সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রী ঠিক করব: মমতা

0 48

 

ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কে প্রধানমন্ত্রী হবে তা ভাবার কোন দরকার নেই। নির্বাচনের পরে আমরা সবাই মিলে তা ঠিক করব। তিনি আরো বলেন, মোদী সরকারের এক্সপায়ারি ডেট এসে গেছে।

শনিবার কলকাতার ব্রিগেড মঞ্চের সমাবেশে অংশ নেয়া নেতারা আয়োজনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানান। সেই সঙ্গে সমাবেশকে মজবুত বিরোধী ঐক্যের ডাক বলেও অভিহিত করেন তারা। সমাবেশে দিল্লির মসনদ থেকে যে কোনো মূল্যে নরেন্দ্র মোদীকে সরানোরও ঘোষণা দেয় তরুণ নেতারা।

জনস্রোত দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তরুণ বক্তা তথা সমাবেশের প্রথম বক্তা হার্দিক প্যাটেল। কিছুক্ষণ পরে ভিড়ের চেহারা দেখে একই রকম বিস্ময় প্রকাশ করেন আরএলডি প্রধান অজিত সিংহের ছেলে জয়ন্ত।

পরে সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব বলেন, যত দূর পর্যন্ত চোখ যাচ্ছে, দেখছি শুধু মাথা আর মাথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা মেগা সমাবেশ এভাবেই চোখ ধাঁধিয়ে দিল জাতীয় রাজনীতির রথী-মহারথীদের। এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল এতো বড় সমাবেশ করে বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের ডাক দিল।

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপি বিরোধী প্রায় সব শক্তির মধ্যে সমঝোতা তৈরির প্রয়াস বছর খানেক ধরেই চলছে। কখনো অখিলেশ বা অরবিন্দ কেজরীওয়ালের ডাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে গিয়েছেন লখনউ বা দিল্লিতে। কখনো সনিয়া গান্ধীর ডাকে দিল্লিতে বৈঠকে বসেছে বিভিন্ন বিরোধী দল। কখনো চন্দ্রবাবু নায়ডু সচেষ্ট হয়েছেন। কিন্তু বিজেপি বিরোধী প্রায় সব দলকে এক মঞ্চে এনে এত বড় প্রকাশ্য সমাবেশ এই প্রথম।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেবেগৌড়া থেকে মারাঠা স্ট্রংম্যান শরদ পওয়ার, লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে থেকে তেলুগু দেশম সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নায়ডু, আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল থেকে ডিএমকে সুপ্রিমো এম কে স্ট্যালিন- প্রত্যেকে এ দিন পঞ্চমুখে প্রশংসা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব বলেন, ‘বাংলা থেকে আজ যা শুরু হল, গোটা দেশে এ বার তা-ই চলবে।’

‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র‌্যালি’- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নামই দিয়েছেন এ দিনের সমাবেশে। মোদী বিরোধিতার তাগিদেই হোক বা অন্য কোনো কারণে, ভারতের সব প্রান্ত থেকে প্রায় সব উল্লেখযোগ্য অ-বিজেপি শক্তি যেভাবে এ দিন হাজির হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে, তা মোদী জমানায় কখনো দেখা যায়নি।

২০১৯-এ নতুন সরকার গড়ার, ঐক্যবদ্ধ ভারত গড়ার ডাক দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে একমঞ্চে বিরোধীদের সামিল করতে পেরেছেন তার প্রশংসা করেন নেতারা। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ‘অপশাসন, দুর্নীতি এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো অকেজো করে দেয়ার বিরুদ্ধে সকাল থেকেই একের পর এক নেতা সরব হয়েছেন।

মোদী সরকারের অধীনে দেশ বিপর্যস্ত। এই সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট হয়ে লড়তে হবে। সেই বার্তা দিতেই তিনি এই মঞ্চে হাজির হয়েছেন বলে জানান যশবন্ত সিন্‌হা। তিনি বলেন, ‘৫৬ মাসে দেশ বিপর্যস্ত। দেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত। দেশের আর্থিক ব্যবস্থা লৌপাট হয়ে গেছে।’

‘মোদী হটাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগান তুলে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শরদ পওয়ার, অখিলেশ যাদব, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর প্রতিনিধি সতীশ মিশ্র, চন্দ্রবাবু নায়ডু, যশবন্ত সিন্‌হা, অরবিন্দ কেজরীওয়াল, এইচ ডি দেবগৌড়া, ওমর আবদুল্লা, ফারুক আবদুল্লা, এম কে স্ট্যালিন, গেগং আপাং, হেমন্ত সরেনের মতো প্রথম সারির নেতারা। বিরোধী ঐক্যের এই মঞ্চে হাজির হয়েছেন হার্দিক প্যাটেল, জিগ্নেশ মেবাণী।

Leave A Reply

Your email address will not be published.