি ও একই নায়ক-নায়িকা দেখতে দেখতে দর্শকরা বিরক্ত, তখনই ‘চাঁদনী’ নামক চলচ্চিত্রের মুক্তি ছিল স্বস্তির। প্রবীণ পরিচালক এহতেশাম অনেক ঝুঁকি নিয়ে এটি নির্মাণ করেন এবং সফল হন। এই ছবিটি সুপারহিট হয়।

ওই সময় এহতেশামের ‘চাঁদনী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়িকা হয়ে আসেন শাবনাজ। চলচ্চিত্রে তার নায়ক ছিলেন নাঈম। এতে অভিনয় করতে গিয়ে ঘনিষ্ঠ হন দুজন। একসঙ্গে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেন। শুরু থেকেই তাদের প্রেমকাহিনী মিডিয়ায় চাউর হয়। কিন্তু এ খবর তারা অস্বীকার করেন। অবশেষে ১৯৯৬ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসে অবসান ঘটান সব জল্পনা-কল্পনার।
মৌসুমী

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় মৌসুমীর। শুরুতেই চলচ্চিত্রটির নায়ক সালমান শাহকে জড়িয়ে তার প্রেমের গুঞ্জন চাউর হলেও পরে আরেক হার্টথ্রব নায়ক ওমর সানীর সঙ্গে মৌসুমীর প্রেমের খবর চলচ্চিত্রাঙ্গনসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

যথারীতি প্রথমে অস্বীকার, পরে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। এখনো মৌসুমী-সানির সুখী দাম্পত্য জীবন অনেকের কাছে ঈর্ষণীয়।
শাবনূর

১৯৯৩ সালে এহতেশামের ‘চাঁদনী রাতে’ চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটান শাবনূর। শুরু থেকেই সাব্বির, সালমান শাহ, রিয়াজসহ অনেকের সঙ্গে তার প্রেমের খবর চাউর হতে থাকে। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর ২০১৩ সালে হঠাৎ শোনা যায় তিনি গোপনে বিয়ের কাজটি সেরে ফেলেছেন।

ঢালিউডের দাপুটে এই নায়িকার বিয়ের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিও কম হয়নি। শাবনূর বলেন ৬ ডিসেম্বর, আর তার বর অনীক মাহমুদ বলেন ২৮ ডিসেম্বর। তাছাড়া বিয়ের সাল নিয়েও দ্বিমত দুজনের। শাবনূর বলেন ২০১১, তার বর ২০১২! আসলে শাবনূর বিয়ে করেছেন কবে, এ নিয়ে চলচ্চিত্রে তার সহকর্মীরাও বিভ্রান্ত হন।

অনীক মাহমুদ ও শাবনূরের সংসারে আইজান নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। বেশ ভালোই আছেন বর্তমানে শাবনূর।
পপি

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় মনতাজুর রহমানের আকবরের ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আবির্ভূত হন পপি। পরে শাকিল খানের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে অভিনয় করেন ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ চলচ্চিত্রে। পরে একসঙ্গে জুটি হয়ে বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন দুজন।

কিন্তু এ জুটি প্রথম চলচ্চিত্র থেকেই প্রেমের গুঞ্জনের জন্ম দেন। একপর্যায়ে পপিকে স্ত্রী হিসেবেও দাবি করেন শাকিল খান। কিন্তু পপির অস্বীকৃতিতে ঘটনা আদালতে গড়ায়। শেষ পর্যন্ত দুজন দুই মেরুতে চলে যান।
পূর্ণিমা

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে চলচ্চিত্রে আসেন মিষ্টি মেয়ে পূর্ণিমা। সুদর্শন নায়ক রিয়াজের সঙ্গে জুটি হয়ে অনেক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র উপহার দেন তিনি।

এরপর তাদের প্রেম কাহিনী মুখে মুখে বাজতে থাকে অনেকের। অবশ্য পরে আরো এক নায়ক ও নির্মাতার সঙ্গে পূর্ণিমার প্রেমের খবর রটে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্র জগতের বাইরে বিয়ে করায় পূর্ণিমার প্রেম উপাখ্যান আর দীর্ঘায়িত হয়নি।

২০০৭ সালের ৪ নভেম্বরে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী পূর্ণিমা। স্বামীর নাম আহমেদ জামাল ফাহাদ। বিয়ের ৭ বছর পর ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল কন্যাসন্তানের মা হন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। মেয়ের নাম আরশিয়া।
অপু বিশ্বাস

অপু-শাকিব জুটি গেঁথে আছেন কোটি দর্শকের হৃদয়ে। ২০০৮ সালে বিয়ে করেছিলেন ঢালিউডের এ সফল জুটি। সেসময় ধর্মান্তরিত হয়ে নামের সঙ্গে ইসলাম যুক্ত করে শাকিবকে মুসলিম ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে করেন অপু।

আব্রাম খান জয় নামের তাদের একটি পুত্রসন্তান আছে। দীর্ঘ সময় একসঙ্গে সংসার করলেও বিয়ের বিষয়টি শাকিব-অপু গোপন রেখেছিলেন। গত বছর বিয়ের খবর ফাঁস করে দেন অপু। যা মিডিয়ায় তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে।

মূলত ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল বিয়ে করেন তারা। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের বাইরের একটি হাসপাতালে জন্ম হয় শাকিব ও অপুর সন্তান আব্রাম খান জয়ের। বর্তমানে তাদের বিচ্ছেদ হলেও সন্তান জয় মায়ের সঙ্গেই থাকেন। পাশাপাশি বাবা মাঝে মাঝে ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে রাখেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.