চুয়াডাঙ্গায় পশু কোরবানির সংখ্যা গতবারের তুলনায় এবার অর্ধেক

0 66

 

স্টাফ রিপোর্টার:গতবারের তুলনায় চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির সংখ্যা এবার অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে।
কেন? অর্থনৈতিক প্রভাব নাকি কোরবানির পশুর দাম চড়া? পক্ষে বিপক্ষে যুক্তির অন্ত না থাকলেও গরু-ছাগল পালনকারী কৃষক ও খামারিদের লোকসান-দুর্ভোগ নিয়ে বিতর্ক নেই। যদিও কোনো কোনো খামারি নিজের বাড়ি গরু মোটাতাজা করে বাড়ি বসে একটি গরুর দাম ৬ লাখের প্রস্তাব পেলেও আরও বেশি পাওয়ার আশায় ঢাকায় নিয়ে বেঁচতে না পেরে ফেরত আনতে বাধ্য হয়েছেন।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার মাদারহুদার তরিকুল ইসলাম নিজের বাড়িতে দুটি গরু মোটাতাজা করেন। এবার কোরবানির আগে যখন কেনাবেচা শুরু হয় তখন একটি গরুর মূল্য বাড়িতে বসেই ৬ লাখ টাকা পাচ্ছিলেন। তিনি ওই দরে বাড়িতে বসে তা বিক্রি না করে দুটি গরু ঢাকার কোরবানির হাটে নেন। ঢাকায় প্রত্যাশিত দর তো দূরের কথা, উপযুক্ত দামও হাকেননি তেমন কেউ। ফলে গরু দুটি বাড়ি ফিরিয়ে নিতে হয়েছে। একটি অসুস্থ হয়ে পড়লে গতকাল মঙ্গলবার একটি জবাই করে মাংস বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এরকম অনেকেই রয়েছেন যারা গরু ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতে না পেরে শত দুর্ভোগের শিকার হয়ে বাড়ি বা খামারে ফিরিয়ে নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছেন। এদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সরোজগঞ্জের ইবাদুুল হক ২০টি গরু নিয়ে ঢাকার হাটে গিয়ে ১০টি বিক্রি করতে পারলেও বাকি ১০টি ফেরত আনতে বাধ্য হয়েছেন। গরু ঢাকায় নিয়ে তা বিক্রি করতে না পেরে আবার ফিরিয়ে আনা যে কতোটা দুর্ভোগ আর লোকসান তা ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ বলতে পারবেন না বলে মন্তব্য করে কয়েকজন বলেছেন, ঢাকায় কোরবানির পশু হাটে এবার মাঝারি ধরনের গরুই বেশি বেচাকেনা হয়েছে। ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মূল্যমানের গরু বিক্রি করতে তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু চড়া দামের গরু? আলমডাঙ্গার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক একটি গরু ঢাকায় নিলেও তিনি তা শেষ পর্যন্ত ফেরত আনতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা পশু সম্পদসূত্র। আলুকদিয়া বাজারে মাহফুজুর রহমান ৬টি গরু ঢাকায় নিলেও তিনি ৩টি গরু ফেরত এনেছেন। আলমডাঙ্গা কামালপুরের রানাকে তো ৩৮টি গরুর মধ্যে ৩৩টিই ফেরত আনতে হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার হিজলগাড়ি কোটালির লাল মিয়ারও মনকষ্ট যেন যাচ্ছে না কিছুতেই। তিনি তার বাড়িতে মোটাতাজা করা একটি গরুর দাম বাড়িতে বসেই পাচ্ছিলেন ৪ লাখ টাকা। ওই দরে তা বিক্রি না করে নেন ঢাকায়। বাধ্য হয়ে ফেরত এনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। অবশ্য তিনি তার মনোকষ্টের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করতে না রাজ।
ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংসহ দেশের বড় বড় শহরে কোরবানির আগে পশুহাটে গরু-ছাগল নিয়ে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার সংখ্যা এবার তুলনামূলক অনেকটাই বেশি। কোরবানি দেয়ার সংখ্যা যেমন সারা দেশেই কমেছে, তেমনই চড়া দামে গরু কিনে লোকদেখানো কোরবানির রেওয়াজও হ্রাস পেয়েছে। তা না হলে ৫ লাখ, ৬ লাখ টাকার গরু কি ফিরিয়ে আনতে হয়? এরকমই মন্তব্য করে চুয়াডাঙ্গা জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এএইচএম শামিমুজ্জামান বলেছেন, চুয়াডাঙ্গায় গতবারের তুলনায় এবার কোরবানির সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৪ হাজার ৪শ ২৯টি গরু, ২৭টি মোষ, ছাগল তথা খাসি ৬৫ হাজার ৮শ ৫৬টি ও ভেড়া ৭শ ৭৫টি কোরবানি দেয়া হয়েছে। প্রাপ্ত এ পরিসংখ্যান অনুাযায়ী জেলায় মোট কোরবানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৮৭টি। যা গতবার ছিলো ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬শ ২৮টি। এর মধ্যে গরু ছিলো ৩৪ হাজার ৭শ ৮৩টি। এবার গরুর সংখ্যা ১৫ হাজারও পোজেনি।
প্রসঙ্গতঃ এবার ভারত থেকে গরু আমদানি হয়নি বললেই চলে। এলাকায় ঘরে ঘরে ও খামারে গরু ছাগল পালনের মধ্যদিয়ে দেশের মাংসের চাহিদা পূরণের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। কোরবানির পশু হাটেও স্থানীয়ভাবে পালন করা গরু ছাগল চাহিদা পূরণে সক্ষমতার নজির গড়েছে। তবে খামারিদের অনুযোগ, প্রত্যাশিত মূল্য মেলেনি। একটি গরু পালনে যে খরচ সেই খরচ অনুপাতে দাম ওঠেনি। খামারিরা এ অনুযোগ করলেও ভোক্তা ক্রেতা সাধারণের ভিন্নমত। তাদের দাবি, হাটে গো মাংসের দাম যখন সাড়ে ৪শ তখন কোরবানির পশুহাটে গরু কিনতে গেলে গরুর দাম আনুমানিক মাংসের তুলনায় অনেক বেশি দাম হাকা হয়েছে। তাছাড়া মানুষের হাতে কাচা টাকারও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.