এখনও করোনা মুক্ত বাংলাদেশ, প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

দিনের পর দিনেই বিশ্বজুরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। কেননা, প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনের বাইরে হংকং ও ফিলিপাইনে ১ জন করে মোট ১ হাজার ৩৫৭ জন মারা হয়েছে। 

চীনের বাইরেও অনেক দেশের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখনও কেউ আক্রান্ত না হলেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে আশঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশে। তবে এই ভাইরাস মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ ও কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

তবে বাংলাদেশে আক্রান্ত না হলেও বাংলাদেশি হিসেবে সিঙ্গাপুরে ৪ জন প্রবাসী আক্রান্ত হয়েছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসে দুই বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে সেখানে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২ জন।

বাংলাদেশিদের আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে কাজ করার বৈধ ভিসা রয়েছে তাদের। দেশটির শেলেটার অ্যারোস্পেস হাইর্টসে কাজ করতেন তারা। তাদের বিষয়ে নিবিড়ভাবে খোঁজ খবর নিচ্ছেন বাংলাদেশ দূতাবাস।

চীন থেকে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশের করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ব্যবসা-বাণিজ্য-শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ফলে সংক্রমিত করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশ। কারণ 

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বাংলাদেশ থেকে চীনে আসা-যাওয়া করছে। এছাড়া অন যেসব দেশে ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়েছে, সেই দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, ‘এটা সত্যি, বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। যেহেতু চীনের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ফলে সেখান থেকে করোনা ভাইরাস আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ভ্রমণ করতে যায়, তাই এ ক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে।’

নতুন করোনা ভাইরাস (২০১৯-এনসিওভি) প্রতিরোধে বিশেষ বৈঠক করে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকের পর মন্ত্রী ও কর্মকর্তাসহ ২৪/২৫ জনকে নিয়ে নিজের কার্যালয়ে বিশেষ এই বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যেভাবেই হোক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে হবে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহর থেকে ফিরিয়ে আনা ৩১২ বাংলাদেশিকে শনিবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. জাহিদ মালেক।

তাদের কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীন থেকে ফেরা এই বাংলাদেশিরা ‘কোয়ারেন্টিনের শেষ পর্যায়ে’ আছেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের পর্যবেক্ষণের ১৪ দিন পূর্ণ হবে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৫ তারিখ আমরা তাদের ছেড়ে দেব। এখানে আর কোনো সমস্যা নেই। তাদের সবাই ভালো আছেন।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ বিমানে করে দেশে ফেরেন ৩১২ জন বাংলাদেশি দলটি। আটজনের শরীরে জ্বর থাকায় তাদের ঢাকার দুটি হাসপাতালে রেখে বাকিদের আশকোনা হজক্যাম্পে ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে পাঠানো হয়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত ১৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়াও আরও ১০ জনকে নিয়োজিত করা হয়েছে। তাছাড়া একজন নার্স ও একজন চিকিৎসককে এ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।  দেশের বাইরে থেকে আসা প্রত্যেক রোগী থার্মাল ক্যামেরা স্ক্যানার ছাড়া প্রবেশ করতে পারছেন না। স্ক্যানারে যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে স্ক্রিনে লাল দেখাবে। তখন ওই যাত্রীকে স্ক্রিনিং করা হয়। 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.