চুয়াডাঙ্গায় ব্যাপক হারে বাড়ছে শিশু শ্রমিক

0 50

চুয়াডাঙ্গা: যে সময়ে শিশুদের বই খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সেই সময়ে চুয়াডাঙ্গার বহু শিশুরা শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। দরিদ্রতার কারণসহ অসচেতনতার জন্য শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার ৩৮ ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভাসহ শহরের দরিদ্রতার কারণসহ অসচেতনতার জন্য দিন দিন বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। বিভিন্ন গ্রামের নি¤œ আয়ের শিশুরা দু’মুঠো অন্নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। এসব শিশু শ্রমিকের কেউ কেউ পিতৃহীন, কেউ এতিম, কেউবা অভাবের জন্য ঘর ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পা বাড়াচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারের চায়ের দোকানে, হোটেল-রেঁস্তোরায়, বেকারি, ওয়েল্ডিং কারখানা, লেদ কারখানা, অনেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপে, বাসের হেলপার, বিল্ডিং নির্মাণের রাজমিস্ত্রির যোগান, রিকশা-ভ্যান চালানো, তামাকের গোডাউনে, নসিমন, করিমন, আলমসাধু, জুতো পালিশসহ অনেকেই বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে শিশুশ্রম দিচ্ছে। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও তারা ন্যায্য মজুরি পায় না। বিড়ির ফ্যাক্টরিতে কাজ করে একদিকে শিশুরা যেমন রোগব্যাধিতে ভুগছে অপরদিকে হাড়ভাঙা পরিশ্রমের কারণে তারা অকালে ঝরে পড়ছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় অনেক শিশু নিয়োজিত। অনেকেই মোটর গ্যারেজে কাজ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে জীবন সংগ্রামে নেমেছে। আবার অনেকেরই দেখা যায় বাস-ট্রাকের হেলপারের মতো কঠিন কাজ করতে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কালোনিপাড়ার মিলন আলীর ছেলে রতন। বয়স মাত্র ১১ বছর। সে গত দুই বছর আগে কর্মজীবন শুরু করে চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশন রোডের মতি মিয়ার লেদের দোকানে। রতন জানায়, বাবা দুটি বিয়ে করেছে। তিনি আমাদের ঠিকমত দেখেন না। ঠিকমত খেতে দেয় না। লেখাপড়া শিখবো কি করে? আমি যা আয় করি তাই দিয়েই আমাদের সংসার চলে। আমার বাড়িতে আমি মা ভাই ও তিন বোন। এদের খোরাক যোগাতেই এই কর্ম বেঁচে নিতে বাধ্য হয়েছি। রতন আরেক সহযোগী ইব্রাহিম। সে গোরস্তানপাড়ার ছিদাম শেখের ছেলে। তার বাবাও দুটি বিয়ে করেছে। তাদের পরিবারে অভাব। তাই কাজ শিখতে হয়েছে।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী জন্ম থেকে শুরু করে ১৮ বছর পর্যন্ত ছেলে-মেয়েদের শিশু হিসেবে ধরলেও সংশ্লিষ্ট শ্রম অধিদফতর ১৪ বছরের সকল বয়সের ছেলে-মেয়েদের শিশু হিসেবে ঘোষণা করেছে। এদের কোনো কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে কাজ করার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চুয়াডাঙ্গায় কম বয়সের এসব শিশুরা শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়েছে। যাদের এ সময়ে লেখাপড়া, খেলাধুলা, আনন্দ ফুর্তি করার কথা। কিন্তু সেই বয়সে তাদেরকে নামতে হচ্ছে কঠোর জীবন সংগ্রামে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.