করোনা প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে  অস্ট্রেলিয়া জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এছাড়া দেশটির নাগরিকদের আগামী ছয় মাস বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতেও আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।  

করোনা ভাইরাস দেশটিতে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান মরিসন।

স্কট মরিসন বলেন, ‘মানুষের সুরক্ষায় এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সরকার ভাইরাসের বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে সচেষ্ট, এজন্য যেকোনো শহর বা এলাকা বন্ধ করে দিতে পারে, কার্ফুও জারি করতে পারে।’

এছাড়া কেউ যদি কোয়ারেন্টিন ভঙ্গ করে অথবা আইন অমান্য করে গণজমায়েত করে তাহলে জরিমানা এবং আইনগত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭০৯ জন এবং নিহত হয়েছেন ৬ জন। অন্যান্য দেশের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও করোনা ঠেকাতে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, চীনে করোনা ভাইরাস প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক আকারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এতে বিশ্বব্যাপী প্রচণ্ড আতঙ্ক ও ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে। 

করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ৯৯৩ জনসহ মোট মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৯৮৭ জনের। এর মধ্যে উৎপত্তিস্থল চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৪৫। চীনের বাইরে মারা গেছে ৫ হাজার ৭৪২ জন। 

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ হাজার ৮ জনস মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৫১ জন। এর মধ্যে ৮৫ হাজার ৭৭৮ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৯২৮ জন। দেশটিতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ হাজার ৪২০ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪২৩ জন মানুষ। 

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৮৬ জন আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৬১ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ৬ হাজার ৮২৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুর হার ৯ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৯১ শতাংশ।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৭৬টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.