২০১৯-২০ অর্থবছরে ইইউতে পোশাক রফতানি কমেছে ৬.১৮ শতাংশ

বিশ্বজুড়ে মন্দা ও প্রবল প্রতিযোগিতায় পোশাক খাত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির দিকে হাঁটছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি মাত্র ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। এছাড়া চীনে করোনা ভাইরাসের বিস্তারে এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করা যাচ্ছে না। কাঁচামাল সংকটের কারণে বিদেশী ক্রয়াদেশও নেয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে গত এক বছরে ১৪৩টি নিট ও ওভেন পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। যেখানে ৭৩ হাজার কর্মী কর্মচ্যুত হয়েছেন। 

শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে ‘পোশাক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি’ নিয়ে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

সভায় বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দেশের তৈরি পোশাকের ৬০ ভাগ রফতানি হয় সেখানে। কিন্তু ইইউতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রফতানি কমেছে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। ইইউতে বিশ্বের রফতানিকারকদের মধ্যে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। করোনা ভাইরাসের কারণে চীনের রফতানি কমে যাওয়ার সুযোগ বাংলাদেশ নিতে পারেনি। সে সুযোগ নিয়েছে ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, শ্রীলংকার মতো দেশ। সম্প্রতি ভিয়েতনামের সঙ্গে এফটিএ চুক্তি করেছে ইইউ। যার প্রভাব আমাদের পোশাক খাতকে আরো প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাব আমাদের পোশাক খাতের ওপর পড়েছে। চীন থেকে বাংলাদেশে ভোগ্যপণ্য, পোশাক শিল্পের কাঁচামালসহ আমদানি হয় ১৩ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। যার মধ্যে ৩৭ শতাংশই হলো পোশাক খাতের কাঁচামাল। সেজন্য চীনের বিকল্প আমাদের হাতে নেই। এখন যদি পাকিস্তান কিংবা কোরিয়া থেকে ফ্যাব্রিকস কিংবা অ্যাকসেসরিজ আমদানি করতে হয়, তাহলে খরচ দ্বিগুণ পড়বে। এ কারণে আমাদের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। নয়তো অনেক কারখানা লিড টাইমের মধ্যে রফতানি করতে পারবে না। ফলে এয়ারশিপমেন্ট বা ডিসকাউন্টের মুখোমুখি হতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাব কিছু দিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে না এলে অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। আসন্ন দুই ঈদে বেতন-বোনাস নিয়ে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাছাড়া চীনের বিকল্প হিসেবে বিদেশী বায়াররা আমাদের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু কাঁচামাল সংকটের কারণে আমরা সেই সুযোগ নিতে পারছি না।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.