ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ

ভোট কেন্দ্রভিত্তিক ৪০ হাজার কমিটি জেলা-উপজেলায় বিজয় মঞ্চ হচ্ছে

0 18

 

ডেস্ক: হ্যাটট্রিক বিজয়ের লক্ষ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমের দলীয় সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ। ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি। ইতোমধ্যে সারাদেশে ৩০০ আসনে ভোট কেন্দ্রভিত্তিক ৪০ হাজার ১৯৯টি কমিটি গঠন করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি কমিটিতে রাখা হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ জন নেতাকর্মী। দলের জেলা-উপজেলা কমিটি এবং দল-জোট মনোনিত প্রার্থী ভোট কেন্দ্রভিত্তিক এসব কমিটি গঠন করছেন। এদিকে দলীয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তিকে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। সারাদেশের সব জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিজয় মঞ্চ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রার্থীর জন্য ভোট চাওয়া হবে। বুধবার বিকালে বিএমএ মিলনায়তনে ‘বিজয় মঞ্চের গান উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া দলীয়ভাবে নির্বাচনী কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের দমন করতে তারা কাজ করছেন। নৌকার জয় নিশ্চিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার লক্ষ্যে পুরোদমে নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ শুরু করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সবগুলো শাখার নেতারা।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করছেন। প্রতিদিনই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছেন তিনি। দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা। গতকাল বুধবার বিকালে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ মহানগরের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাদের সাথে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সামনে রেখে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবে না। তাই সবার ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সারাদেশে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে প্রয়োজনে তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট নেতা-এমপিদের সঙ্গে আমি নিজে কথা বলবো।’ বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০ জেলা-বিভাগীয় শহরে শেখ হাসিনার নির্বাচনী জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই পুরো নির্বাচনী সফরে কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেবেন না তিনি। আগামী ১১ ডিসেম্বর গণভবন থেকে সড়ক পথে মুন্সিগঞ্জ হয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রধানমন্ত্রী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। টুঙ্গিপাড়া থেকে খুলনা ও মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফিরবেন। এ দুই জেলা-বিভাগীয় শহরেও জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

টুঙ্গিপাড়া সফরের পরে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় নির্বাচনী সফর হবে সিলেটে। সিলেট শহরেই একটি জনসভায় অংশ নিয়ে ঐ অঞ্চলের প্রস্তাবিত দু’টি রুটের একটি হয়ে তিনি রাজধানীতে ফিরবেন। প্রস্তাবিত রুট দুটি হলো সিলেট থেকে সড়ক পথে সুনামগঞ্জ হয়ে অথবা সড়ক পথে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফেরা। এরপর অন্য একদিন সড়ক পথে কুমিল্লা ও নোয়াখালী হয়ে চট্টগ্রামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এ তিন জেলা-বিভাগীয় শহরেও জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে উত্তরবঙ্গের তিন জেলায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে প্রতিনিয়ত বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন উপ-কমিটির সদস্যরা। এছাড়া নির্বাচনে দলীয় কার্যক্রমসহ নির্বাচনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করার লক্ষ্যে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটিও গঠন করে কাজ শুরু করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

বুধবার বিকালে বিএমএ মিলনায়তনে ‘বিজয় মঞ্চের গান’র উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ইত্তেফাককে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সারাদেশের জেলা-উপজেলায় বিজয় মঞ্চ করার প্রস্তুতি চলছে। ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ করা হবে। এই বিজয় মঞ্চ থেকে আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.