রওশন না জি এম কাদের, কে হচ্ছেন বিরোধী নেতা?

0 66

 

ডেস্ক: আগের ধারায় বিরোধী দলে থেকেই সরকারের অংশ হতে চায় জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে এবার বিরোধী ভূমিকায় আসতে পারে ভিন্নতা। সেইসঙ্গে বিরোধী নেতায় আসতে পারে পরিবর্তন। রওশন এরশাদ মত দিলে, বিরোধী নেতা হবেন এরশাদের অবর্তমানের পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে বিরোধী নেতা হিসেবে এখনো চাওড় হচ্ছে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের নাম।

অন্যদিকে শারীরিক অসুস্থতায় প্রায় ন্যুজ্ব জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও হতে চান বিরোধী দলীয় নেতা। কিন্তু এর সবই নির্ভর করছে মহাজোট নেতা শেখ হাসিনা ও বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতার সিন্ধান্তের ওপর। তবে সংসদ নেতার আস্থার দিক থেকে এগিয়ে আছেন রওশন এরশাদই।

জাপার সংসদীয় দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার সংসদ নেতা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে রওশন এরশাদের পছন্দের ব্যক্তি তার দেবর পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মুহম্মদ কাদের। সে হিসেবে ধরে নেয়া যায়- সংসদ নেতা ও বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতার মতামতে নতুন বিরোধী নেতা হচ্ছেন এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের।

এদিকে সরকারের অংশীদার নাকি পুরোপুরি বিরোধী ভূমিকা নেবে জাতীয় পার্টি, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের। সংসদীয় দলের সভা শেষে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, গেল বারের মতোই সরকারের সঙ্গেই থাকছে জাপা। তারা পুরোপুরি বিরোধীদল হতে আগ্রহী নয়। বিগত সংসদের মতোই সরকারে থাকতে চায়।

পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠক থেকে বেরিয়ে মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা জানান, মহাজোটে ছিলাম, আছি থাকবো। তিনি আরো বলেন, আমরা মহাজোট থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছি। মহাজোটের সঙ্গেই থাকার বিষয়ে এমপিরা অভিমত দিয়েছেন।

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম জানান, জাপার নেতারা চান সরকারে থাকতে। কারণ সবাইতো মহাজোটের হয়ে নির্বাচিত। রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুরা যদি মহাজোটে নির্বাচিত হয়ে সরকারে থাকতে পারেন, তাহলে জাপা পারবে না কেন। তারপরও বৃহত্তর স্বার্থে যদি বিরোধী দলের ভূমিকা নিতে হয়, তাহলে জাপা তাই করবে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে মহাজোট নেতা শেখ হাসিনার মতামতের ওপর।

পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চলাচলে কষ্ট হয়- এমন অসুস্থতা ভুগছেন। এ অবস্থায় তার বিরোধী দলের নেতা হওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও দলের একটি অংশ চায় শেষ বয়সে এরশাদই হোক বিরোধী দলীয় নেতা। সুযোগ সুবিধা পাওয়া না পাওয়ার হিসেব মিলিয়ে দলের এসব নেতা রওশনের পরিবর্তে এরশাদকেই বিরোধী দলীয় নেতা করতে চান। দলের ওই অংশের নেতাকর্মীরা এরইমধ্যে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রওশনের পরিবর্তে এরশাদকে নেতা করার দাবিও তুলেছেন।

তবে ভিন্নমত পোষণ করে প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী জানান, যদি জাপা সংসদে বিরোধী দল হয়, এক্ষেত্রে পার্টির চেয়ারম্যানের সম্মতিতেই আবারো দলের জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদই বিরোধী নেতা হবেন। দশম সংসদে তার গঠনমূলক ভূমিকা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। দেশবাসীর কাছেও তিনি গ্রহণযোগ্য হয়েছেন। একদিকে তিনি সরকারের ভাল কাজে সমর্থন দিয়েছেন, অন্যদিকে জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডে সরকারের কঠোর সমালোচনা করতে ছাড় দেননি।

ফাইল ছোঁড়াছুড়ি, অশালীন মন্তব্য, গালি-গালাজের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির ইতিবাচক ভূমিকা সংসদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর জাপা বিরোধী দল হচ্ছে বলে আভাস দেন মহাজোটের শীর্ষনেতারা। সবকিছু মিলিয়ে একাদশ সংসদে দলগতভাবে ২২ আসন নিয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টিই হচ্ছে বিরোধী দল।

Leave A Reply

Your email address will not be published.