বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসি, তারেকের যাবজ্জীবন

0 51

ডেস্ক:একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যন তারেক রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও সাবেক এমপি কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ডিউক, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক, তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের এটিএম আমিন ও জোয়ার্দারসহ ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

ঢাকার এক নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বুধবার বেলা ১২টায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা আলোচিত দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মামলার মোট ৫২ আসামির মধ্যে তিন জনের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

মৃত্যুদন্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. আব্দুল মাজে ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে (অভি), মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জল ওরফে রতন, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম, মো. আব্দুস সালাম পিন্টু ও মো. হানিফ (হানিফ পরিবহনের মালিক)। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে মাওলানা মো. তাজউদ্দিন ও মো. হানিফ পলাতক রয়েছেন। বাকিরা সবাই রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন।

যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিরা হলেন- শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান সুমন, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বকর, মো. আরিফুল ইসলাম, মুহিবুল মুক্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন, খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জেল কায়কোবাদ, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই ও রাতুল আহমেদ বাবু।

এ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান বিষয়টি ডেইলি বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন।

ওই ঘৃণ্য হামলার পর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হয় পাঁচ শতাধিক।

খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ছাড়াও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং পুলিশের শীর্ষ পদে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এ মামলার প্রধান আসামি।

এই ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে তিন আসামির অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায়, তাদের মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। ওই তিনজন হলেন- জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ সাহেদুল আলম বিপুল।

এখন ৪৯ আসামির বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জঙ্গি তাজউদ্দিনসহ ১৮ জন এখনো পলাতক।

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা: ঘটনার আদ্যোপান্ত​

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। দেশের ইতিহাসের এক ভয়াল দিন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সভাপতি শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তখন সমাবেশ চলছিল। ট্রাকের ওপর তৈরি একটি অস্থায়ী মঞ্চে তিনি বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তার চারিদিকে ছিল দলীয় নেতাদের বেষ্টনী। সামনের দিকে ছিল ফটো সাংবাদিকরা। হঠাৎই তার বক্তব্যের প্রায় শেষ পর্যায়ে প্রচণ্ড শব্দে গ্রেনেড বিস্ফোরণ হয়। সে হামলায় প্রাণ হারিয়েছিল ২৪ জন।

বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলের ছবি তুলছিলেন ফটো সাংবাদিক জিয়াউল ইসলাম। তিনি বলেন, এমন নৃশংসতা কখনো হতে পারে আমার কল্পনাতেও ছিল না। আমি মঞ্চেই ছিলাম। চেয়ারে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। প্রচণ্ড হুড়োহুড়ি আর ধাক্কায় চেয়ার থেকে নিচে পড়ে যাই। আমার ওপরে পড়ে অনেকে। হঠাৎ ট্রাকের পাটাতনের ফাঁকে চোখে পড়ল আস্ত গ্রেনেড। সেটি বিস্ফোরিত হলে কি হতো ভাবলেই শিউরে উঠি এখনো।

Leave A Reply

Your email address will not be published.