জীবননগর নিধিকুন্ডুতে ফারুক খান কমলা চাষে একজন আদর্শ কৃষক

0 84

 

তারিকুর রহমান/আতিয়ার রহমান,জীবননগর: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নিধিকুন্ডু গ্রামের ফারুক খান চায়না লেবু চাষে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ফারুক খানের চায়না লেবুর বাগান এখন এলাকার শিক্ষিত বেকার উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অণুকরণীয় কৃষি প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। ফারুক খান লেবু চাষের মাধ্যমে নিজেকে স্বাবলম্বী হিসাবে গড়ে তুলেছেন।
জীবনননগর উপজেলার নিধিকুন্ডু গ্রামের ফারুক খান বলেন,গত আড়াই বছর আগে আমি খুলনায় গিয়েছিলাম আমার এক আত্মীয়ের বাড়ীতে। সেখানে চায়না লেবুর চাষ দেখে আমি অভিভুত হই এবং চারা কিনে এনে খান নার্সারি নামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে একটি চায়না লেবু বাগান গড়ে তুলি। প্রথম দিকে পরিক্ষা মূলক এক বিঘা জমিতে চায়না কমলা লেবুর চাষ করি এবং তাতে সফলতাও অর্জন করি। তার এক বিঘা জমির বাগানের প্রতিটি গাছে এখন থোকায় থোকায় কমলা লেবু ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। তা দেখে যে কারো মন ভরে উঠবে।
উপজেলার নিধিকুন্ডু গ্রামের মৃত মঙ্গল খানের ছেলে ওমর ফারুকের দাবী তিনি একজন মওসুমী সবজি চাষী। আজ থেকে ৬-৭ বছর আগে অনেকটা শখের বশে বশিভুত হয়ে আমাদের একটি অনাবাদি জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারি গড়ে তুলি। কৃষি বিভাগের কোন প্রশিক্ষণ কিংরা সহযোগীতা ছাড়াই আমার সেই নার্সারিটি বিশাল আকার ধারণ করেছে। নার্সারিটি এখন এলাকাবাসীর নিকট খান নার্সারি হিসাবে পরিচিত।
ফারুক খান বলেন,আমার নার্সারিতে এখন প্রতিদিন ১৪-১৫ জন শ্রমিকের নিয়মিত কর্মসংস্থানের সৃযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে তোলা বাগানে অর্ধ শতাধিক ফুল ও ফলের গাছ রয়েছে। বাগানে যে সব ফলের গাছ রয়েছে তার মধ্যে কাশ্মীরি আপেল কুল,মালটা,ড্রাগন ফল,বারো মাসি আম ও চায়না কমলা লেবু উল্লেখযোগ্য। বাগানে ১০০ টি চায়না লেবু গাছে বাম্পার ফলন হয়েছে। ফারুক খানের বাগানটি পরিদর্শন করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্ততা ও সৌখিন চাষীরা ছুটে আসেন।
চায়না লেবু স্বাদে একটু টক হলেও পুরোপুরি পাকলে যেমনি মিষ্টি তেমনি সুগদ্ধি। এ সময় লেবুর গায়ের রং গাঢ় কমলা। লেবু চাষী ফারুক খানের বিশ্বাস এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত লেবু বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে সাড়ে চার লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। শুধু লেবুই নয়,বাগানের গাছ থেকে চারা উৎপাদন করে তা বিক্রি করা হচ্ছে। তার নার্সারিতে থাকা ছয় মাস বয়সের একটি চারা ১০০ টাকা এবং দুই বছর বয়সী একটি চারা ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহাওয়া অনুকুল না হওয়ায় সাধারণত: ব্যাপক ভাবে কমলা লেবুর ফলন হয় না। কিন্তু সে ধারণা পাল্টে দিয়ে সৌখিন চাষী ফারুক খান তার বাগানে প্রতিটি গাছে লেবুর বাম্পার ফলন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন,আমার দেখাদেখি পার্শ্ববর্তী অনেক কৃষক তাদের অনাবাদি ও পতিত জমিতে চায়না কমলা লেবুর আবাদ শুরু করেছেন। তারা ফলনও ভাল পাচ্ছেন। আমি তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি। আমার লেবু বাগানটি এখন এলাকার দর্শণীয় স্থান।
ফারুক খান মনে করেন,কৃষি বিভাগ যদি লেবু চাষের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহযোগীতা দিয়ে থাকে তাহলে মানুষের মধ্যে চায়না কমলা লেবুর চাষের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে এবং ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভাবে কমলা লেবুর উৎপাদন বাড়বে। এ অঞ্চলের উৎপাদিত লেবু বিদেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.