যে বক্তব্যে এরদোগানের ওপর চটেছে ভারত

অধিকৃত জন্ম ও কাশ্মিরের জনগণের ওপর অমানবিক আচরণ ও নির্যাতনের বিষয়ে মন্তব্য করায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের ওপর চটেছে ভারত। জম্মু ও কাশ্মির বিষয়টি পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ উল্লেখ্য নাক না গলাতে এরদোয়ানকে সতর্ক করে ভারত। 

কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকবে তার দেশ জানিয়ে সম্প্রতি পাকিস্তান সফরকালে দেশটির জাতীয় সংসদের যৌথ অধিবেশনে দেয়া ভাষণ দেন। 

মুসলিম বিশ্বের এই নেতা বলেন, ‘কয়েকশ বছর আগে তুরস্কের কানাকালেতে যে ধরনের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল একই ঘটনা ঘটছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে। এর বিরুদ্ধে তুরস্ক সবসময় প্রতিবাদ করে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কখনও কানাকালের সেই দুঃসময়ে উপমহাদেশের মুসলমানদের সমর্থনের কথা ভুলবো না। যে পাকিস্তানিরা আমাদের জন্য এত সমর্থন দিয়েছেন, দোয়া করেছেন আমরা তাদেরকে কীভাবে ভুলে যাব? আমাদের বন্ধুত্ব ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে নয় বরং এর ভিত্তি হলো ভালোবাসা।’

কাশ্মিরীদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব পাকিস্তান। পাকিস্তান কাশ্মিরীদের যে চোখে দেখে তুরস্কও সেই ভাবেই দেখে জানিয়ে এরদোগান বলেন, ‘আজকে কাশ্মির ইস্যুকে পাকিস্তানিরা যেভাবে দেখছেন আমরাও ঠিক একইভাবে দেখছি। আমরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়ে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাশ্মিরে আমাদের ভাই-বোনেরা কয়েক দশক ধরে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একতরফা পদক্ষেপের কারণে সে দুর্ভোগ অনেক বেড়েছে। কাশ্মির সমস্যার সমাধান হতে হবে সহিংসতা অথবা নির্যাতনের মাধ্যমে নয় বরং ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে। এ ধরনের সমাধান সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে।’

চলতি বছরের ৫ আগস্টে একতরফা ও বিতর্কিত ভাবে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনসহ বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে দুই ভাগ করে নাদালকে বিচ্ছিন্ন করে হিন্দ্যুতবাদী দল বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর রাজ্য জুরে কারফিউ জারি করা হয়।

মোবাইল-ইন্টারনেট বন্ধ, গ্রেফতার-গৃহবন্দি, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধসহ নানা উদ্যোগে গোটা উপত্যকাকে যখন কারাগারে পরিণত করা হয় তখনও প্রতিবাদী ছিলেন এরদোগান। জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে ভারতের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এরদোগান বলেছিলেন, ‘জম্মু-কাশ্মিরকে কবরের পরিণত হয়েছে। কাশ্মিরের ভাই-বোনেদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। পাকিস্তান যে লড়াই চালাচ্ছে, তার সমর্থন করবে আঙ্কারা। তুরস্ক সবসময় শান্তি এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করে যাবে।’

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.