জীবননগর বাঁকায় দুর্বৃত্তদের আগুনে বাড়ী ঘর ভস্মিভুত: নগদ টাকাসহ দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

0 273

 

জীবননগর:চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামে রাতের আধারে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে সক্রিয় এক বিএনপি কর্মির বাড়ী ঘর পুড়ে ভস্মিভুত হয়েছে। ঘটনাটি বুধবার গভীর রাতে সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

সরজমিনে জানা গেছে,জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার প্রান্তিক কৃষক ফজলুল হকের দু’ছেলে বাবু(৪০) ও আনোয়ার হোসেন(৩৭) বিএনপির সক্রিয় কর্মি হিসাবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। আসন্ন জাতীয় সংসদের নির্বাচনী তফশলীল ঘোষনার পর পরই তাদের স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মিদের অত্যাচার-নির্যাতন নেমে আসে। এক পর্যায়ে তারা হামলা-মামলার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালায়। এক পর্যায়ে গত বুথবার গভীর রাতে তাদের বাড়ীতে আগুন দিয়ে ঘরের ভিতরে থাকা নগদ টাকাসহ প্রয়োজনীয় সমস্ত আসবাবপত্র ও ব্যবহৃত কাপড় চোপড় পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের গৃহবধূ শিল্পী খাতুন বলেন,আমার স্বামী বাবুসহ আমাদের পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। এলাকায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদেরকে আওয়ামীলীগের লোকজন নানা ভাবে হুমকি ধামকী দিয়ে আসছিল ভোট না করার জন্য। এক পর্যায়ে আমার স্বামী ও দেবর আনোয়ার আওয়ামীলীগ নেতাকর্মিদের হুমকি ধামকী আর পুলিশের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আমি নিজেও নিরাপত্তার অভাবে সারাদিন বাড়ীতে থাকলেও রাতের বেলা আমার মামা শ্বশুর রবিউলের বাড়ীতে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে থাকি। এক পর্যায়ে বুধবার রাত অনুমান দুইটার দিকে হঠাৎ ঘরের আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পাই। আগুনে এনজিও থেকে তোলা ৩২ হাজার টাকা এবং সমিতির ২৫ সদস্যের গচ্ছিত আরো ২৩ হাজার ৭৫০ টাকা মোট ৫৫ হাজার ৭৫০ টাকা,একটি এলইডি টিভি,বাক্য্র,গ্যাস চুলা,আলনা,ড্রেসিং টেবিল,র‌্যাকসহ ঘরের থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে গিয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে দরজা,জানালা পুড়ে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে। আমরা রাতে বাড়ীতে না থাকার কারণে বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ থাকে। দুর্বৃত্তরা ঘরের ভিতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। আমার বিশ্বাস দলদারির কারণে প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কারা ঘটিয়েছে তা আমরা বলব না কারণ নাম বললে আরো বিপদ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

ফজলুল হক বলেন,আমি ঘটনার রাতে ঘরের বারান্দায় শুয়ে ছিলাম। ওই রাত অনুমান দুইটা হবে,এমন সময় দু’জন লোক আমার ছেলে বাবুর ঘরে ওঠে। আমি মনে করি আমার ছেলের বউ-ছেলেরা। পরে ওই দু’জন ঘর থেকে নেমে যাওয়ার কিছুক্ষন পর ঘরের ভিতরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে জ্বলতে থাকে। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরের সমস্ত মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে যায়। ঘটনার সাথে কারা জড়িত জানলেও তা বলার উপায় নেই। কারণ দুর্বৃত্তদের নাম বললেই আরো সমস্যা হতে পারে। মামলা করে আর কি হবে বলেন!

বাঁকা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন ফরজ বলেন,আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিদের সাথে তাদের কোন বিরোধ নেই। তাদেরকে হুমকি ধামকী দেয়ার কথাও ঠিক নয়। বাবুর স্ত্রী মূলত: বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে টাকা ধার নিয়ে ঋণে জর্জরিত। সে এনজিও হতে লোন নিয়েছে। পাওনাদারদেরকে ঠেকিয়ে রাখতে নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুন দিয়ে এখন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিদের ওপর দোষ চাপানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া বলেন,ঘটনার ব্যাপারে আমার কোন কিছু জানা নেই। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.