বড় লিডের সামনে বাংলাদেশ

0 15

 

ডেস্ক: সিলেট টেস্টের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। জয় পেতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩২১ রান। তাইজুল-মিরাজে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংস থেমে গেছে ১৮১ রানে।

যদিও অতীতে কখনো ২৫০ রান চেজ করেও জেতেনি টাইগাররা। অর্থাৎ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে জিততে হবে মাহমুউল্লাহ রিয়াদের দলকে।

সকালে ১৪০ রানে এগিয়ে থেকে সাবধানি শুরু করেন সফরকারী দুই ওপেনার ব্রায়ান চারি ও অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। এই সাবধানি শুরুটা টেকে মাত্র শুরুর ১০ ওভার। উদ্বোধনী জুটিতে এরপর আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মাঝে বেশ কিছু সুযোগ মিললেও উইকেট আসেনি। ১০ ওভার পর মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন ওপেনার ব্রায়ান চারি। বোল্ড হয়ে ফেরেন ৪ রান করে।

দলীয় ১৯ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর প্রাথমিকভাবে সেই ধাক্কা কাটে জিম্বাবুয়ের। ব্রেন্ডন টেলর আসার পর থেকে মেরে খেলতে থাকেন। যার ফলটা পান হাতে নাতে। দলীয় ৪৭ রানে তাইজুলকে উঠিয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন ইমরুল কায়েসের হাতে। ২৫ বলে ৪ চারে ২৪ রান করে ফেরেন টেলর।

প্রথম সেশনে দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পর বড় লিড পেতে জিম্বাবুয়েকে সামাল দিচ্ছিলেন অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও শন উইলিয়ামস। প্রথম ইনিংসের মতো ভয়ানক হয়ে ওঠার চেষ্টায় ছিলেন দুজন। এই জুটিতে আসে ৫৪ রান। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই জুটিটা ভেঙে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

বিরতির পর প্রতিরোধের দেয়াল লম্বা করতে থাকেন শন উইলিয়ামসকে সঙ্গে নিয়ে। প্রথম ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি পেয়েছিলেন অনায়াসে। এই ইনিংসে ২ রানের জন্য আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে বিরতির পর পর। তাকে হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। রিভার্স সুইপ করতে গেলে লেগ বিফোরের ফাঁড়ে পড়ে যান মাসাকাদজা। আম্পায়ার আঙুল তুললে ৪৮ রানে বিদায় নিতে হয় তাকে।

অধিনায়কের বিদায়ের পর শন উইলিয়ামসের বিদায় নিশ্চিত করেন তাইজুল। একইরকম রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন ২০ রানে। নতুন নামা পিজে মুরকে সুস্থির হওয়ারই সুযোগ দেননি এই স্পিনার।শর্ট লেগে তার ক্যাচ তুলে নেন লিটন দাস। অবশ্য চোট নিয়ে এর পর মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। পরিচর্যা নিয়ে আবার ফিরেছেন মাঠে।

পাল্টে যাওয়া পরিস্থিতিতে তাইজুলের ঘূর্ণি আগ্রাসনে ব্যাটিং বিপর্যয় নিশ্চিত হয় সিকান্দার রাজা বিদায় নিলে। ২৫ রানে ব্যাট করতে থাকা মারকুটে এই ব্যাটসম্যানকে ঘূর্ণি বলে বোল্ড করেন তাইজুল।

শেষ দিকে রেগিস চাকাভা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা মিলে পুঁজি বাড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন। দলীয় ১৬৫ রানে মাসাকাদজাকে ফেরান মিরাজ। এরপর চাকাভাকে নাজমুল ব্যক্তিগত ২০ রানে তালুবন্দী করালে দ্রুত গতিতে চাতারাকে ফিরিয়ে লেজ ছেঁটে দেন তাইজুল। তার আগে মাভুতাকেও ফেরান নাজমুল।

এই ইনিংসেও ৫টি উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। গত ইনিংসে নেন ৬টি। ২৮.৪ ওভারে দিয়েছেন ৬২ রান। তিনটি নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও দুটি নাজমুল ইসলাম।

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৫ রান তাড়া করে ৪ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। যা টাইগারদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এর আগে ২০১৪ সালে ১০১ রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। গত বছর কলম্বোতে শ্রীলংকার বিপক্ষে শততম টেস্টে ১৯০ রানের লক্ষ্য টাইগাররা ৬ উইকেট হারিয়ে টপকে যায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ২৮২

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫১ ওভারে ১৪৩ (লিটন ৯, ইমরুল ৫, মুমিনুল ১১, শান্ত ৫, মাহমুদউল্লাহ ০, মুশফিকুর ৩১, আরিফুল ৪১*, মিরাজ ২১, তাইজুল ৮, অপু ৪, আবু জায়েদ ০; জার্ভিস ১১-২-২৮-২, চাটারা ১০-৪-১৯-৩, মাভুটা ৬-০-২৭-০, রাজা ১২-২-৩৫-৩, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ৮-২-২১-০, উইলিয়ামস ৪-০-৫-১)

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ৬৫.৪ ওভারে ১৮১/১০(হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৪৮, চারি ৪, ব্রেন্ডন টেলর ২৪, শন উইলিয়ামস ২০, সিকান্দার রাজা ২৫, পিটার মুর ০, চাকাভা ২০, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ১৭, মাভুতা ৬, জারভিস ১*, চাতারা ৮; তাইজুল ২৮.৪-৮-৬২-৫, অপু ৬-১-২৭-২, মিরাজ ১৯-৭-৪৮-৩)

Leave A Reply

Your email address will not be published.