বিশ্ববাজারে পাকিস্তানের রুপির মান কমলো ৫ শতাংশ

0 31

 

ডেস্ক: বিশ্ববাজারে ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানের রুপির মূল্য রেকর্ড পরিমাণ পাঁচ শতাংশ কমেছে।

চলমান বছরগুলোতে বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে বেশ হিমশিম খাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি দেশটিতে ষষ্ঠবারের মতো ঘোষিত মুদ্রার অবমূল্যায়নের মুখে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

শুক্রবার ডলারের বিপরীতে রুপি দাম কমে ১৪৩ ইউনিটে নেমে আসে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের ১০০ দিন পূর্তির মধ্যেই দেশটির মুদ্রার মূল্যমানে এমন ধ্বস নামলো।

এরই মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্যে বিশাল অঙ্কের ঘাটতি সামলাতে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান পরোক্ষভাবে বেশ কয়েকবার তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করেছে।

কিন্তু ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনার পরও ইমরান খান ও তার অর্থমন্ত্রী আসাদ উমর দেশটির অর্থনীতি এ বেহাল দশা সামলাতে কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনায় আসতে পেরেছেন কিনা। কেননা বৈশ্বিক এ শীর্ষ সংস্থাটির সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পরও অতি জরুরি বেল-আউট চুক্তিতে উপনীত হওয়া যায়নি।

অর্থনৈতিক ধকল সামলাতে পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান এরই মধ্যে কোনো বন্ধুরাষ্ট্র থেকে ঋণ চাওয়া কিংবা আইএমএফের প্রতি চাপ তৈরির মতো কিছু করছেন না। বরং সরকারি মালিকানাধীন বিলাসবহুল যানবাহন নিলামে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিই বেশি নজর তার।

এলিক্সির সিকিউরিটিজ-এর গবেষণা পরিচালক হামাদ ইকবাল বলেন, এমন হুমকির মুখে আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে কিংবা পরবর্তী মেয়াদে করনীতির বিষয়ে সরকারের থেকে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনাও নেই।

এদিকে চলতি বছরের শুরুর দিকেই পাকিস্তানের রুপির মূল্যমান প্রায় তিন শতাংশ কমে যায়। কারণ দেশটি দীর্ঘদিন যাবৎ মুদ্রাস্ফীতির নিয়ে লড়াই করে আসছে। এর ধাক্কায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণও এ বছর কমেছে শতকরা ৪০ শতাংশ।

এমনকি গেল অক্টোবরে সৌদি আরব থেকে ছয় বিলিয়ন ডলারের অর্থসহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরও পাকিস্তানকে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় আইএমএফ ’র সাহায্যের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাতে হচ্ছে। ১৯৮০ সাল থেকেই দেশটি আইএমএফ থেকে নিয়মিত ঋণ নিয়ে আসছে।

উচ্চাভিলাষী অবকাঠামোগত প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ইসলামাবাদকে এরই মধ্যে চীন থেকে কোটি কোটি ডলারের ঋণ নিতে হয়েছে। কিন্তু আইএমএফ ’র অন্যতম বৃহৎ দাতা দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছে, পাকিস্তান চীনের এই ঋণ পরিশোধের জন্য বেল-আউটের অর্থ ব্যবহার করতে পারে।

ঠিক এই পরিস্থিতিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক আভাস দিচ্ছে, পাকিস্তানের গেল অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কমবে ১ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছরের শেষ অর্থাৎ আগামী বছরের জুনে তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে হবে ৪ দশমিক শতাংশ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.