জীবননগরে আমনের ফলন ও দাম দুই কম: বিপাকে কৃষক

0 73

আতিয়ার রহমান/তারিকুর রহমার: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এবছর আমনের ফলন ও দাম দুই কম হওয়ায় কৃষকেরা পড়েছেন বিপাকে। কৃষকদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করে লাভ তো দুরের কথা রীতিমত লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে কৃষকেরা তাদের দায় দেনা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। যে কারণে উপজেলার গ্রামীণ কৃষক-কৃষানিদের এবার নবান্নের উৎসব ম্লান হতে চলেছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্র জানিয়েছেন,উপজেলায় চলতি আমন মওসুমে ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ হাজার হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। আমন মওসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ধানের এ বছর ফলন ভাল হয়নি। যে কারণে কৃষক লোকসানের শিকার হতে হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলার একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়,আমন মওসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কৃষকেরা আমন ধান চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু ধানের ফুল-ফল হওয়ার মুহুর্তে বৃষ্টির পানির অভাবে কৃষকেরা বিপাকে পড়েন। যে সব কৃষক শ্যালোমেশিনের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিতে পেরেছেন তাদের জমিতে আমন ধানের উৎপাদন মোটামুটি ভাল হলেও যে সব জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হয়নি সে সব জমিতে ধানের উৎপাদন খুবই খারাপ হয়েছে। অন্যদিকে চলতি মওসুমে বাজারে ধানের দামও বেশ কম। এবার প্রতি বিঘা জমি থেকে ১২-১৫ মণ ধান উৎপন্ন হয়েছে। ধানের উৎপাদন ও দাম দুই-ই কম হওয়ার কারণে কৃষকদেরকে এবার লোকসান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলার গোপালনগর গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন,এ বছর দুই বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলাম। ইতিমধ্যে সব ধান কেটে মেড়ে ঘরে তুলেছি। চলতি মওসুমে ধানের ফলন খুবই খারাপ হয়েছে। বিঘা প্রতি ১২-১৬ মণের বেশী হচ্ছে না। অন্যদিকে বাজারে প্রতি মণ ধান ৫৮০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ধান লাগানোর সময় আবহাওয়া ভাল থাকলেও ধানে ফুল-ফলের সময় বৃষ্টির পানির অভাবে ফলন ভাল হয়নি। সেচের পানির ব্যবস্থা করতে পারলে এবার ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা ছিল। তবে বিচালীর চাহিদা থাকায় তা বিক্রি করে,কিছুটা হলেও লোকসান তোলা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কাউন বিচালী দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার রাজনগর গ্রামের বর্গা চাষী খাজা মিয়া বলেন,আমার দেড় বিঘা জমিতে আমন ধান ছিল। আশা ছিল ধান বিক্রি করে কিছু দায় দেনা মেটাব এবং বাকী টাকা দিয়ে পাকা ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু করব। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে না পারায় ধানের ফলন ভাল হয়নি। অপরদিকে বাজারে ধানের দামও আশানুরূপ নয়। যে কারণে এ বছর ধানে লাভ তো দুরের কথা উল্টা লোকসানের শিকার হতে হচ্ছে। এখন ভাবছি বাজারে পাওনাদারের টাকা কি ভাবে পরিশোধ হবে।
গোপালনগর গ্রামের পাওয়ার টিলার চালক আব্দুর রশিদ বলেন,আমি কৃষকদের জমি ধান মাঠ থেকে বাড়ী তুলে এনে দিয়েছি। কৃষকদের ধান বিঘা প্রতি এক হাজার টাকা চুক্তিতে মাঠ থেকে বাড়ীতে তুলে দিয়েছি। তারা ধান মাড়াই শেষে বাজারে বিক্রি করে আমার পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু বাজারে ধানের তেমন একটা দাম না থাকায় কৃষক ধান বিক্রি করতে পারছেন না,আর আমিও টাকা আদায় করতে পারছিনা। এবার ধানের ফলনও কম আবার দামও কম পাওয়া যাচ্ছে। আমন মওসুমে কৃষক-কৃষানিদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেলেও এবার আর অবস্থা দেখা যাচ্ছে না। সবার মধ্যেই যেন হতাশা বিরাজ করছে। ফলন যাই হোক,দাম যদি ভাল পাওয়া যেতো তাহলে কিছুটা হলেও লোকসান কমানো যেতো।
জীবননগর উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুন্সী আব্দুস সালেক বলেন,উপজেলা চলতি মওসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধানের ফলন ভাল হয়নি। ধানের জন্য যে সময়টা পানির প্রয়োজন সে সময় বৃষ্টির পানির অভাবে কৃষকেরা সেচ দিতে না পারায় ফলনে বিপর্যয় হয়েছে। অন্যদিকে বাজারে ধানের দামও কম হওয়ায় কৃষকদেরকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তবে কৃষকদের লোকসান পুষিয়ে নিতে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছি এবং জমিতে অন্যান্য ফসলের আবাদের জন্য উৎসাহিত করছি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.