উহান থেকে বিশেষ ফ্লাইটে ২৩ বাংলাদেশি দিল্লিতে

করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহান থেকে ভারতীয় বিশেষ ফ্লাইটে ২৩ বাংলাদেশিকে দিল্লিতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় ৭৬ নাগরিকের সঙ্গে ওই ফ্লাইটে করে তাদের দিল্লিতে আনা হয়।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের এখন দিল্লির উপশহরে বিশেষ ব্যবস্থায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে বলেও ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে চীন থেকে ৩১৪ বাংলাদেশিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায়া আনা হয়। পরে তাদের আশকোনার হজ ক্যাম্পে রাখা হয়। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে উহান থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে ছয় শতাধিক ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

গত বছর ডিসেম্বরে চীন থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৮০৩ জন নিহত হয়েছে। শুধুমাত্র চীনে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪৭ জন। চীনের বাইরে নিহত হয়েছে ৫৬ জন। এর মধ্যে ইরানে ১৯, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২, ইটালিতে ১২, জাপান ৭, হংকং ও ফ্রান্স ২, ফিলিপাইন এবং তাইওয়ানে ১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছে ৪০ জন। 

এ ভাইরাসে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৪৯৯ জন এবং চীনের বাইরে ৩ হাজার ৬৬৭ জন। সবমিলিয়ে পুরো বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ১৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ হাজার ৪৬৯ জনের অবস্থা আশঙ্কানক। এখন পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ৮১২ জন সুস্থ হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সকালে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, চীনে নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৩৫ জন এবং মারা গেছে ৩২ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৭৮ হাজার ৪৯৯ জন এবং মারা গেছে ২ হাজার ৭৪৭ জন। 

হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান, সেখানাকার একটি জীবন্ত প্রাণী বিক্রির বাজার থেকে ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীন হুবেই প্রদেশকে পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ওই অঞ্চলের সাথে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। 

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ আক্রান্তের খবর আসছে, তাতে আক্রান্তের আসল খবর জানা যাচ্ছে না।কারণ, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, শুধু তাদের হিসেব পরিসংখ্যানে ধরা হচ্ছে।তাই এর প্রকৃত হিসেব বের করা বা জানা খুবই কঠিন ব্যাপার, যা আরেকটি আশঙ্কার কারণ।

চীনের সবগুলো প্রদেশসহ বিশ্বের ৪৮টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। চীনের বাইরে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৬৭ জন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জাপানে ৮৭৭ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ হাজার ৫৯৫ জন।

ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীন ভ্রমণে সতর্কতা, নিষেধাজ্ঞা জারি এবং কড়াকড়ি আরোপ করেছে অনেক দেশ।ভারত, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশ চীন থেকে আগত যাত্রীদের ভিসা বাতিল করেছে।ভাইরাসের কারণে, বিশ্বের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।চীনে অধিকাংশ বিমান সংস্থার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্সসহ আরও অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

এছাড়া, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে (কোভিড-১৯) চীনে ৮ স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চীনে ৩ হাজার  স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। রবিবার দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এ তথ্য জানিয়েছেন। 

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের সহকারী পরিচালক জেং ইজিন জানান, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এরইমধ্যে ৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৩ হাজার জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। যা ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্ত রোগীদের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশে রয়েছে ২ হাজার ৫০২।

গত ডিসেম্বরে চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা।এখন পর্যন্ত চীনের বাইরে বিশ্বের ৪৮টি দেশে ৩ হাজার ৬৬৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুধু চীনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৪৯৯ জন।

যেসব দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে-

চীন- ৭৮ হাজার ৮০ জন, দক্ষিণ কোরিয়া- ১ হাজার ৫৯৫, জাপান- ৮৭৭,  ইটালি- ৪৭০, ইরান- ১৩৯, সিঙ্গাপুর- ৯৩, হংকং- ৮৯, যুক্তরাষ্ট্র- ৬০, থাইল্যান্ড- ৪০, বাহরাইন-৩৩, তাইওয়ান- ৩২, জার্মানি- ২৭, কুয়েত- ২৬, অস্ট্রেলিয়া- ২৩, মালয়েশিয়া- ২২, ফ্রান্স- ১৮, ভিয়েতনাম- ১৬, স্পেন- ১৩, যুক্তরাজ্য- ১৩, আরব আমিরাত- ১৩,  কানাডা- ১২, ম্যাকাও- ১০, ইরাক- ৫, ওমান- ৪, ফিলিপাইন- ৩, ক্রোয়েশিয়া-৩, ভারত- ৩,   অস্ট্রিয়া- ২, ফিনল্যান্ড- ২, ইজরাইল- ২, লেবানন- ২, পাকিস্তান- ২, রাশিয়া- ২, সুইডেন- ২, আফগানিস্তান-১, আলজেরিয়া- ১, বেলজিয়াম- ১, ব্রাজিল- ১, কম্বোডিয়া- ১, মিশর- ১, জর্জিয়া- ১, গ্রীস- ১, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া- ১, নেপাল- ১, নরওয়ে- ১, রোমানিয়া- ১, শ্রীলঙ্কা- ১ ও সুইজারল্যান্ড- ১ জন।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.