পোশাক খাত নিরাপদ রাখতে আরসিসি শক্তিশালী হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

0 35

 

ডেস্ক: দেশের রফতানিমুখী শীর্ষ খাত তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানাগুলো নিরাপদ ও কর্মবান্ধব রাখতে রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেলকে (আরসিসি) উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক দেশের প্রায় সব কারখানা ইনেসপেকশন (পরিদর্শন) সম্পন্ন হয়েছে। এগুলো ঠিকভাবে পরিচালনার জন্য তদারকি চলছে। অ্যাকর্ড ও এলায়েন্সের কার্যক্রমের পর যাতে দেশের পোশাক কারখানাগুলো নিরাপদে পরিচালিত হয়, সেজন্য সরকার আরসিসি গঠন করেছে। এখানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল রয়েছে। তৈরি পোশাকের ক্রেতা গোষ্ঠীও এতে সন্তুষ্ট।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত রেন্সজে টেরিংক (Rensje Teerink) এর সঙ্গে মতবিনিময় শেষে করে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন প্রায় ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য ইইউতে রফতানি করছে। সংস্থাটি ‘এভ্রিথিংস বাট আর্মস (ইবিএ)’ এর আওতায় বাংলাদেশকে বাণিজ্য সুবিধা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশ এতে উপকৃত হচ্ছে। ইইউ’র সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধান করা হবে।

এ প্রেক্ষিতে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবার পর ইইউ বাংলাদেশকে প্রদত্ত বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসময় টিপু মুনশি ইইউকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ১০০টি বিশেষ অথনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন চমৎকার বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে। এখানে বিনিয়োগ করলে ইইউ ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হবেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে বাণিজ্য করছে। উভয়ের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আরো বাড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশে বিনিয়োগও করতে চাই আমরা। তবে এক্ষেত্রে কিছু জটিলতা আছে। এজন্য বাংলাদেশকে জটিলতাগুলোর অবসান করতে হবে। এছাড়া তৈরি পোশাক কারখাগুলোকেও নিরাপদ রাখতে আরসিসি শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি ক্রেতারা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। বাংলাদেশে পোশাক কারখানাগুলোর অনেক উন্নতি হয়েছে। শ্রমিকরা এখন নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছেন। এখানে অনেক গ্রিন ফ্যাক্টরিও গড়ে উঠছে।

অন্যান্যর মধ্যে বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) তপন কান্তি ঘোষ, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ-২) বদরুল আহসান বাবুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.