সবার দৃষ্টি গণভবনে:প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ফের সংলাপ আজ

0 16

 

ডেস্ক: বহুল প্রত্যাশিত সংলাপ শেষ হচ্ছে আজ। সমাপনী দিনে সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফের সংলাপে বসছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন- গণভবনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এতে দুই পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। দেশের সবার দৃষ্টি আজকের এই সংলাপের ওপর।

১ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ আলোচনা। এরপর ২ নভেম্বর বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় যুক্তফ্রন্ট, ৪ নভেম্বর ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট, ৫ নভেম্বর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট, ৬ নভেম্বর দুপুরে ইসলামী ঐক্যজোটসহ ধর্মীয় অন্যান্য দল এবং বিকালে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

১ নভেম্বর সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের ২০ নেতা এবং আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের ২৩ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সাড়ে ৩ ঘণ্টার সেই সংলাপে আশানুরূপ ফলাফল আসেনি। সংলাপ থেকে বেরিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা জানান, তারা এ সংলাপে সন্তুষ্ট নন। যদিও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা দাবি করেন, সংলাপ ফলপ্রসূ হয়েছে। প্রথম দফা সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে না নেয়ায় ফের স্বল্প পরিসরে সংলাপ চেয়ে রোববার প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি পাঠান ড. কামাল হোসেন।

জানা যায়, উভয়পক্ষই কিছুটা ছাড় দিয়ে যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকের সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে তারা ঐকমত্যে আসবেন বলেও অনেকে ধারণা করছেন। আজকের সংলাপে সমাধান না হলে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হতে পারে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। কারণ দাবি মানা না হলে আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এজন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১১ সদস্য আজকের সংলাপে যোগ দিতে পারেন। তারা হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ, ডা. জাহেদুর রহমান।

আজকের সংলাপ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত রোববার রাতে সাংবাদিকদের বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের থেকে আবার সংলাপে বসতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই জানিয়েছিলেন, সংলাপের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত। তবে ৭ নভেম্বরের পর সংলাপ সম্ভব নয়। সব কিছু বিচার বিশ্লেষণ করে ৭ নভেম্বর বেলা ১১টায় ছোট আকারে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, গণভবনে ৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছোট পরিসরে সংবিধানের মধ্য থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দেয়া হতে পারে। আমরা আশা করছি, এর মধ্য থেকে সমাধান বের করতে পারব।

সূত্র জানায়, আজকের স্বল্প পরিসরে সংলাপে সংবিধানের ভেতর থেকে সমাধান বের করার চেষ্টা করছে ঐক্যফ্রন্ট। গত দুদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মতিঝিলের চেম্বারে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে তারা একমত হন, সংবিধানের মধ্যেই সংকটের সমাধান আছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও দলের আইনজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে দলের বাইরের কয়েকজন খ্যাতনামা সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে বৈঠকে বসেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সেখানে আজকের সংলাপের দাবিগুলো চূড়ান্ত করা হয়।

আরও জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজি আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সে ক্ষেত্রে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচনকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া এবং নির্বাচন কমিশন আলোচনার ভিত্তিতে পুনর্গঠন করা- এই চার ইস্যুতে তারা অনড় থাকবেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.