জীবননগরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে অফিসে হানা প্রচারে বাঁধা নেতাকর্মিদের মধ্যে আতঙ্ক

0 78

 

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর আর অগ্নিসংযোগ এবং নেতাকর্মিদের প্রচার প্রচারনায় বাঁধা ও সর্বশেষ প্রচার মাইক ভাংচুরের ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মিদের মধ্যে আতঙ্ক ছাড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি নেতাকর্মিদের অভিযোগ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা এসব হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছেন এবং নেতাকর্মিদের ভোটের মাঠে না থাকার জন্য হুমকি ধামকী দিচ্ছে। গত বুধবার গভীর রাত থেকে এ হামলার ঘটনা শুরু হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুর বাড়ী জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামে। দেশ স্বাধীনের পর মাহমুদ হাসান খান বাবুই প্রথম ব্যাক্তি যিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি পদে নির্বাচন করছেন। মাহমুদ হাসান খান বাবু একজন সফল গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এবং দেশের বৃহতর ব্যবসায়িক সংগঠন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি। বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু এলাকায় একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্ব। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সাথে উপজেলাবাসীর মধ্যে আলোচনায় উঠে আসেন। নেতাকর্মিরা সরব হয়ে ওঠে তার বিজয় নিশ্চিত করতে।
উপজেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক ও উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন,হামলা-মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মিরা এলাকা ছাড়া ছিলেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে মামলা জটিলতা আইনি মাধ্যমে কাটিয়ে এলাকায় ফিরে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুর পক্ষে নেতাকর্মিরা নির্বাচনী মাঠে কাজ শুরু করেন। কিন্তু আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা বেপরোয়া হয়ে আমাদের নির্বাচনী অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং প্রচার মাইক ভাংচুর করায় নেতাকর্মিরা আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মিরা আমাদের নেতাকর্মিদের ওপর হামলা চালিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ জনকে আহত করেছে। আওয়ামীলগের প্রার্থী বর্তমান এমপি হাজী আলী আজগার টগরের কর্মি-সমর্থকেরা আমাদের নেতাকর্মিদেরকে কোন ভাবে কোথায়ও বসতে দিচ্ছে না। নির্বাচনের পর পরিণতি ভয়াবহ হবে এবং তাদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করাসহ নানা ভাবে হুমকি ধামকী দেয়া হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলা যুবদল নেতা কামরুল ইসলাম বলেন,আমাদের ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মাহমুদ হাসান বাবু খানের জনপ্রিয়তায় আওয়ামীলীগ চরম ভাবে ভীত হয়ে নির্বাচনী মাঠ জোর করে তাদের অনুকুলে নিতে আমাদের নেতাকর্মিদেরকে নানা ভাবে হুমকি ধামকী দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে একের পর এক আমাদের নির্বাচনী অফিসগুলোতে হামলা করা হচ্ছে। যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মিরা দলে দলে শহরে মহড়া দিচ্ছে এবং সন্ধ্যার পর মোটর সাইকেল যোগে লাঠিসোটা,লোহার রড ও বড় বড় হাসুয়া হাতে নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। আমাদের নির্বাচনী অফিসগুলোতে কাউকে বসতে দিচ্ছে না।
উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন বলেন,আমাদের নেতাকর্মিদের প্রকাশ্যে ভোট করার ক্ষমতা নেই। নির্বাচনী মাঠে দেখলেই আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা আমাদেরকে নানা ভাবে হুমকি ধামকী দিচ্ছেন। অন্যদিকে পুলিশের চাপ তো আছেই। অনেক নেতাকর্মি মামলার ভয়ে এলাকায় আসতে পারছেন না। আবার অনেক নেতাকর্মিকে নির্বাচনী মাঠে না নামার জন্য আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা আগেভাগেই সাবধান করে দেয়ায় নেতাকর্মিরা বড় বিপাকে পড়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের কথা অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোয়েব আহমেদ অঞ্জন বলেন,বিএনপির নির্বাচনী অফিসে হামলা কিংবা অগ্নিসংযোগের ঘটনার সাথে ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মি জড়িত নয়। দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এসব ঘটনা ঘটাতে পারে।
যুবলীগ নেতা খায়রুল বাসার শিপলু বলেন,এহেন কাজের সাথে ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগের কোন নেতাকর্মি জড়িত থাকতে পারে না। তবে নির্বাচনকে ঘিরে ইস্যু সৃষ্টি করতে জামায়াত-বিএনপির লোকজনই এসব ঘটনা ঘটিয়ে তা ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঘাঁড়ে চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া বলেন,কয়েকটি স্থানে আমি হামলার ঘটনার কথা শুনেছি। তবে ঢালাও ভাবে হামলা হওয়ার ঘটনা সঠিক নয়। বিএনপি এ পর্যন্ত কোন হামলার ঘটনায় আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

Leave A Reply

Your email address will not be published.