জীবননগর আন্দুলবাড়ীয়ার গৃহপরিচারিকা হত্যাকান্ড বিনা ময়না তদন্তে লাশ দাফন

প্রভাব-প্রতিপত্তির কাছে হার মানল: সচেতন মহলের দাবী প্রশাসনের কি কোন দায়িত্বই নেই?

0 27

 

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা আন্দুলবাড়ীয়ার গৃহপরিচারিকা লিলি খাতুনের(৫০) ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে চলন্ত গাড়ী থেকে ফেলে মারাত্মক ভাবে আহত করার এক পর্যায়ে এক দিনের ব্যবধানে মৃত্যুও ঘটনার ঘটলেও তা নিছক দূর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। গৃহকর্তার প্রভাব প্রতিপত্তির কাছে হার মেনে হত্যাকান্ডের শিকার গৃহপরিচারিকার লাশ বিনা ময়না তদন্তে লাশ দাফ করা হয়েছে। ঘটনাটি গত শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে জীবননগর সন্তোষপুর-দেহাটি সড়কের কনটেক মিেেলর সামনে রাস্তায় সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও গৃহকত্রি প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস দেখায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবী তাই বলে কি প্রশাসনেরও কোন দায়িত্ব নেই। অন্যদিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে দাবী করা হালেও ঘটনার ব্যাপারে থানায় কোন অভিযাগ করা হয়নি এবং অপমৃত্যু মামলাও হয়নি।
এলাকাবাসী সুত্র জানান,জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া রাজধানীপাড়ার আনসার আলীর স্ত্রী লিলি খাতুন গত দু’সপ্তাহ আগে জীবননগর সরকারী আদর্শ সরকারী কলেজের প্রভাষক পাপিয়া সারমিন ইতির জীবননগর শহরের ভাড়া বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসাবে কাজে লাগে। প্রভাষক ইতি ও গৃহপরিচারিকার মধ্যে বাসা বাড়ীর কাজ নিয়ে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হত। যে কারণে গৃহপরিচারিকার ওপর নানা ভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের পাশাপাশি ঠিকমত খেতে না দেয়ারও অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে গত শুক্রবার লিলি খাতুন নিজ বাড়ীতে চলে যায়। প্রভাষক ইতি তাকে শনিবার সকালের মধ্যেই তার বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য তাগিদ দেন। কিন্তু লিলি খাতুন জানায়,শনিবার নয় তিনি বুধবার যাবে। এতে প্রভাষক ইতি ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে লিলি খাতুনের বাড়ীতে গিয়ে হাজির হন। লিলি খাতুন প্রভাষক ইতিকে দেখে দৌড়ে প্রতিবেশীদের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু প্রভাষক ইতি তাকে জোর করে আলমসাধু গাড়ী যোগে উঠিয়ে নিয়ে জীবননগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।


নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবী প্রভাষক ইতি ও লিলি খাতুন আলমসাধু যোগে যাওয়ার সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে প্রভাষক ইতি গৃহপরিচারিকাকে ধাক্কা দিলে গাড়ী থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে পড়েন। এ সময় আহত গৃহপরিচারিকাকে রক্তাক্ত অবস্থায় অন্য একটি আলমসাধুতে তুলে দিয়ে তিনি জীবননগরে চলে যান। এ অবস্থায় আহত লিলিকে আলমসাধু চালক আন্দুলবাড়ীয়া মিস্ত্রিপাড়ার রাস্তায় রেখে চলে যান। পরবর্তীতে তাকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ লিলি খাতুন সারাদিন হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকলেও প্রভাষক ইতি রাত দশটার দিকে হাসপাতালে তাকে দেখতে যান এবং সেখানে নিজের হামবড়া ভাব দেখিয়ে চলে যান। এ পর্যায়ে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রভাষক ইতি অপপ্রচার চালাতে থাকে যে,লিলি খাতুন আলমসাধুর পিছন থেকে রাস্তায় লাফ দিয়ে পড়ে আহত হয়েছে। আবার কখনও বলতে থাকে এনজিও ঋণে জর্জরিত লিলি চিন্তা করতে করতে পড়ে গিয়েছে।
এদিকে নিহতের সহজ-সরল ছেলে শাহেদ আলীর সরল উক্তি তার মাকে গাড়ী থেকে ফেলে দেয়ার ফলে মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে ঘটনার একদিন পর মারা যায়। আমার মা গাড়ী থেকে লাফ দিবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না। আমার মা আমাকে বলেছে তাকে গাড়ী থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। ঘটনার এক পর্যায়ে রোববার বিকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার মাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
এদিকে এ ঘটনায় একটি পক্ষ প্রভাবশালী প্রভাষক ইতিকে রক্ষা করতে নিহতের পরিবারকে ঘটনার ব্যাপারে মামলা-মোকদ্দমায় ঝাঁমেলা আছে এবং পুলিশ প্রশাসন সম্পর্কে খারাপ ধারণা সৃষ্টি করে মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনাটি সড়ক দূর্ঘটনা বলে পরিবারের সদস্যদের দ্বারা প্রচার করা হয়। এক পর্যায়ে বিনা ময়না তদন্তে রোববার রাতেই লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়।
তবে সচেতন মহলের দাবী ঘটনাটি যদি সত্যিই দুর্ঘটনায় কিংবা নিহত গাড়ী থেকে লাফ দিয়ে পড়ে যাওয়ার কারণে মৃত্যু হয় তাহলে তো মামলা না হলেও নিদেন পক্ষে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হওয়ার কথা ছিল এবং সুরতহাল রিপোর্ট শেষেই কেবল দাফন সম্ভব ছিল। কিন্তু ঘটনার ব্যাপারে পুলিশকে কিছুই জানানো হয়নি বলে থানা পুলিশের দাবী। আর আর অপমৃত্যু মামলা ছাড়াই বা কি ভাবে দাফন হল? এলাকাবাসীর দাবী লাশের সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়না তদন্ত করা হলে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব ছিল।
নিহতের ঘটনায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা বলেন,প্রভাষক ইতি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি আলী আজগার টগরের শ্যালিকা হওয়ায় এবং নিহতের পরিবার অসহায় হয়ে পড়ায় তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে পরিবার রাজি করানো হয়েছে। তবে লাশ ময়না তদন্ত করা হলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে। কিন্তু প্রভাব প্রতিপত্তি আর মোটার অংকের টাকার কাছে হত্যার ঘটনা সড়ক দূর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া হল।
এদিকে প্রভাষক পাপিয়া সারমিন ইতি নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন,নিহত লিলি খাতুন আমার সম্পর্কের ফুফু। তাকে গাড়ী থেকে ফেলে দিয়েছি কথাটি মোটেও সঠিক নয়। লিলি খাতুন আসলে বিভিন্ন এনজিও ঋণে জর্জরিত হওয়ার কারণে চিন্তা করতে করতে ঘটনার সময় গাড়ী থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত হয় এবং পরের দিন বিকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মারা যায়।
এ ব্যাপারে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া বলেন,আমার মনে হয় দুই মহিলা গাড়ীর ওপর ঝগড়া করতে করতে ঠেলাঠেলির এক পর্যায়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। ঘটনার ব্যাপারে থানা পুলিশকে কিছু জানানো হয়নি। কেউ কিছু না জানালে তো আর কিছু করার থাকে না। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুু মামলাও হয়নি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.