শীত মানেই চুয়াডাঙ্গাবাসীর আতঙ্ক

0 23

 

চুযাডাঙ্গা: শীতকালের কথা শুনলেই চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষ এক রকম আঁতকে ওঠে। বিশেষ করে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে নেমে আসে শীত আতঙ্ক।

এবার অন্যবারের তুলনায় সারা দেশে শীত বেশি পড়বে বলে আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন। সেই আশঙ্কার কথায় শঙ্কিত চুয়াডাঙ্গাবাসী। এমনিতেই সারা দেশের তুলনায় শীতকালে বেশি ঠাণ্ডা পড়ে চুয়াডাঙ্গায়।

কোনো কোনো দিন তাপমাত্রা নেমে আসে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে। মাঝে মাঝে কয়েকদিন সূর্যের মুখ পর্যন্ত দেখা যায় না। ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে পুরো এলাকা।

বিশেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যভাগ থেকে জানুয়ারির মধ্যভাগের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ থাকে। এ সময় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের কাজ-কর্মে নেমে আসে স্থবিরতা। গুটিসুটি মেরে আগুন পোহায়ে দিন কাটায় দরিদ্র মানুষ।

এ সময় জেলা প্রশাসন বা কোনো কোনো সংগঠন শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই এবার সাধারণ মানুষ কীভাবে শীতের মোকাবেলা করবে তা নিয়ে আগেভাগেই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের মো. আমানত উল্লাহ জানান, ‘পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে ঝিনাইদহের কোলঘেঁষে এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে কর্কটক্রান্তি রেখা। এ কারণে এসব এলাকায় শীতের প্রকোপ বেশি।

তেমনি গরমের সময় গরমের তীব্রতাও অসহনীয় হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের কাছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শামীম কবির যুগান্তরকে জানান, ‘বরাবরই চুয়াডাঙ্গায় শীতের প্রকোপ লক্ষ করা যায়।

প্রতি বছর শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য মানুষ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রতি বছর শীতের সময় ঠাণ্ডাজনিত কারণে কমপক্ষে ২০-৩০ জন মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে।’

চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি সামাজিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক। এখানে গৃহহারা-পথহারা মানুষ ফুটপাতে, স্টেশনে অথবা লোকের বারান্দায় শুয়ে রাত কাটায়। বিশেষ করে শীতের সময় এদের জীবনে নেমে আসে ভয়াবহতা। এসব মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়ে থাকে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই নগণ্য।’

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামাদুল হক জানান, ‘শীতকালে বেশিরভাগ দিনই চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে। ঠাণ্ডা কুয়াশায় ঢেকে থাকে চারদিক।

সূর্যের মুখও দেখা যায় না কোনো কোনো দিন। শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসময় শীত নিবারণের জন্য পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোয় গরম কাপড় কিনতে সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়।

চুয়াডাঙ্গায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে এ বছরের জানুয়ারিজুড়েই ছিল শীতের প্রকোপ। সেসময় প্রায় দিনই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকত চুয়াডাঙ্গায়।

এর মধ্যে ৩ জানুয়ারি ৬ দশমিক ৫, ৫ জানুয়ারিতে ৫ দশমিক ৮, ১১ জানুয়ারিতে ৬ দশমিক ৮ ও ২৪ জানুয়ারিতে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।’

এবার আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, সারা দেশে শীত এমনভাবে জেঁকে বসবে তা হয়তো সর্বকালের রেকর্ড ভাঙতে করতে পারে। এ কারণে চুয়াডাঙ্গার দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে বেশি আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ অবস্থায় আগেভাগেই সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিলে হয়তো শীতজনিত কারণে সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি খুবই করুণ হয়ে উঠবে বলে চুয়াডাঙ্গার অনেকেই মনে করছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.