যুক্তরাষ্ট্রকে ব্ল্যাক বক্স দেয়া হবে না: ঘোষণা ইরানের

ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ১৮০ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়া ইউক্রেনীয় বিমানের ব্ল্যাক বক্স বিমানটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) তেহরান এমন ঘোষণা দিয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 
গতকাল বুধবার তেহরান থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উদ্দেশে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল পিএস৭৫২ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানর সব আরোহী নিহত হন। আরোহীদের অধিকাংশই ইরান ও কানাডার নাগরিক ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়। 

বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি মার্কিন বিমান নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের তৈরি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের ছিল। 

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনা তদন্তে গিয়ে ব্ল্যাক বক্স পায় ইরান। এর পর থেকেই সেটা হস্তান্তরে আপত্তি তোলে তেহরান। 

বৈশ্বিক বিমান চলাচল আইন অনুযায়ী, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্তে নেতৃত্ব দেয়ার অধিকার রয়েছে ইরানের। তবে সেক্ষেত্রে তদন্তকাজে যুক্ত থাকতে পারে বিমানটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। আর ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণের ব্যাপারে বিশ্বের খুব অল্প দেশেরই দক্ষতা রয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সশস্ত্র শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে প্রক্সি যুদ্ধ চলছে এরইমধ্যে তেহরানে এত বড় বিমান দুর্ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। 

এ ব্যাপারে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (সিএও) প্রধান আলি আবেদজাদেহ বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বিমান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাক বক্স হস্তান্তর করা হবে না। এ দুর্ঘটনা তদন্ত করবে ইরান, চাইলে ইউক্রেন সঙ্গে থাকতে পারে।’

কিন্তু ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণ করবে কোন দেশ সেটি স্পষ্ট করেননি সিএও প্রধান। যদিও বোয়িং যেকোনও প্রয়োজনে সহায়তায় প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছে। 

এদিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা তদন্তে ইরানকে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, ‘ইরান চাইলে আমরা কারিগরি সহায়তা দিতে পারি।’

উল্লেখ্য, ব্ল্যাক বক্স এমন এক ডিভাইস যেখানে বিমানের সমস্ত ডেটা রেকর্ডিং ও ককপিট ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার অংশ বিমান চালকের কক্ষের সব অডিও কিংবা কথাবার্তা রেকর্ড থাকে। আর ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার অংশে বিমানের গতি, বাতাসের গতি, বিমানটি কত উঁচু দিয়ে যাচ্ছে, জ্বালানি প্রবাহ, চাকার গতিবিধিসহ টেকনিক্যাল বিভিন্ন তথ্য রেকর্ড থাকে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.