তারকাদের স্মৃতিময় পূজা

0 52

ডেস্ক:বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসব ও অনুষ্ঠান দেশের শোবিজাঙ্গনকে নিয়ে গেছে উচ্চ মাত্রায়। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়েছে। বছরের বিশেষ দিবসগুলো দেশীয় সংস্কৃতিকে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে।

মুসলমানদের ঈদ, খ্রিস্টানদের বড়দিন, বৌদ্ধদের বৌদ্ধ পূর্ণিমা এবং হিন্দুদের দুর্গাপূজা সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। দিনগুলো ঘিরে শোবিজাঙ্গনে করা হয় বিশেষ আয়োজন।

নাটক, ছবি এবং গানের বাইরেও তারকাদের জীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে এই দিনগুলো। সদ্য শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজা। এই পূজা ঘিরে শোবিজপাড়ায় রয়েছে বিভিন্ন আয়োজন।

এর বাইরে বিনোদন মিডিয়ায় সনাতন ধর্মের অনুসারী তারকাদের জীবনেও রয়েছে পূজার নানামুখী স্মৃতি। কারও কারও জীবনে বিশেষ প্রভাবও ফেলেছে এই দুর্গাপূজা। কয়েকজন তারকার স্মৃতিময় পূজা নিয়ে লিখেছেন- হাসান সাইদুল

ছোটবেলার বেশ কয়েকটি স্মৃতি আমাকে আজও ভাবিয়ে তোলে। দুর্গাপূজা এলে স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভাসে। আমি এমন একটি পরিবারের জন্মেছি, যেখানে অর্থ সংকট ছিল বেশ। সারা বছর নতুন কাপড় কিনে দেয়ার সামর্থ্য ছিল না আমার বাবা-মায়ের।

অনেক কষ্ট করে পূজা উপলক্ষে একটি নতুন জামা পেতাম। তাও কত কষ্ট করে! একবার নতুন জামার কাপড় বাবা খুব কষ্ট করে কিনে দিয়েছিলেন। সে কাপড় নিয়ে দর্জি দোকানে বারবার খোঁজ নিতে গিয়েছি।

মনে পড়ে দর্জির দোকানে ২০ বার গিয়েছিলাম, আমার জামাটি বানানো হয়েছে কিনা জানতে। জীবনের অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে আজ এই অবস্থানে এসেও পুরনো পূজার সেই স্মৃতি ভুলতে পারি না। প্রতি বছরই পূজা এলে গ্রামের বাড়ি যাই।

বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটাই। এবারও যাব। পূজা উপলক্ষে জামাকাপড় কিনব।

আরেকটি বিষয় না বললেই নয়, দুর্গাপূজার অনুষ্ঠান তথা ঢাকের সুর, সঙ্গীত, যাত্রা, নাচ-গান আমার অভিনয় জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব। বলা চলে পূজা আমার অভিনয়ের অনুপ্রেরণার উৎস বটে।

চঞ্চল চৌধুরী, অভিনেতা

পূজা এলে আনন্দের পূর্ব শর্ত হচ্ছে নতুন জামাকাপড় কেনা। নতুন জামা পরে মণ্ডপে গিয়ে দুর্গা মায়ের সঙ্গে দেখা করা। এরপর বান্ধবীদের নিয়ে আড্ডা ও বেড়ানোই ছিল বাকি কাজ। ছোটবেলার পুজো এভাবেই কাটত আমার।

ওই সময় গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে পূজার আনন্দে ভাসতাম। প্রতি বছর এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করতাম। মণ্ডপ আর বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বেড়াতেই দিন কাটত। রাত ছিল নির্ঘুম।

পূজার বিশেষ খাবার আর পোশাক ছিল প্রধান আনন্দ। দিনটি এলে সুন্দর করে মণ্ডপ আর প্রতিমা সাজানো হতো। ছোট বেলায় অবাক হয়ে তা দেখতাম। এখন স্মৃতি হয়ে আছে সেই সোনালি দিনগুলো। এখন সময় বদলে গেছে। ব্যস্ততার কারণে এখন আর গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয় না।

এখন স্বামী-সন্তান নিয়েই সময় কাটে। তবে পূজামণ্ডপে কিন্তু এখনও যাই। তবে পূজা এলে মন চায় শৈশবে ফিরে যাই কিন্তু তা আর সম্ভব হবে না কখনও।

মৌটুসী বিশ্বাস, অভিনেত্রী

পূজার অনেক বিষয় আমার জীবনের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে পূজার সময় ঢাকির ঢাক বাজানো আমার জীবনকে বেশ প্রভাবিত করেছে। ছোটবেলা থেকেই ঢাকের সুরের সঙ্গে আমি পরিচিত। ছোট ছিলাম বলে বাবা-মা একা কোথাও আমাকে যেতে দিতেন না।

ঢাকের সুর শুনতে ছোটবেলায় পালিয়ে চলে যেতাম বিভিন্ন পূজামণ্ডপে। এ জন্য অনেক মারও খেয়েছিলাম বাবার হাতে। আমার এই সঙ্গীত জীবনে পূজার গুরুত্ব তাই অপরিহার্য। শুধু ঢাকের সুরই আমাকে সঙ্গীতের দিকে ঝুঁকতে সহযোগিতা করেছে।

আমার বেশিরভাগ গানেই পূজার নানা সুর মিশে আছে। বিশেষ করে নূপুর, ঢাক আমার গানের সঙ্গীতের উপজীব্য। ‘তোমরা একতারা বাজাইও না’ গানটি শুনলে তা অনুধাবন করা যাবে সহজে। ঢাক আমার সঙ্গীত জীবনের বড় প্রশিক্ষক।

এখনও ঢাক দেখলে আমার বুক কেঁপে ওঠে। প্রতি বছর পূজা এলে তাই সঙ্গীত নিয়ে আমার চিন্তা আরও বেড়ে যায়। কারণ, বলা চলে একমাত্র পূজাই আমার জীবনে বদলে দিয়েছে, সুরের ভুবনে ধাবিত করেছে। সুর-তাল-লয় অনেকটাই আমি পূজার বিভিন্ন সঙ্গীত থেকে শিখেছি।

এটি আমাদের ধর্মীয় উৎসব বটে কিন্তু সেটা থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। সুর-সঙ্গীত-অভিনয় প্রসঙ্গটিও পূজা থেকে জানা যায়। আরেকটি বিষয় না বললেই নয়, বছরে একবার অন্তত পূজা উপলক্ষে নতুন জামাকাপড় পরতে পারতাম। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হতো সব মিলিয়ে আনন্দের একটি উৎসব আমাদের এ পূজা।

কুমার বিশ্বজিৎ, সঙ্গীতশিল্পী

ছোটবেলার পূজার অনেক স্মৃতিই মনে আছে। সে স্মৃতিগুলো আজও আমাকে ভাবায়। দুর্গাপূজা এলে মা বিভিন্ন খাবার রান্না করতেন। একমাত্র পূজা এলেই আমার বন্ধুরা মিলে বাসায় একসঙ্গে খেতাম।

পূজায় অনেক স্মৃতি রয়েছে। তবে বিশেষভাবে একটি স্মৃতির কথা না বললেই নয়। আমি তখন খুব ছোট। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রথম কলকাতায় গিয়েছিলাম দুর্গাপূজা করতে। কলকাতা বড় শহর, পূজায় কত মানুষ মিলিত হয়! বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে আকস্মিকভাবে আমি হারিয়ে যাই। পথ খুঁজে পাচ্ছি না! খুব ছোট ছিলাম, ভাবতে পারছিলাম না কী করব।

এত মানুষের ভিড়ে বাবা-মাকে কীভাবে খুঁজে পাব? কান্না করছিলাম। ভাবতে ভাবতে পথ যেদিকে দেখি সেদিকে হাঁটি। মণ্ডপ দেখলেই বাবা-মাকে খুঁজতে থাকি। এভাবে খুঁজতে খুঁজতেই এক সময় বাবা-মাকে পেয়ে গেলাম।

পরে শুনেছি, তারাও আমাকে হন্যে হয়ে খুঁজেছেন। এরপর থেকে পূজা উপলক্ষে দূরে কোথাও আর যাইনি। ছোটবেলার সেই স্মৃতি এখনও আমার মনে পড়ে। মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয় এই ভেবে যে, শৈশবের সেই দিনগুলো কই? কেন ফিরে যেতে পারি না শৈশবে? এখন আর তেমন যাওয়া হয় না মণ্ডপে। বর্তমানে যেভাবে পূজা পালন করা হয় সেটা আমাকে খুব একটা টানে না। তবে দুর্গাপূজার প্রভাব আমার সঙ্গীত জীবনে পড়েছিল। পূজার সেই ঢাক-ঢোলের সুর আমার ভেতরে শিল্পী সত্তা তৈরিতে কিছুটা সহযোগিতা করেছে।

বাপ্পা মজুমদার, সঙ্গীতশিল্পী

আগে পরিবারের সঙ্গে পূজা উদযাপন করতাম। কখনও নানাবাড়ি রাজশাহী, কখনও ভোলায় পূজা কাটত। রাজশাহীতে হলে অনেক মজা হতো। সারা দিন ঘুরে বেড়াতাম। এলাকার প্রায় সব মণ্ডপে যেতাম।

সুন্দর প্রতিমা নির্বাচন করতাম। আরতি দিতাম। কেউ কিছু বলত না। অনেক খাওয়া-দাওয়া হতো। শৈশব-কৈশোরের সেসব দিনগুলো খুব মিস করি। এখন আর সেই মজাটা নেই। কোথাও গেলেই ক্রাউড হয়ে যায়। রাজশাহী কিংবা ভোলাতে যেতে চাইলে আগেই খবর চাউর হয়ে যায়। বিড়ম্বনার মুখোমুখি হই। দেবী দর্শন বাদ দিয়ে সবাই আমাকেই দর্শনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সেলফি তুলতে চায়।

মণ্ডপে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তাই নিজেকে আনন্দিত করার মতো ব্যক্তিগত সেই সুযোগটা আর পাই না। পূজা এলে অতীতের কথা খুব মনে পড়ে। পূজার একটি স্মৃতি আমার এখনও মনে আছে। অনেক আগে একবার পূজার সময় নৌকায় উঠেছিলাম বেড়ানোর জন্য।

কিন্তু নৌকায় উঠে খুব বিপদ হয়েছিল। অতিরিক্ত মানুষের কারণে নৌকা প্রায় ডুবুডুবু। পাড়ে ভিড়ার আগ পর্যন্ত আতঙ্কে ছিলাম। বেড়ানোর চেয়ে ভয়টাই বেশি কাজ করেছিল সেদিন। প্রতি বছর পূজা এলে সে ঘটনার কথা মনে পড়লে এখনও ভয় পাই।

তা ছাড়া পূজা আমার অভিনয় জীবনে বিশেষ প্রভাব রেখেছে। আমি বিশ্বাস করি, মা দুর্গার আশীর্বাদ ছিল বলেই আমি আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছি। এবার পূজা নিয়ে তেমন কোনো বাড়তি আয়োজন নেই। কাজের ফাঁকে সময় করে প্রতিমা দেখতে যাব।

বাবা-মা ও পরিবারের অন্যরা সঙ্গে থাকবে। আমি অসাম্প্রদায়িক সুন্দর ও শান্তির বাংলাদেশ চাই। সেই সঙ্গে চাইব আমাদের চলচ্চিত্রে সুদিনের যে হাওয়াটা লেগেছে সেটা যেন আরও বেশি সাফল্যের হয়।

বিদ্যা সিনহা মিম, অভিনেত্রী

দুর্গাপূজার অনেক স্মৃতি মনে পড়ে। ছোটবেলায় খুব কিউট ছিলাম। তাই সবাই আমাকে পূজা এলে দুর্গামায়ের সঙ্গে বসিয়ে রাখত। মুসলমানদের ঈদের মতোই পূজা এলে নতুন জামাকাপড় পরে বাইরে যাওয়ার অভ্যাস ছিল।

কার জামা দামি, কার জামা সুন্দর এ নিয়ে তর্ক হতো বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে। পূজা এলে নাচ-গান-যাত্রা হতো। এগুলো দেখে প্রথম প্রথম আমারও মনে হতো আমিও যাত্রা করব। কিন্তু সাহস করে বলতে পারতাম না। আমার অভিনয় জীবনে পূজার প্রভাব আছে।

পূজা দেখা থেকে অভিনয় ভালো লাগত। সেই ভালো লাগা থেকেই নাচ-গান-অভিনয় করার ইচ্ছা জেগেছিল। প্রতি বছর দুর্গাপূজা এলেই নস্টালজিক বিষয়গুলো চোখের সামনে ভাসে। মনে হয় অতীতে ফিরে যাই। কিন্তু তা তো আর সম্ভব নয়।

উর্মিলা শ্রাবন্তী কর, অভিনেত্রী

দুর্গাপূজা আমার জীবনে বেশ প্রভাব রেখেছে। পূজার অনেক স্মৃতি রয়েছে। খুব ছোটবেলা, যখন আমার বয়স ছয় বছর, তখনকার একটি ঘটনা এখনও ভুলতে পারি না। বাবা আমাকে নতুন জামা কিনে দিয়েছেন পূজার আগেই।

উৎসব শুরু হতে আরও কয়েকদিন বাকি। আমি নতুন জামা তার আগেই পরব। কিন্তু মা পরতে দেবেন না। বললেন, উৎসবেই পরতে হবে। আমিও নাছোড়বান্দা। দিতেই হবে আমাকে। আমি কান্না শুরু করলে বাবা আমাকে কোলে তুলে নেন।

কিন্তু কান্নার কারণে বাবার হাত ফসকে আমি নিচে পড়ে যাই। নিচে বালতি ছিল। সেটির লোহার হাতলের সঙ্গে লেগে আমার কপাল কেটে যায়। সেই দাগ এখনও রয়েছে আমার কপালে। দুর্গাপূজা আমার চলার পথে, ব্যক্তি জীবন কিংবা আমার সঙ্গীত জীবন সবকিছুতেই প্রভাব বিস্তার করে আছে।

একটা সময় ছিল সবাই দল বেঁধে বিভিন্ন মণ্ডপে যেতাম। ঢাকের শব্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আনন্দ করতাম! এখন তো আর আগের মতো পূজা হয় না। কে কত বড় মণ্ডপ বানাবে, কত মানুষের সমাগম হবে, এই নিয়ে ব্যস্ত সবাই। সবটাই লোক দেখানো মনে হয়। ভালোবেসে কিংবা ধর্মীয় গাম্ভীর্যতায় পূজা এখন খুব কমই পালিত হয়। এসব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

ধ্রুব গুহ, সঙ্গীতশিল্পী

বছরঘুরে পূজা এলেই আনন্দের পসরা বসত আমাদের এলাকায়। নতুন জামা কেনার পাশাপাশি পছন্দের খাবার কিনতে দলবেঁধে বন্ধুরা মিলে একত্রিত হতাম। আমি এইচএসসি পড়েছি টাঙ্গাইলের ভারতেশ্বরী হোমসে।

তখন তো কলেজ থেকে আমাদের বের হতে দিত না কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে শুধু পূজার সময়ই আমাদের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দিত। সেই ছুটিতে আমরা জম্পেশ আড্ডার পাশাপাশি নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ঘুরতাম।

বাসা থেকে পাঠানো নানা ধরনের সুন্দর ড্রেস পরে সবাই একসঙ্গে ঘুরতে বের হতাম। ভারতেশ্বরী হোমসে পূজার সময় মালপোয়া এবং সবজি ছিল আমাদের কাছে সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবার। তবে আমার বাবার বাড়িতে ছোটবেলায় বেশ কিছু পরিবার মিলে আমরা একসঙ্গে পূজা উদযাপন করতাম।

আমাদের অনুষ্ঠানগুলোতে মুসলমানরাও এসে অংশ নিত, পাহারা দিত। সেই সময়গুলো খুব ভালো ছিল। সাম্প্রদায়িক কোনো ব্যাপার ছিল না। তবে পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিনে পাঁচ ধরনের পোশাক পরার বিষয়টি ছিল বেশি আনন্দের। পূজার সময়ে সকালে সবাই মিলে একসঙ্গে ফুল তুলতে যাওয়ার বিষয়টা সত্যিই মিস করি। অনেক আনন্দ লাগত সেই সময়ের পূজায়।

মৌসুমী নাগ, অভিনেত্রী

ছোটবেলায় পূজার অনেক স্মৃতিই মনে পড়ে। দুর্গাপূজা এলে বারবার মন চায় যেন শৈশবে ফিরে যাই। আমি হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করেছি। টাঙ্গাইলের মির্জাগঞ্জে কেটেছে আমার অনেক সময়। দুর্গাপূজা এলে হোস্টেল থেকে আমরা কয়েকজন মিলে বিভিন্ন মণ্ডপে যেতাম।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতাম। আমার বাবা-মা যাত্রা করতেন। সে থেকে যাত্রার প্রতি আমার দুর্বলতা ছিল। পূজা এলে যাত্রায় অংশগ্রহণ করতাম। বলা যায়, একমাত্র পূজার প্রভাব আমার অভিয়ন জীবনে পড়েছে।

আমার কাছে দুর্গাপূজা শুধু উৎসবই নয় বরং একটি প্রশিক্ষণাগার। যেখানে আমি মানুষের সঙ্গে মিশেছি, পরিচিত হয়েছি। নাচ-গান-অভিনয় সব কিছুই শিখেছি এবং সেটা আমার অভিনয় জীবনে কাজে লাগিয়েছি।

আনন্দের বিষয় হচ্ছে, মুসলমানদের ঈদের মতোই আমাদের উৎসব আসলে নতুন জামাকাপড় কেনার ভূত চাপত মনে। বাবা-মায়ের কাছে আবদার করতাম নতুন কাপড় কিনে দিতে। সেই কাপড় পরে পূজায় যেতাম। বন্ধু-বান্ধবী মিলে আমরা পূজায় নাড়ু পিঠা খেতাম। কপালে সিঁদুর দিতাম। ছোটবেলার এসব স্মৃতি এখনও মনে পড়ে।

অরুণা বিশ্বাস,অভিনেত্রী

প্রতি বছর দুর্গাপূজা এলেই ছোটবেলার সে গল্পটি মনে পড়ে। আমার বয়স তখন ৫ কি ৬ বছর। পূজার দিন আমাকে কুমারি সাজিয়ে দুর্গা মায়ের পাশে বসিয়ে দিতেন ঠাকুর। আর আমাকে সবাই প্রণাম করত। কুমারী পূজার জন্য আমাকে বিশেষভাবে সাজানো হতো।

আমার গর্বে বুক ভেসে যেত। কারণ আমাকে কুমারী সাজানো হতো আর সবাই আমাকে দেখে সম্মান প্রদর্শন করতেন। দুর্গাপূজা এলে আরেকটি বিষয় খুব মনে পড়ে। বছরের অন্যান্য দিনে তেমন নতুন কাপড় কেনা হয় না।

পূজা এলে বাবা-মায়ের কাছে আবদার করতাম নতুন কাপড় কিনে দিতে। নতুন কাপড় পরে আবার বাবা-মায়ের কাছে টাকাও চাইতাম। এখন বড় হয়েছি সে স্মৃতিগুলো এখনও মনে পড়ে।

অপর্ণা ঘোষ, অভিনেত্রী

প্রতিবার একই রকম উৎসব আয়োজন থাকলেও এবারের পূজা আমার জন্য বিশেষ একটি বিষয়ে কিছু নিয়ে এসেছে। কারণ এই পূজায় কলকাতায় আমার অভিনীত ছবি ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’র টিজার মুক্তি পাচ্ছে কলকাতারই একটি পূজামণ্ডপে।

সে জন্য পূজার সময়টায় আমি কলকাতায় থাকব। আমার এ ছবির প্রচারণার একটি অংশ হিসেবে এই পূজামণ্ডপে ছবির টিজার মুক্তি পাবে আগামীকাল। তবে অন্য বছরের পূজাগুলোতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই মণ্ডপে যাওয়া হতো। আমার বেশিরভাগ পূজার স্মৃতি মামা বাড়িকেন্দ্রিক।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আমার মামার বাড়িতে পূজা এলেই ছুটে যেতাম। আমরা দুই বোন একই রকমের জামা পরতাম। তবে স্কুলে পড়াকালীন পূজার অনুষ্ঠানস্থল থেকে কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমার খুব খারাপ লাগছিল।

আমি কান্না করছিলাম। কী করব ওই সময় সেটাও মাথায় ছিল না। এ অবস্থায় হঠাৎ করেই ববা সামনে এসে দাঁড়ান। সেই স্মৃতিটা মনে পড়ে মাঝে মধ্যেই। তবে এখন কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে নিতে পারি না। ছোটবেলার দিনগুলোই ভালো ছিল।

আবার যদি ফিরে যেতে পারতাম সেই দিনগুলোতে। তবে এখন মিডিয়ায় কাজ করার সুবাদে ভক্ত শুভাকাক্সক্ষীরা পূজার সময়ে শুভেচ্ছা জানান, এটা খুব উপভোগ করি।

জ্যোতিকা জ্যোতি, অভিনেত্রী

পূজা মানেই নতুন কাপড় পরা। বাবা-মা আমাকে নতুন জামা কিনেই দিতেন। খাওয়া-দাওয়াতেও ছিল নতুনত্ব। বছরের এ দিনটি সবাই অন্যরকমভাবে কাটাতাম। বন্ধুরা মিলে ঘুরতাম। আমি খুব ডানপিটে ছিলাম। তাই বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টমি করতাম।

পূজা এলে ছোটবেলার একটি ঘটনা খুব মনে পড়ে। ভয়ংকর সে ঘটনা। পূজা এলে আমি পটকা ফাটাতাম। এ জন্য অনেকেই আমাকে ভয় পেত। একবার পটকা ফোটাতে গিয়ে বিরক্ত হয়েছিলাম। পটকায় আগুন লেগেছিল কিন্তু ফাটছে না।

পরে দেখলাম যে পটকায় পানি লেগেছিল। একটু পর পটকাটি ফাটল আর আমি তো লাফ দিয়ে দু’তলায় ওঠে আবার পড়ে গেলাম। যার ফলে আমার পা ফেটে রক্ত ঝরেছিল। এখন পূজা এলে সে স্মৃতি মনে পড়ে। মন চায় এখনও পটকা ফাটাই, হৈ-হুল্লোড় করি। কিন্তু বয়স আর ব্যস্ততার কারণে তা আর হয়ে ওঠে না।

বাপ্পি চৌধুরী, চিত্রনায়ক

Leave A Reply

Your email address will not be published.