আদালতের নিষেধাজ্ঞাও মানলেন না কাদের মির্জা

আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা তার লোকজন দিয়ে উপজেলা বিএনপি সভাপতির পারিবারিক মার্কেটের অংশ ভেঙে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

প্রশাসন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিপণিবিতান ভাঙার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

হঠাৎ করে বিপণিবিতান ভাংচুর শুরু করলে এখানকার ব্যবসায়ীরা হতবাক হয়ে পড়েন। এতে দোকানে থাকা ব্যবসায়ীদের মালামাল নষ্ট হয়ে তারা বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

জানা গেছে, বিপণিবিতানের যে অংশ ভাঙা হচ্ছে সেখানে ১২ জন ব্যবসায়ীর বিভিন্ন পণ্যের দোকান ছিল। কিন্তু মেয়র ও তার লোকজনের ভয়ে ব্যবসায়ীদের কেউই এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।

তবে ভাংচুর শুরু হওয়ার পর অনেকে নিরুপায় হয়ে কিছু মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার থেকে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা ও তার শতাধিক অনুসারীর উপস্থিতিতে পৌরসভার কর্মচারী ও শ্রমিকরা বসুরহাটের জিরো পয়েন্টের ওই বিপণিবিতানের খালপাড়ের প্রায় ১০ ফুট অংশ ভাঙা শুরু করেন।

১৯৯৯ সালে উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবদুল হাই সেলিম পারিবারিকভাবে প্রায় ১৬ শতাংশ জমির ওপর বিপণিবিতানটি নির্মাণ করেন বলে জানান।

আবদুল হাই সেলিমের ছোটভাই বেলায়েত হোসেন স্বপন জানান, তাদের বিপণিবিতানটি সরকারি জায়গায় পড়েছে দাবি করে ২০২০ সালের প্রথম দিকে কাদের মির্জা তাদের একটি চিঠি দেন।

ওই চিঠির বিরুদ্ধে তারা জেলা সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন। পরে ওই বছরের ৪ মার্চ আদালত থেকে বিপণিবিতানের বিষয়ে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার জন্য আদেশ জারি করা হয়।

ওই আদেশ এখনো বলবৎ রয়েছে। এরই মধ্যে শুক্রবার সকাল থেকে কাদের মির্জা দলবল নিয়ে বিপণিবিতানটি ভাঙা শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে কাদের মির্জা ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ বলেন, এটি বসুরহাট পৌরসভার বিষয়। পৌরসভার কার্যক্রম সম্পূর্ণ পৌর মেয়রের এখতিয়ার। দলীয় কোনো বিষয় হলে আমি সেই বিষয়ে মতামত দেব।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ওই বিপণিবিতানের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মেয়র কাদের মির্জাকে জানানো হয়েছে। তিনি স্থগিতাদেশ না মানলে আমরা কী করতে পারি?

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.