সাফল্যের বছরে দুই ফাইনালের আক্ষেপ!

0 44

 

ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ২০১৮ সাল কেটেছে হেসে খেলেই। বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। তবে বেড়েছে একটি ট্রফির অপেক্ষা। বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা আলোচিত এই বছরটিতে ওয়ানডের দুইটি ফাইনাল খেলেও শিরোপার স্বাদ যেন তীরে এসে তরী ডোবার মতোই। ত্রিদেশীয় সিরিজ ও এশিয়া কাপ জয়ের মুকুট অধরাই থেকে গেল টিম বাংলাদেশের।

বছরের শুরুটা দারুণ হয়েছিল বাংলাদেশের। বছরের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে আট উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে-শ্রীলংকা নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভসূচনা করে টাইগাররা। এরপর শ্রীলংকাকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালের পথ সুগম করে বাংলাদেশ। ১৬৩ রানে জেতে বাংলাদেশ। এরপর জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করলেও ফাইনালের স্মৃতিটা সুখকর ছিল টিম টাইগারদের।

ফাইনালে আঙুলে চোট পেয়ে মাঝপথে ছিটকে যান সাকিব আল হাসান। আর ম্যাচে ফেরা হয়নি তার। ফাইনালে ২২২ রান তাড়া করতে নেমে ৭৯ রানে হারে বাংলাদেশ।

পরবর্তী ওয়ানডে ম্যাচের জন্য প্রায় পাঁচ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে টাইগারদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪৮ রানে জেতে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজ জয়ের হাতছানি থাকলেও শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে স্লগ ওভারের ব্যাটিং ব্যর্থতায় হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ হারতে হয় তিন রানে। অবশ্য পরের ম্যাচে স্বাগতিকদের ১৮ রানে হারিয়ে ২-১ এ সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। নয় বছর পর দেশের বাইরে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। ওই সিরিজে তিন ম্যাচে দুইটি শতক হাঁকান ওপেনার তামিম ইকবাল।

এ বছর বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অধ্যায় এশিয়া কাপ। সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজিত হয় এশিয়া কাপ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকাকে ১৩৭ রানে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের শুরুতেই বল এসে লাগে তামিম ইকবালের হাতে। কব্জিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তামিম ইকবাল। তবে দলের প্রয়োজনে নয় উইকেট পতনের পর এক হাত দিয়েই ব্যাটিং করেন তামিম। দলের প্রয়োজনে তার এমন নিবেদন ঝড় তুলে ক্রিকেটবিশ্বে। ওই ম্যাচেই পাঁজরের চোটকে পাত্তা না দিয়ে ১৪৪ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিকুর রহিম। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইনিংসের গুরুত্ব, পারিপার্শ্বিকতাকে জয় কিংবা রানের হিসেব- সব মাপকাঠিতেই মুশফিকুর রহিমের ওই ইনিংসটি বাংলাদেশের জন্য এ বছরের সেরা ওয়ানডে ইনিংস।

এরপর আফগানিস্তানের কাছে ১৩৬ রানে ও ভারতের কাছে ৭ উইকেটে হেরে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। তবে এরপর ঘুরে দাঁড়ায় দারুণভাবে। আফগানিস্তানকে টান টান উত্তেজনার ম্যাচে ৩ রানে ও পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে ম্যাচটি হারতে হয় তিন উইকেটে। শিরোপা থাকে অধরা।

এরপর দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ জিতেছে দাপটের সঙ্গে। চোটের কারণে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল না খেললেও তাদের অনুপস্থিতি টের পাওয়া যায়নি। ব্যাটিংয়ে ইমরুল কায়েস প্রথম ওয়ানডেতে ১৪৪ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন। এ সিরিজ দিয়ে ফের দলে ফিরেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজদেরকে তাদের মাটিতে হারানোর পর দেশের মাটিতেও সাফল্য পায় বাংলাদেশ। ২-১ এ সিরিজ জেতে বাংলাদেশ।

পুরো বছরে ২০ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১৩ টি জিতেছে বাংলাদেশ। জয়ের শতাংশ ৬৫। সাফল্যের হারে ২০১৮ সালের ওয়ানডেতে চতুর্থ সেরা দল। বাংলাদেশের আগে থাকা তিনটি দলের মধ্যে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং ভারত।

সাফল্যের রঙয়ের ছটা পুরো বছর জুড়ে থাকলেও ট্রফি না জেতার আক্ষেপ মনের কোণা থেকে সরানো হয়নি। তবে যে ধারাবাহিকতা বছরজুড়ে বিরাজমান ছিল তাতে দরজায় কড়া নাড়া ২০১৯ সালের জন্য আত্মবিশ্বাসী মাশরাফির দল। ২০১৯ সালের প্রথম মিশন নিউজিল্যান্ড সফর। সঙ্গে রয়েছে বিশ্বকাপও। আসন্ন বছরটাকে স্মরণীয় করে রাখার মতো প্ল্যাটফর্মও কম নেই। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ চাইবে ২০১৯ সালটাতেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.