দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: প্রধানমন্ত্রী

0 16

 

ডেস্ক: নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি ঘোষণা করেছে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং এর অর্জন সমুন্নত রাখতে দুর্নীতিবিরোধী লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি দুর্নীতির পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলের ক্ষেত্রেও সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবারের মতো শপথ নেয়ার পর রোববার তেজগাঁয়ে তাঁর নিজ কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও কোন দেশের পক্ষেই শতভাগ দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সরকারের একটা দায়িত্ব হলো এই দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। যাতে এটি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে না পারে এবং আমাদের সকল সাফল্য ম্লান করে না দেয়।- বাসস

সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ও মাদক নির্মূলের ক্ষেত্রে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনা দেশে বারংবার ঘটেছে। কিন্তু আমরা দেশকে এই অবস্থা থেকে মুক্ত করতে পেরেছি। প্রযুক্তির বদৌলতে এই সাফল্য এসেছে এবং এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের একটা ভাল ফল।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের দেশের উন্নয়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশের জনগণের কল্যাণে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, যাতে জনগণ তার সুফল ভোগ করতে পারে। আমরা দেশকে উন্নত ও সম্ভাবনাময় জাতিতে পরিণত করতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছি। এটাকে অবশ্যই আমাদের ধরে রাখতে হবে।

শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে সব সময় তার সরকারকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় সকল প্রকার উন্নয়ন কাজ শেষ করতে চাই, যাতে করে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। দেশ সকল ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। বিশ্বের সাথে বাংলাদেশও শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আর অপরের উপর নির্ভরশীল থাকবো না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর যেন দেশে স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসতে না পারে তার জন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা চাই যে বা যারা দেশের ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করবে এবং উন্নয়নকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে। বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের কারণে বিশ্ববাসী আমাদের দেশকে সম্মানের চোখে দেখে থাকে। কিন্তু এক সময় বাংলাদেশকে খরা, দুর্ভিক্ষ, বন্যার দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত লাভ করেছিলো। যা আমাদের কষ্ট দিতো। আর আমরা এটাকে সহ্য করতে চাই না। তিনি বলেন, সেই সময় থেকে আমি মনে করতাম আর কাউকে দেশকে খাটো করতে দেবো না। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছি তাই সব সময় মাথা উচু করে থাকতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এমনকি পাকিস্তানি জনগণ আমাদের ব্যাপক উন্নয়ন দেখে বাংলাদেশের মতো তাদের দেশকে রূপান্তরিত হতে দেখতে চায় এবং এর চেয়ে আনন্দের মূহুর্ত আর হতে পারে না। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের জনগণের সেবা করার ব্যাপারে কোন চিন্তা ছিল না। ‘কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কিভাবে কাজ করা যায় সেকথা চিন্তা করে এবং ওই চিন্তার কারণে আমরা তাদের জন্য কি করেছি।

শেখ হাসিনা চলমান প্রকল্পসমূহ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগের মেয়াদগুলোর মতো শিগগিরই মন্ত্রণালয়সমূহ পরিদর্শন শুরু করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার ব্যাপারে তার লক্ষ্যের কথা পুনঃব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা ২০২০-২০২১ সালে ব্যাপক ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘মুজিব বর্ষ’ পালনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ এবং এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমাম, ড. মসিউর রহমান, ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়কারি এম. আবুল কালাম আজাদ।

এরআগে, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব, উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন অনুবিভাগের কর্মকর্তা, এসএসএফ-এর মহাপরিচালক ও অন্যান্য পরিচালকরা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.