জীবননগর মহিলা কলেজের অধ্যাপিকার বাড়ির গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু, অভিযোগ নির্যাতনের

অধ্যাপিকা ইতির দাবি তিনি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি টগরের শ্যালিকা

0 175

জীবননগর সংবাদদাতা: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের দর্শনের শিক্ষিকা পাপিয়া শারমিন ইতির নির্যাতনে তার গৃহপরিচারিকার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গৃহপরিচালিকাকে মিশুক থেকে জোরপূর্বক ফেলে দিয়ে এ নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত গৃহপরিচারিকা লিলি খাতুন উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া রাজধানীপাড়ার আনসার আলীর স্ত্রী। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার সকালে নির্যাতন ও গতকাল রবিবার বিকেলে মৃত্যুর এ ঘটনা ঘটে। কলেজ প্রভাষিকা ইতি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগরের শ্যালিকা বলে জানা গেছে।

নিহত গৃহপরিচারিকার ছেলে শাহেদ হোসেন সিডি নিউজকে বলেন, তার মা লিলি খাতুন দুই সপ্তাহ পূর্বে মাসিক ২ হাজার টাকা চুক্তিতে জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের শিক্ষিকা পাপিয়া শারমিন ইতি জীবননগর উপজেলা শহরের একটি ভাড়ার বাসায় গৃহপরিচালিকার কাজে যোগ দেন। যোগদানের পর হতে ইতি লিলি খাতুনের কাজে নাখোশ ছিলেন। ফলে তিনি তাকে নানাভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত শুক্রবার সকালে তিনি আমাদের বাড়ীতে আসে এবং বুধবারে ইতির বাসায় ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রফেসর ইতি বলেন শনিবার সকালের মধ্যে তার বাসায় যেতে। মা তাতে রাজি না হওয়ায় ইতি শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে আমাদের বাড়ীতে আসেন। আমার মা তাকে দেখে দৌড়ে প্রতিবেশীদের বাড়ীতে ওঠেন। কিন্তু ইতি আমার মাকে জোর করে টেনে হেঁচড়ে একটি আলমসাধু গাড়ীতে তুলে জীবননগরে নিয়ে যাওয়ার সময় দেহাটি-সন্তোষপুর সড়কের কনটেক মিলের সামনে রাস্তার ওপর ফেলে দিলে মারাত্মক ভাবে আহত হন।

এ সময় অন্য একটি আলমসাধুতে তুলে দিয়ে ইতি জীবননগরে চলে যায়। পরে তাকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার বিকালে মায়ের অবস্থা খারাপ হলে ডাক্তার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার আমার মাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন।

ঘটনার অনেক পরে অধ্যাপিকা ইতি এলাকায় জানান, তিনি গাড়ী থেকে লাফ দিয়েছিলেন। কিন্তু নিহত লিলি খাতুন গাড়ী থেকে লাফ দিতে পারে তা বিশ্বাস হয় না বলে দাবি করেছেন ছেলে শাহেদ।

নিহত গৃহবধূর পুত্রবধূ বৃষ্টি খাতুনের অভিযোগ, তার শ্বাশুড়ীকে অধ্যাপিকা ইতি জোরপুর্বক বাড়ী থেকে উঠিয়ে গাড়ীতে করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আন্দুলবাড়ীয়া মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় তার বাবার বাড়ীর সামনে শ্বাশুড়ীকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এ সময় নিহতের শরীরের শাড়ী-ব্লাউজ ছেড়া ছিলো এবং কাপড়-চোপড়ে রক্ত মাখা ছিলো। সেই সাথে বমিও করছিলো বলে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে অভিযোগ করেন বৃষ্টি।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত অধ্যাপিকা পাপিয়া সারমিন ইতির সাথে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি নিহত লিলিকে তার সাথে আলমসাধুতে করে আনার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তাকে গাড়ী থেকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, আমি চুয়াডাঙ্গা -২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগরের শ্যালিকা। তাই একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেন।

তবে, কেনো এবং কারা ষড়যন্ত্র করছেন তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় এমপির আত্মীয়ের বাড়ির গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক এ মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যাপিকা ইতি নিজের দোষ ঢাকতে এ ঘটনায় এমপি টগরকে জড়াচ্ছেন কি না বা অন্যের উপর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনছেন কিনা তা প্রশাসনকে ক্ষতিয়ে দেখার আহবান জানান এলাকাবাসীরা। বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে আবার আংশিক স্বীকার করায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই তদন্ত করে আসল ঘটনা বের করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.