ভারতের ২০ কোটি মুসলিমকে টার্গেট করা হয়েছে’- ইমরান খান

গত তিনদিন ধরে জ্বলছে দিল্লি। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এনিয়ে এপর্যন্ত নীরব থাকলেও অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিল্লিবাসীকে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আর্জি জানালেন তিনি।

টুইটারে মোদী লেখেন, ‘‘শান্তি ও সম্প্রীতি আমাদের সংস্কৃতির মূল কথা। দিল্লির ভাই-বোনেদের কাছে অনুরোধ, সর্বদা শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখুন। যত দ্রুত সম্ভব দিল্লিতে শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসাটা জরুরি।’’

এর কিছুক্ষণ পরই এক টুইটে ইমরান বলেন, ‘ভারত-অধিকৃত কাশ্মিরের ঘটনার পরেই আমি গত বছর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বলেছিলাম, বোতল থেকে দৈত্যটা বেরিয়ে পড়ল। এ বার রক্তপাত আরো বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলাম। যার সূত্রপাত হয়েছিল কাশ্মিরে। ভারতে থাকা ২০ কোটি মুসলিম এখন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। এটা রুখতে গোটা বিশ্বকে এবার এগিয়ে আসতে হবে।’

ট্রাম্পের ভারত সফরের মধ্যেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে দিল্লি। তিন দিনের সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক। দুটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে। মসজিদের মিনারে হনুমানের পতাকা লাগানো হয়েছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মুসলিমদের কয়েকশ দোকান ও বাড়িঘর।

অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের উসকানিমূলক বক্তব্যের পরই দিল্লিতে সহিংসতা শুরু হয়। সেই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টও বলেছে, পুলিশের নাকের ডগায় সব হয়েছে। পুলিশ হামলাকারীদের পালিয়ে যেতে দিয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লির ১০টি স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা ১৮টি এফআইআর দাখিল করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একশ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান সোনিয়া গান্ধী। সোমবার নয়াদিল্লিতে দলটির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.