‘খালেদা জিয়া বাত-ব্যাথাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন’

0 24

ডেস্ক: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল জলিল চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তিনি ব্যাথাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। খালেদা জিয়া রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (গিটে গিটে ব্যাথা বা বাত) রোগে আক্রান্ত। ওনার হাত বাঁকা হয়ে গেছে, হাত তুলতে পারছেন না। এছাড়া ঘাড়ে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, বাম উরুর জয়েন্টে ব্যথা ও বাম হাঁটু ফুলে গেছে। বাম কাঁধ নাড়াতে পারেন না, হাত ঝিম ঝিম করে। তার বাম হিপজয়েন্টে আর্থ্রাইটিস আছে। তার দুই হাঁটু আগে থেকেই রিপ্লেস (প্রতিস্থাপন) করা, সেখানে কিছুদিন আগে ফুলে গিয়েছিল। ওষুধ দিয়ে তা ঠিক করা হয়েছে। ৩০ বছর ধরে খালেদা জিয়া রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগে ভুগছেন। এই জটিল রোগ কন্ট্রোলে না থাকার কারণে তার বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ৪ সদস্য খালেদা জিয়াকে দেখে এসে এবং আগের ও বর্তমান ফাইলপত্র পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা করে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

ব্রিফিংএ আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন, রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিমা পারভীন, ফিজিকাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ।

আবদুল জলিল চৌধুরী বলেন, বেগম জিয়ার উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে নেই। তার সুষ্ঠু চিকিৎসায় যে উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে তা করার আগে হার্ট, কিডনি, লাংসহ বেশ কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। কোনো ধরনের ইনফেকশন আছে কি-না তা জানতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে। আর সবকিছু ঠিক থাকলে দুই সপ্তাহ পর তার মূল চিকিৎসা শুরু হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা বোর্ডের সদস্যরা পড়েছেন। বোর্ড গঠনে হাইকোর্টের নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলেই তাদের ধারণা। সোমবার রাতেও মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান।

তিনি বলেন, ওনার যে রোগ রয়েছে সেটা রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক এর অন্তর্গত। তিনি মূল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিয়মিত দেখা করছেন। রবিবার রাতে অধ্যাপক আতিকুল হক তার সাথে দেখা করে কথা বলেন। এ সময় বেগম জিয়ার পছন্দের চিকিৎসক ডা. মামুন রহমানও ছিলেন।

আবদুল জলিল চৌধুরী বলেন, বেগম জিয়া ২০ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন। তাকে ডায়াবেটিস কন্ট্রোলের জন্য ইনসুলিন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা নেননি। তার ডায়াবেটিসের কী অবস্থা সেটি আমাদের দেখতে হবে। মাঝখানে তার সুগার কমে হাইপো-ডায়াবেটিস হয়ে গিয়েছিল। তিনি ব্লাডপ্রেসারের ওষুধ খাচ্ছেন। মাঝখানে কিছু দিন আগে তার জ্বর হয়েছিল। সেটা এখন নাই। তার শরীরের সোডিয়াম কমে গিয়েছিল। ওষুধ দিয়ে সেটা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে কিনা এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,উনার ফিজিওথেরাপি শুরু করে দেবো।
ব্রীফিংএ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক বলেন, বেগম জিয়ার কোনো রোগ নিয়ন্ত্রণে নেই। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে না এনে ওষুধ দেয়া যাবে না। তাছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। সেগুলোর রিপোর্ট এনে তখন ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। আমরা এখন চিকিৎসার পূর্ব প্রস্তুতিতে আছি।

উল্লেখ্য, ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এনে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৬ তলায় ৬১১ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। তার আগে ওই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। রবিবার দুপুরে মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা.মামুন রহমানের বিষয়ে জানতে চান। তখন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বিএনপি প্রধানকে জানান,ডা. মামুনকে সঙ্গে রাখা হবে। এরপর ডা. মামুন রহমানকে সঙ্গে রিয়েই মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে কেবিন ব্লকের ৬১২ নম্বর কেবিনে আলোচনায় বসেন। সেখানে ছিলেন মেডিকেল বোর্ডের অপর চার সদস্য ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বদরুন্নেসা আহমেদ, রিউমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, অর্থোপেডিক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নকুল কুমার দত্ত।

Leave A Reply

Your email address will not be published.