সংলাপের নামে নাটক চলবে না

0 26

 

ডেস্ক: বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি তারপর সবকিছু। তিনি বলেন, আগামীকাল ছোট একটা সংলাপের ডাক দেয়া হয়েছে। আমরা সংলাপে বিশ্বাসী কিন্তু এটা নিয়ে কোনো নাটক করা চলবে না।

সাত দফা দাবি আদায়ে মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবশে তিনি এসব কথা বলেন। সারা দেশে এখন পর্যন্ত চার হাজার ৩শ’ ৭১টি মামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সাত দফা আদায় করতে চাই। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পদত্যাগ চাই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার যদি আগামীকাল সংলাপে আমাদের দাবি না মেনে নেয় তাহলে ৮ তারিখে রাজশাহীর উদ্দেশে রোডমার্চ হবে। ৯ তারিখে রাজশাহীর জনসভা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ জনসভয় করা হবে।

নির্বাচন কমিশন যদি তফসিল ঘোষণা করে তাহলে আমরা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করব বলেও ঘোষণা করেন তিনি।

সরকারকে উদ্দেশ করে জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, এ লড়াই মুক্তির লড়াই, এ লড়াই গণতন্ত্রের লড়াই। আমরা দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবো না। আর কোনো নেতাকে গ্রেফতার করবেন না। সাত দফা মানতে হবে। জনতা জেগেছে, ওদের থামাতে পারবেন না। দাবি মেনে নেন, না হলে খবর আছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, পাঁচ বছর ধরে একটা বিনা ভোটের সরকার রাজত্ব করেছে। তারা ব্যাংক চুরি করেছে, সোনা চুরি করেছে। আজকে মানুষের মধ্যে ভোটের জন্য যে আহাজারি, আমরা ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে বলেছি ১৪ সালের ভাওতাবজি আর হবে না।

তিনি বলেন, আমাদের একমাত্র দাবি শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। এই কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়।

তিনি আরো বলেন, আমরা ভালো মানুষ। যারা আমাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে অাগুন সন্ত্রাসী বলে, তারাই আগুন সন্ত্রাসী।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার বেগম জিয়াকে জেলে রেখে মেরে ফেলতে চায়। জীবন যাবে, রক্ত দিবো, লড়াই করব। কিন্তু বেগম জিয়াকে জেলের ভেতরে মরতে দিবো না।

সরকার দাবি না মানলে লড়াই করে দাবি মানাতে হবে। মৎস্যভবন থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত রাজপথ দখল করে দাবি আদায় করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা সংলাপে গিয়েছি কিন্তু সেই সংলাপে আমাদের কোনো কাজ হয়নি। আগামীকালও সংলাপে যাব। আবারো যদি আমাদের ধোকা দেয় হয় তাহলে আন্দোলনের কোনো বিকল্প থাকবে না।

গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, উন্নয়নের জোয়ারে সরকারের চোখে ছানি পরেছে, তারা এখন কানে শোনে না, তাদের উচ্চ রক্তপাত তৈরি হয়েছে।

আজকে রাষ্ট্রের চিকিৎসা প্রয়োজন, মেরামত প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আজকে রাস্তায় রাস্তায় বাধা থাকা সত্বেও যেভাবে জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সেভাবেই সকল বাধাকে উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে, তাহলেই খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, সংঘাত বাদ দিয়ে আমরা সংলাপের দিকে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা সেখান থেকে কিছুই পাইনি। আগামীকালও সংলাপ আছে সেখান থেকে যদি আমরা কিছু না পাই তাহলে আমাদের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। তাই সেভাবেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা খালেদা জিয়ার প্যারলে মুক্তির কথা বলেন? ময়নুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের আমলে আপনি প্যারলে মুক্তি নিয়ে আমেরিকায় গিয়ে সেই সরকারের বৈধতা দেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তখন আমাদের নেতা খালেদা জিয়া প্যারলে মুক্তি নেননি। আজও নেবে ন না। আন্দোলন সংগ্রাম করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই যা কিছু আছে তা আজ সরকার পূর্ণ করেছে। হয়তো এই মঞ্চে সবাইকে গণগ্রেফতার করা হবে কিন্তু কোনো লাভ নেই। এরশাদের আমলেও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেদিন আমাদের জেলের তালা ভেঙে মুক্ত করা হয়েছিল। আবারো সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ যে ৭ দফা দাবি তোলা হয়েছে এটা কারো একার দাবি নয়, এটা জনগণের দাবি। আমরা আন্দোলন করবো এবং সরকারকে জায়গা মত পৌঁছে দিব।

বিএনপি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযুদ্ধের দল উল্লেখ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়া আজ কারাগারে, তার মানে গণতন্ত্রও আজ কারাগারে।

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে অনুকম্পা করার মতো এমন কোনো মায়ের সন্তান নাই। তাকে প্যারল মুক্তি দিতে হবে? মনে রাখবেন বেগম খালেদা জিয়াকে প্যারলে মুক্তি নয় আপনাদেরকেই প্যারলে কবরে যেতে হবে।

সাত দফা আদায় ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন নয়। আমরা দাবি আদায় করবো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা মঈন খান বলেন, বাংলা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংস করা হচ্ছে। ’৭১ সালে দেশের মানুষ তাদের বুকের রক্ত দিয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য। আজ যদি সেই গণতন্ত্র না থাকে তাহলে বাংলাদেশেরও দরকার থাকবে না। ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে ৭ দফা আদায় করে দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনবো।

বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দেলিভ রহমান পার্থ বলেন, আজকে মঞ্চে দেখছি কামাল হোসেন আছেন, কাদের সিদ্দিকী আছেন, মাহমুদুর রহমান মান্না আছেন। মঞ্চ আজ পূর্ণ। সরকারকে বলতে চাই- আজকে মঞ্চের দিকে তাকিয়ে দেখুন মুক্ত খালেদা জিয়ার চেয়ে বন্দী খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা কত বেশি!

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে খালেদ জিয়াকেই প্রধানমন্ত্রী বানাবো।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান বলেন, জনসভায় নেতাকর্মীদের প্রবেশে আজকে রাস্তায় রাস্তায় বাধা দিয়েছে। শেখ হাসিনা মনে করেছে জনসভায় লোক হবে না। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে এ জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের মুক্তিসহ ৭ দফা মেনে নিতে হবে।

জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব বলেন, সরকারের কোনো টালবাহানা চলবে না। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে হবে। ৭ দফা দাবি মেনে নিতে হবে। অন্যথায় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন চলবে এবং দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এই জনসভার প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.