কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ২৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

0 92

 

ডেস্ক: দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে বাংলাদেশকে কর্মসংস্থান সৃদ্ধিসহ অপেক্ষাকৃত ভালো চাকুরি নিশ্চিতে তিন বছর মেয়াদে (২০১৯-২০২২) মোট ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যার মধ্যে প্রথম বছরের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিবে সংস্থাটি।

এ সংক্রান্ত একটি ঋণ প্রস্তাব গতকাল (১২ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানায় বিশ্বব্যাংক।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক থেকে প্রাপ্ত ঋণের মধ্যে এটিই সর্ববৃহৎ একক ঋণ। বাজেট সহায়তা হিসাবে প্রাপ্ত উক্ত অর্থ সরকার যেকোনো উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যবহার করতে পারবে।

বিশ্বব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম হয়েছে। দেশটিতে আগে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তো ২ দশমিক ৭ শতাংশ হারে। সেটি এখন কমে ১ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বাড়ছে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিকল্প নেই।

এ প্রেক্ষিতে শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের গতি ত্বরান্বিত ও বহুমুখী করার উদ্দেশ্যে শিল্প ও বাণিজ্য পরিবেশের আধুনিকায়ন, শ্রমিকের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারকরণ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিক হারে কর্মে প্রবেশের উপযোগী নীতি-কর্মসূচি প্রনয়নের উদ্দেশ্যে এই ঋণ সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। কর্মসংস্থান কর্মসূচিভিত্তিক নীতি-কৌশল ঋণ সহায়তার আওতায় এ অর্থ পাবে বাংলাদেশ।

আর উক্ত ঋণ সহায়তার আওতায় আগামী ৩ বছর মেয়াদে (২০১৯-২০২২) আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা হতে বাংলাদেশ সর্বমোট ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে। এর অংশ হিসেব প্রথম বছরে ২৫০ মিলিয়ন ডলার পাবে বাংলাদেশ।

এদিকে সংসদ নির্বাচনের আগে বিশ্বব্যাংকের ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের এই ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতিকে বর্তমান সরকারের প্রতি সংস্থাটির আস্থার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক আমাদের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। উচ্চ আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং অন্যান্য খাতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে আস্থাশীল হয়েই বিশ্বব্যাংক এ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ একক সহায়তা। এর আগে একক কোনো খাতে এতো বেশি পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেয়নি বিশ্বব্যাংক। ফলে এ সহায়তাকে বর্তমান সরকারের প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই দেখছি।

মুহিত জানান, আমাদের আর্থিক খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও সে তুলনায় কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি হয়নি। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে গেছে। আমাদের কর্মজীবীদের দক্ষতারও প্রচুর অভাব রয়েছে। তাই বিশ্বব্যাংকের এ সহায়তা দক্ষ কর্মশক্তি তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজে লাগবে।

এ সময় অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিশ্বব্যাংকের দেওয়া অর্থ ব্যয় করা হবে। বিনিয়োগ বাড়লেই কর্মসংস্থান বাড়বে। আমাদের দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বাধা রয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় লেগে যায়। এসব সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে যে সব বাধা রয়েছে সেগুলো দূর করার চেষ্টা করা হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানে দায়িত্বে থাকা বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমিয়াও ফ্যানকে উদ্ধৃত তরে সংস্থাটির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান এই ঋণ সহায়তায় আওতায় বাংলাদেশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিকদের ভালো চাকুরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবে। এতে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে দেশটি এগিয়ে যাবে।

সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ও টাস্ক টিম লিডার থমাস ফেরোল বলেন, এই ঋণ প্রকল্পের আওতায় প্রদত্ত অর্থ বাংলাদেশের শ্রমবান্ধব খাতে বিনিয়োগ করা হবে। যাতে করে কর্মক্ষম নারী, যুবক ও অভিবাসীরা গুণগত কর্মসংস্থান লাভ করতে পারবেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের এ সহায়তা নিয়ে অর্থ বিভাগ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।

যাতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি সহজীকরণ ও কর্ম পরিবেশ উন্নতকরণে আইন-বিধি প্রণয়ন এবং নীতি-পদ্ধতি সংস্কার কাজে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। দ্রুত দারিদ্র হ্রাস, আয় বৃদ্ধি ও চলমান জনমিতি লভ্যাংশকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো গতি সঞ্চারের জন্য কর্মসংস্থানের যথাযথ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন।

আরো বলা হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ আধুনিকায়ন, শ্রমিকের অধিকতর সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও সব শ্রেণির মানুষের কর্মে অধিকতর প্রবেশে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত বিভিন্ন নীতি-কৌশল সংস্কারের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে তা বাস্তবায়নে এ ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। যা বর্তমান সরকারের প্রতি বিশ্বব্যাংকের আস্থার বহি:প্রকাশ। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারীত্বমূলক সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলে সরকার মনে করে।

বিশ্বব্যাংকের দেয়া এই ঋণ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এতে গ্রেস পিরিয়ড ৫ বছর। আর সুদের হার ২ শতাংশ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.