মাশরাফির ২০০ নাকি ২০২?

0 40

 

ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। মাশরাফির নাম যেখানে আছে কিছু আলোচনা আর আবেগ থাকেই। মাশরাফি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেললেন বছরের শেষ ওয়ানডে। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে কারো মতে এটা মাশরাফির ২০০ তম ম্যাচ। কারো মতে ২০২। বর্তমানে মাশরাফিকে নিয়ে এইটাই মূল আলোচনার বিষয়। মাশরাফির ম্যাচ সংখ্যা ২০০টি। আবার ২০২টি বললেও ভুল হবে না। মাশরাফির ক্ষেত্রে দুটি সংখ্যাই সঠিক।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিডিয়ায় উঠে আসতে থাকে মাশরাফির ২০০তম ওয়ানডে ম্যাচ। আর পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায় টাইগার দলপতি খেলতে নেমেছেন ২০২তম ওয়ানডেতে।

কারণ বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাশরাফি খেলেছেন ক্যারিয়ারের ২০০তম ওয়ানডে ম্যাচ, এশিয়া একাদশের হয়ে খেলেছেন আরও দুটি ম্যাচ। সবমিলিয়ে ম্যাশের নামের পাশে ২০২টি ওয়ানডে। কাকতালীয় হলেও সত্য যে,শেষ ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যদিয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম বিশ্বের ২০০তম ভেন্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যেখানে ঘরের মাটিতে দেশের জার্সি গায়ে ম্যাশও খেললেন ঠিক ২০০তম ম্যাচ। এমন সৌভাগ্য আর কয়জন ক্রিকেটারের হয়েছে?

২০০৭ সালের জুনে অনুষ্ঠিত হয় অ্যাফ্রো-এশিয়া কাপ। তিন ম্যাচের সেই ওয়ানডে সিরিজটি আইসিসি থেকে আন্তর্জাতিক ওয়ানডের স্বীকৃতি পেয়েছিল। সেখানে মুখোমুখি হয়েছিল এশিয়া একাদশ এবং আফ্রিকা একাদশ। বাংলাদেশ থেকে এশিয়া একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন টাইগারদের বর্তমান দলপতি মাশরাফি এবং সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। তিন ম্যাচের প্রথমটি এবং তৃতীয়টিতে সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাশ। তিনটি ম্যাচেই জিতেছিল এশিয়া একাদশ। দ্বিতীয় ম্যাচে মাশরাফি না খেললেও ছিলেন মোহাম্মদ রফিক, প্রথম ম্যাচে ছিলেন না। তবে, সিরিজের তৃতীয় এবং শেষটিতে ছিলেন দুজনই।

২০০৭ সালের ৬ জুন প্রথম ম্যাচে এশিয়া একাদশ জিতেছিল ৩৪ রানের ব্যবধানে। দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ জুন আফ্রিকা একাদশকে ৩১ রানে হারায় এশিয়া একাদশ। আর সিরিজের শেষ ম্যাচে ১০ জুন মাশরাফি-রফিকরা জিতেছিল ১৩ রানের ব্যবধানে। প্রথম ম্যাচে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে এশিয়া একাদশ তুলেছিল ৩১৭ রান। জবাবে, ৪৭.৫ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে আফ্রিকা একাদশ তোলে ২৮৩ রান। দ্বিতীয় ম্যাচে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে এশিয়ার সেরারা তুলেছিল ৩৩৭ রান। জবাবে, ৪৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে আফ্রিকা একাদশ করেছিল ৩০৬ রান। আর সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে ৮ উইকেট হারিয়ে এশিয়া একাদশ করেছিল ৩৩১ রান। জবাবে, ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে আফ্রিকা একাদশ তোলে ৩১৮ রান।

ভারতের বেঙ্গালুরুতে প্রথম ম্যাচে এশিয়া একাদশের হয়ে ওপেনার সনাথ জয়সুরিয়া ১৪, বিরেন্দর শেওয়াগ ৪৫, সৌরভ গাঙ্গুলি ৩২, দলপতি মাহেলা জয়াবর্ধনে ৬৫, মোহাম্মদ ইউসুফ ৬৬, যুবরাজ সিং ৩১, মহেন্দ্র সিং ধোনি ২, হরভজন সিং ২০, মাশরাফি ১৩, জহির খান ৬* রান করেন। ইনিংসের শেষ বলটিতে আউট হন ১৬ বলে ১৩ রান করা ম্যাশ। বল হাতে মাশরাফি ৬.৫ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে নিয়েছিলেন একটি উইকেট। সেটি শন পোলকের উইকেট। যিনি ওই ম্যাচে করেছিলেন ইনিংস সর্বোচ্চ ১৩০ রান। ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন এবিডি ভিলিয়ার্স, স্টিভ টিকোলো, জাস্টিন কেম্পরা। মার্ক বাউচার ২৫, এলটন চিগুম্বুরা ৪০ আর টমাস উদুয়ো ৩৯ রান করেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠেছিল শন পোলকের হাতে।

চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পাননি মাশরাফি। সে ম্যাচে এশিয়া একাদশের ওপেনার শেওয়াগ ৫২, জয়সুরিয়া ১১, গাঙ্গুলি ৮৮, ধোনি ৩৩, জয়বর্ধানে ৪৫, ইউসুফ ৫১, যুবরাজ ৩০*, রফিক ১ রান করেন। বল হাতে রফিক ১০ ওভারে ৬২ রান দিয়ে তুলে নেন দুটি উইকেট। ডি ভিলিয়ার্স ১৩, সিবান্দা ৩৫, বোটা ডিপেনার ৬৭, বাউচার ৭৩, পোলক ৩৫, জোহান বোথা ১৩, অ্যালবি মরকেল ১৩ রান করেন। রফিক ফিরিয়ে দেন অ্যালবি মরকেল এবং চিগুম্বুরাকে।

চেন্নাইয়ে তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে এশিয়া একাদশের দলপতি জয়াবর্ধনে ১০৭ এবং ধোনি অপরাজিত ১৩৯ রান করেন। মাশরাফি ১ এবং রফিক ০* রান করেন। আফ্রিকা একাদশের ওপেনার ডি ভিলিয়ার্স ৭০, সিবান্দা ৪৫, স্টিভ টিকোলো ১১, জাস্টিন কেম্প ৮৬, বাউচার ৭, পোলক অপরাজিত ৫৮ রান করেন। সেই ম্যাচে মাশরাফি ৯ ওভারে ৫১ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। আর রফিক ১০ ওভারে ৬৫ রান খরচায় তুলে নিয়েছিলেন সর্বোচ্চ চারটি উইকেট। ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স, সিবান্দা, ডিপেনার আর কেম্পকে।

আর বাংলাদেশের জার্সিতে খেলা ২০০ তম ম্যাচে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছেন টাইগার দলপতি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.