ভালো নেই মাগুরার প্রতিমা শিল্পীরা

0 40

মাগুরা:আর কদিন পরই শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গাপূজা। কিন্তু ভালো নেই মাগুরার প্রতিমাশিল্পীরা। কেউ ছেড়ে দিয়েছেন এই পেশা। কেউবা শখের বশে এখনো আছেন এই পেশাতে। মাগুরার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রতিমাশিল্পীই এখন পেশা হিসেবে প্রতিমা তৈরিকে গ্রহণ করতে পারছে না। জীবিকার প্রয়োজনে বেছে নিতে হচ্ছে অন্য পেশাকে। নিজের সন্তানকেও তারা চাইছেন না এ পেশায় আনতে।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলাধীন নহাটা গ্রামের অশোক পালের সাথে কথা বলে জানা গেল, অর্থাভাবে পড়াশুনা চালাতে পারেননি তিনি। ১০ বছর বয়স থেকে বাবার সাথে তিনি এ কাজ শুরু করেন। ৫৫ বছর বয়সী অশোক এ পেশার মাধ্যমে তার সংসারের চাকা ঘোরাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অশোক পাল আরো বলেন, এ বছর চারটি মণ্ডপে আমরা কাজ করছি। আমাদের দলে মোট চারজন সদস্য। প্রতি মন্ডপ থেকে হয়ত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দেবে। সবমিলে ১ লক্ষ ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আমরা পাব। চারজনের মধ্যে এ টাকা ভাগ করে দিলে ৩৫ হাজার টাকার বেশি হবে না। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আয়। এছাড়া কাত্যায়নী পূজা থেকে কিছু আয় হয়। আগে স্বরস্বতি, কালী. লক্ষী ঠাকুর বানিয়ে বিক্রি করতাম। এখন নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তা থেকে সামান্যই আয় আসে।

মাগুরা সদর উপজেলার বরই গ্রামের প্রতিমাশিল্পী অপূর্ব পাল বলেন, দেশে ক্রমান্বয়ে হিন্দ সম্প্রদায়ের মানুষের হার কমে যাওয়ায় পূজার পরিমাণও কমে যাচ্ছে। তার উপর প্রতিমা নির্মাণের ব্যয়ও বেড়েছে। এ অবস্থায় পাল সম্প্রদায়ের মানুষেরা প্রতিমা নির্মাণের কাজ ছেড়ে দিচ্ছে। বছরে হাতেগোনা কয়েকটি কাজ করি বাকি সময়টা চাষের কাজ করি।বাপ-দাদার পেশা এটি তাই ছেড়ে দিতেও পারি না। এখন পেশা হিসেবে নয় বরং নেশা তাই প্রতিমা গড়ি। আমি চাইনা আমার সন্তানেরা কেউ এ পেশায় আসুক। আমি চেষ্টা করছি তাদেরকে পড়ালেখা করাতে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.