জীবন দিয়ে শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়েছিলেন কুষ্টিয়ার ছেলে মাহবুব

0 99

কুষ্টিয়া: ২১ আগস্ট, ২০০৪। ছুটিতে ছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মাহবুব রশীদ। তারপরও প্রিয় নেত্রীর জনসভায় যোগ দিতে হাজির হন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে। হঠাৎ গ্রেনেড হামলা শুরু হলে শেখ হাসিনাকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দিয়ে ঘাতকের বুলেটবিদ্ধ হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পড়েন বিশ্বস্ত এ দেহরক্ষী। নিভে যায় তার জীবন প্রদীপ। সেদিনের সেই বুলেটটি মাহবুবকে স্পর্শ না করলে কেড়ে নিতে পারত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন।

ভয়াবহ ওই দিনে বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ট্রাকের ওপর নির্মিত মঞ্চে শেখ হাসিনার বক্তব্য শুরু হয়। হঠাৎ বিকট আওয়াজ। জনসভার ওপর পড়তে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন শেখ হাসিনা তার বুলেট প্রুফ গাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সাহসী মাহবুব তাকে গাড়িতে প্রবেশ করতে অনুরোধ জানান। কিন্তু শেখ হাসিনা মাহবুবকে চিৎকার করে বলেন, ‘না আমি যাব না, ওরা মারে আমাকে মারুক।’

নেত্রীর সে কথায় কান না দিয়ে মাহবুব বুক দিয়ে আগলে তাকে গাড়ির মধ্যে ঠেলে দেন। আর ঠিক সে সময় একটি বুলেট তার মাথার পেছন দিয়ে প্রবেশ করে মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে আরো কয়েকটি গুলি তার বুকে বিদ্ধ হয়। রাজপথে লুটিয়ে পড়েন মাহবুব। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার অবস্থা আশংকাজনক হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সব চেষ্টা বিফল হয়। ২১ আগস্ট রাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাহবুব।
স্ত্রী-সন্তানদের সাথে মাহবুব

মাহবুবের সেই আত্মত্যাগ ইতিহাসের পাতায় লেখা হলেও তার অনুপস্থিতি কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে তার পরিবারকে। তার এ অকাল মৃত্যু বদলে দিয়েছে গোটা পরিবারের জীবন চিত্র। কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের মাহবুবের পরিবার।

তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মাহবুব রশীদ প্রাণ বিসর্জন দিলেও আফসোস নেই পরিবারের সদস্যদের। জীবনের পড়ন্ত বেলায় দাঁড়িয়ে তার বাবা-মায়ের শেষ ইচ্ছা মাহবুব রশীদসহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত সবার খুনিদের কঠোরতম সাজা দেখে যাওয়া। ইতিহাসের এই বর্বর হত্যকারীদের ফাঁসি চান তারা।

এক সাক্ষাৎকারে মাহবুবের বৃদ্ধ বাবা হারুন-অর-রশিদ বলেছিলেন, ”আমি যেন মাহবুবসহ সেই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দেখে যেতে পারি।”
মাহবুবের ছবি হাতে তার বৃদ্ধ বাবা-মা

হামলার কয়েকদিন আগে মাহবুবকে একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছিলেন নেত্রী শেখ হাসিনা। কয়েক দিন ব্যবহার করে স্মৃতিস্বরূপ মায়ের কছে রেখে দেন তিনি। আগস্টের ২১ আসলেই মা ঘড়িটি বুকে চেপে কেঁদে ওঠেন আর মাঝে মাঝে মূর্ছা যান।

সেই আত্মত্যাগের সম্মানস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় দুই ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় রয়েছেন তার স্ত্রী শামীমা আক্তার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এককালীন পাঁচ লাখ টাকা ও বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে মাসিক সাত হাজার টাকা দিয়ে চলছে দুই ছেলের লেখাপড়াসহ পরিবারের সব খরচ।

২০০২ সালের অক্টোবর মাসে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দেহরক্ষী হিসেবে যোগদান করেন মাহবুব। এর আগে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক নির্ভীক সেনা, একজন ল্যান্স করপোরাল।

Leave A Reply

Your email address will not be published.