জীবননগরে আ’লীগের পার্টি অফিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ জামায়াতের সাবেক আমীরসহ বিএনপির এক কর্মি গ্রেফতার

0 447

জীবননগর: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা আওয়ামীলীগের পার্টি অফিস এবং আওয়ামীলীগ নেতা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়ীর সামনে রাস্তার ওপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বুধবার দুপুরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক খলিলুর রহমান৫০) ও খোকা(৪২) নামের এক বিএনপি কর্মিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের ৭২ জন নেতাকর্মিকে আসামি করায় নেতাকর্মিরা গ্রেফতার ভয়ে এলাকা ছাড়া হয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে,জীবননগর শহরের বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে উপজেলা আওয়ামীলীগের পার্টি অফিস এবং পার্টি অফিসের অনুমান ৫০০ গজ দুরে জীবননগর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ অমলের বাড়ী। আব্দুল লতিফ অমল চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি আলী আজগার টগরের অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং জীবননগর উপজেলায় নৌকার নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য। তিনি দিনভর নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে নেতাকর্মিদের দাবী।
এদিকে গত রোববার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে হঠাৎ করেই উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জীবননগর-কালীগঞ্জ মহাসড়কের পাশে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল লতিফ অমলের বাড়ীর সামনে রাস্তার ওপর আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের ৭৩ সক্রিয় নেতাকর্মির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ মামলায় বুধবার দুপুরে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক খলিলুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জীবননগর পোষ্ট অফিসপাড়ার মৃত কেরামত মন্ডলের ছেলে এবং মহেশপুর পদ্মপুকুর শেখ হাসিনা ডিগ্রি কলেজের চাকুরি করেন। অন্যদিকে একই দিন সকালে একই পাড়ার মসলেম উদ্দিনের ছেলে খোকা মিয়াকেও গ্রেফতার করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন,আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা জীবননগর উপজেলায় আমাদের ধানের প্রতিকের যত নির্বাচনী অফিস সবগুলোতে রাতের আধারে হামলা চালিয়ে ও অগ্নিসংযোগ করে নষ্ট করে দিয়েছে। অন্যদিকে উপজেলায় রায়পুর বাজারে তাদের নির্বাচনী অফিস ভাংচুৃও করা হয়েছে মর্মে ৪০ জন নেতাকর্মিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয় এবং ওই ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ,বাঁকা ইউনিয় পরিষদের মেম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান(৪৮) এবং কেডিকে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বিএনপি নেতাক আবুল কালাম আজাদ ঝন্টুকে(৫০) গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। এদিকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা পরিকল্পত ভাবে গত রোববার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে তাদের পার্টি অফিস ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়ীর সামনে রাস্তায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একটি নাটক সাজিয়ে বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মিদেরকে নির্বাচন কালীন সময় এলাকা ছাড়া করতে ৭২ জন নেতাকর্মির বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। ঘটনাস্থলের নিকট বাসষ্ট্যান্ড চত্বরে পুলিশ অবস্থান করাকালীন সময় বিএনপির নেতাকর্মিরা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটাতে পারে এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
বিএনপি নেতা খোকন খান আরো বলেন,মামলা-হামলার ভয়ে পুরো চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আমাদের প্রার্থী গণসংযোগ করতে পারছেন না। অন্যদিকে হাজার হাজার নেতাকর্মি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। তার ওপর আবার একের পর এক মিথ্যা মামলায় নেতাকর্মিদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এ অবস্থায় কি ভাবে আমরা মাঠে নির্বাচন করব? আশ্চার্ষের ব্যাপার হচ্ছে সম্প্রতি পৌর এলাকায় আমাদের সবগুলো নির্বাচনী অফিসে এক যোগে হামলা চালিয়ে ও অগ্নিসংযোগ করে অফিস নষ্ট করা হয় এবং ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় আওয়ামীলীগের পার্টি অফিসে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা। এ দু’টি ঘটনার আগে রহস্যজনক ভাবে এলাকায় কারেন্ট ছিল না। আসলে যা কিছু হচ্ছে তা পুলিশ-আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিরা মিলেই করছেন।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া বলেন,উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক খলিলুর রহমান ও বিএনপি নেতা খোকা মিয়াকে গত রোববার আওয়ামীলীগ অফিস ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়ীর সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।#####

Leave A Reply

Your email address will not be published.