জীবননগরে সিদ্ধ ডিম বিক্রি করে সংসার চালান বিধাব শুকজান

0 28

 

জীবননগর: জীবননগর পৌর শহরের শাপলাকলিপাড়ার বিধাব শুকজান বিবির(৬০) সংসার চলে বাজারে সিদ্ধ ডিম বিক্রি করে। জীবননগর বাসষ্ট্যান্ডের পুরাতন ডাকবাংলোর সামনে বসে দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধ ডিম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসলেও তার ভাগ্যে আজও জোঁটেনি বিধবা ভাতার একটি কার্ড।
বিধবা শুকজান বিবি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ভাবদিয়া গাড়াপোগা গ্রামের মৃত রুকু মিয়ার স্ত্রী। তাকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জীবননগর বাসষ্ট্যান্ড চত্বরের পুরাতন ডাকবাংলোর সামনে সিদ্ধ ডিম বিক্রি করতে দেখা যায়। এ সময় প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় তার তিনি ডিমের খোঁসা ছাড়াতে ছাড়াতে নিজের অতীত ও বর্তমান জীবনের চিত্র তুলে ধরে বলেন,একমাত্র ছেলেকে নিয়ে তাদের সংসার বেশ ভাল চলছিল। আজ থেকে ৭-৮ বছর আগে হঠাৎ একদিন আমার স্বামী রুকু মিয়া অসুস্থ্য হয়ে মারা যান। স্বামীর মৃতু্যুর পর ছেলেকে নিয়ে এক অথৈ সাগরে পড়ি। কি আর করার জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে অন্যের বাড়ীতে ঝিঁয়ের কাজ শুরু করি। আবার অনেক সময় মাঠে কৃষি কাজ করে সংসার চালাতে থাকি। এ সময় প্রতিবেশীদের অনেকেই অনেক কথা বললেও আমি বাধ্য হয়েই সব কিছু করেছি। এ ভাবে দীর্ঘদিন চালিয়ে আসার এক পর্যায়ে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে জীবননগর শহরের শাপলাকলিপাড়ায় চলে আসি। এখানে একটি ভাড়ায় বাসায় বসবাসের এক পর্যায়ে ছেলেকে নিয়ে শহরের একটি হোটেলে কাজ শুরু করি। ছেলে এখন উপার্জনক্ষম। তারপরও তার একার পক্ষে দ্রব্য মুল্যের এ বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই বাড়ীতে বসে না থেকে প্রতিদিন ৬০-৭০ টি ডিম সিদ্ধ করে বাসষ্ট্যান্ডের পার্শ্বে পুরাতন ডাকবাংলোর সামনে বিক্রি করে প্রতিদিন প্রায় ১০০-১৫০ টাকা আয় হয়। প্রতিদিন বিকাল পাঁচ থেকে বিক্রি শুরু করি এবং রাত ১০ টা পর্যন্ত বিক্রি চলতে থাকে। বর্তমানে মুরগীর একটি সিদ্ধ ডিম ১০ টাকা এবং হাঁসের একটি সিদ্ধ ডিম ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন,প্রথমে ৬০০ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করলে বর্তমানে পুঁজি বেড়েছে। মাঝে মধ্যে সরকারী সাহায্য সহযোগীতা পেলেও আজ পর্যন্ত আমার কেউ একটি বিধবা কার্ড করে দেয়নি। বর্তমানে আমার সামান্য আয় তার ছেলে আয় দিয়ে মোটামুটি সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসলেও সরকারী সহযোগীতা পেলে আমার ব্যবসার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হত এবং আয়ও কিছুটা বেশী হত।

Leave A Reply

Your email address will not be published.