ক্রীড়াঙ্গনের পুতুল আপা!

0 46

 

ডেস্ক: পারভিন নাসিমা নাহার পুতুল। একাধারে অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক, ক্রীড়া সাংবাদিক ও সংগঠক। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ‘পুতুল আপা’ নামেই পরিচিত তিনি। কলকাতা ইডেন গার্ডেন্সে ১৯৮৩ সালে স্থানীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের যে নারী ক্রিকেট দল খেলেছিল পুতুল ও তাদের মধ্যে একজন।

মূলত মহিলা হকি দলের হয়েই ক্রীড়াতে আসা তার। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশ প্রথম মহিলা হকি দলের সদস্য। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত পুতুল বাংলাদেশে বিভিন্ন নারী ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছেন। তৎকালীন সময়ে কালেভদ্রে অল্প কিছু নারী খেলাধুলায় আসতেন। তখন খেলাধুলায় আসতে অনেক সংগ্রাম করতে হয় বলে ও জানান পুতুল।

তিনি বলেন, আমাদের বেড়ে ওঠায় প্রতিকূলতা ছিল না বললে একেবারেই ভুল হবে। নারী স্বাধীনতা যে প্রয়োজন সেটা তখনই আমরা সোচ্চার ছিলাম। আমরা ছাত্র রাজনীতি করতাম খেলাধুলা করতাম।

পারিবারিকভাবে পারভিন পুতুলের খেলোয়াড়ি জীবনে বাঁধা ছিল না। তার ভাষ্যে, “বাবা সংস্কৃতিমনা ছিলেন। তিনি চাইতেন যাতে নাচ, গান শিখি। আমার আগ্রহ ছিল খেলা। মা সবসময় বলতেন, যেটা তোর মন চায় সেটাই করবি।”

তখন খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়ার সময়েও মানুষের সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে নারীদের। তিনি এই ব্যাপারে বলেন, “মন্তব্য তো আসবেই, মন্তব্য প্রয়োজন। জীবনে সফল হতে হলে এসব শুনেই হবে। এখন যারা নানাভাবে হেয় হচ্ছেন কটু কথা শুনছেন, তাদের উচিৎ দমে না গিয়ে আরো পরিশ্রম করা।”

পারভিন নাসিমা নাহার পুতুল বাংলাদেশের প্রথম ভলিবল, কাবাডি ও হ্যান্ডবল দলের সদস্য ছিলেন যথাক্রমে ১৯৭৯ ও ১৯৮২ সালে।

২০০৩ সালে মহিলা ফুটবল দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সে বছরই ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের অন্যতম আয়োজকও ছিলেন এই নারী।

২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেন পারভিন পুতুল। সালমা খাতুন, খাদিজাতুল কোবরা, জেসিকার মত ক্রিকেটার যারা জাতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অন্বেষণে ভূমিকা পালন করেন তিনি।

পারভিন নাসিমা নাহার পুতুল প্রশিক্ষক হিসেবেও পেয়েছেন অনেক সাফল্য। ২০০৭ সালে এসিসি মালয়েশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয় জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। ২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে রৌপ্য পদক পায় মহিলা ক্রিকেট দল। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে জয়ী হয়ে ওয়ানডে স্ট্যাটাস অর্জন করে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল। বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলে কোন নারী ম্যানেজার নেই। এই ব্যাপারে পুতুল বলেন, ‘নারী দলে কোনো নারী ম্যানেজার নেই। ব্যাপারটা চোখে পড়ার মত। বিসিবিতে যে নারী দলের দেখভালের দায়িত্বে আছেন তিনিই আবার ম্যানেজার। একজন নারী ম্যানেজার খুবই দরকার’

পারভিন নাসিমা নাহার পুতুল যেসব সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন:

স্প্যানিস অ্যাম্বেসি কর্তৃক বাংলাদেশের সেরা দশ নারী হিসেবে বিশেষ সম্মাননা ২০১৫।

আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ হিসেবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা ২০১১।

মহিলা জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে নারী উদ্যোগ কেন্দ্র কর্তৃক আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বিশেষ সম্মাননা ২০১২।

স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভলপমেন্টের এভি সেন্টার কর্তৃক ২০০৪ সালে শিখর থেকে শিকড়ে প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ।

ক্রীড়া সাংবাদিকতায়ও যুক্ত ছিলেন এই নারী:

তিনি বলেন, “আমি যখন সাংবাদিকতায় আসি তখন বেশিরভাগই ছেলে ছিল। আমার সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া ভাল ছিল। নব্বইয়ের দশকে তো খুব বেশি মেয়ে সাংবাদিকতায় আসতেন না।”

এখনো ক্রীড়াঙ্গনে ছুটে বেড়াচ্ছেন পতুল। যুক্ত আছেন বিভিন্ন ফেডারেশনের সঙ্গে। নিজের জীবনের বেশির ভাগ সময়ই কাটিয়ে দিলেন এই ক্রীড়াঙ্গনে। বর্তমানে পারভিন পুতুল ক্রীড়া সংগঠকের ভূমিকায় মনোনিবেশ করেছেন। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি ও ঢাকা জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসবে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া বাংলাদেশ হ্যান্ডবল রেফারীজ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রাগবি ইউনিয়ন, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন ডেভেলপমেন্ট কমিটির সঙ্গেও যুক্ত।

Leave A Reply

Your email address will not be published.