আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল

আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল

আফগানিস্তান ক্রিকেট দল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ও দুটি টোয়েন্টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য বাংলাদেশ সফর করে। ওডিআই সিরিজটি ২০২০-২০২৩ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগের একটি অংশ হিসেবে খেলা হয়।

 

২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সফরের সূচি নিশ্চিত করে। ওডিআই ম্যাচগুলো চট্টগ্রামে ও টি২০আই ম্যাচগুলো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

২০২২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তান দল সিরিজের পূর্বে প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে সিলেটে পৌঁছায়। কিন্তু সিলেটে পৌঁছানোর পর দলের বেশ কিছু সদস্যের দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। এ কারণে সফরকারী দলের সবাইকে ৪৮ ঘণ্টার আইসোলেশনে রাখা হয়। ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দলের সবার কোভিড-১৯ পরীক্ষায় নেগেটিভ ফলাফল আসে।

 

ওডিআই সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়। টি২০আই সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়।

আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল

১৯৯৫ সাল আফগানিস্তান ক্রিকেট ফেডারেশন গঠিত হয়। কিন্তু, ২০০০ সাল পর্যন্ত তালিবান সরকার ক্রিকেট খেলাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু, এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বৈপ্লবিক উত্থান ঘটায়। ২০০১ সালে আইসিসি’র অনুমোদনযোগ্য সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হয়।

২০০৬ সালে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত খেলায় মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবকে পর্যদুস্ত করেন। ২০০৬ সালের শেষদিকে দলটি ইংল্যান্ড গমন করে। ঐ সফরে কাউন্টি দ্বিতীয় একাদশ দলগুলোর বিপক্ষে সাত খেলার ছয়টিতেই বিজয়ী হয়। ২০০৮ সালে বিশ্ব ক্রিকেট লীগে যোগ দেয়। শুরুরদিকে বছরগুলোয় ২০০৮ সালের পঞ্চম বিভাগ ও চতুর্থ বিভাগের শিরোপা পায়।

পরের বছরই ২০০৯ সালের তৃতীয় বিভাগের শিরোপা লাভ করতে সক্ষম হয়। ২০০৯ সালে অল্পের জন্যে ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করে। ঐ বছর তারা আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পঞ্চম স্থান দখল করেছিল। তবে, এ অবস্থানের ফলে তারা ওডিআই মর্যাদার অধিকার পায় ও চারদিনব্যাপী আইসিসি আন্তঃমহাদেশীয় কাপে খেলার সুযোগ লাভ করে।

 

আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল

আফগানিস্তান ক্রিকেট দল ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করে। তাদের প্রথম ওডিআইটি ছিল ২০০৯ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পঞ্চম স্থান নির্ধারণী খেলায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। খেলায় তারা ৮৯ রানে জয়ী হয়েছিল।এরপর থেকে অদ্যাবধি ৪৭জন খেলোয়াড় ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন।

 

যেদিন একজন খেলোয়াড় তার প্রথম ওডিআই ক্যাপ পায়, সেই ক্রমিক অনুসারে এ তালিকাটি সাজানো হয়েছে। যদি একাধিক খেলোয়াড় একই ওডিআই ম্যাচে তাঁর প্রথম ওডিআই ক্যাপ পায়, সেক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের পারিবারিক নামের ইংরেজি বর্ণানুক্রম অনুসারে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

দীর্ঘকালের আফগানিস্তান যুদ্ধ-এর কারণে দলটি তাদের দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে না। প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাত তে আয়োজন করলেও বর্তমানে ভারতের নবনির্মিত ২৫,০০০ আসনবিশিষ্ট দেরাদুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম দলটির ঘরের মাঠ হিসেবে পরিচিত।

 

টি-টোয়েন্টিতে একটি বড় চমকের নাম আফগানিস্তান। দেশটির প্রায় সব ক্রিকেটারই টি-টোয়েন্টি মানসিকতার। সবচেয়ে বড় কথা, দলটিতে তিনজন বিশ্বমানের বোলার রয়েছেন। মোহাম্মদ নবি, রশিদ খান এবং মুজিব-উর রহমান। এই তিনজনের ঘাড়ে চড়ে বিশ্বের যে কোনো পরাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসতে পারে আফগানরা।

 

আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল

টি-টোয়েন্টি র‌্যাকিংই অনেকটা সে প্রমাণ বহন করে। দুইবার বিশ্বকাপজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তিনবারের বিশ্বকাপ ফাইনালিস্ট এবং একবার জয়ী শ্রীলঙ্কা তাদের পেছনে। বর্তমান র‌্যাংকিং অনুসারে হয়তো বাংলাদেশ তাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপের দল নির্ধারণের সময় তো বাংলাদেশ ছিল তাদেরও অনেক পেছনে, ১১তম স্থানে।

 

যে কারণে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মত দলকে পেছনে ফেলে আফগানিস্তান এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে খেলছে সরাসরি। গ্রুপ-২ তে। তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং প্রথম পর্ব থেকে উঠে আসা দুটি দল।

 

আইসিসির সর্বশেষ তথা ১২তম পূর্ণ সদস্য। এরইমধ্যে সাদা পোশাকে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে ক্রিকেটের নবীন দেশটির। এমনকি টেস্টে বাংলাদেশ এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচও জিতে ফেলেছে তারা। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, হযরতুল্লাহ জাজাই, মুজিব-উর রহমান কিংবা মোহাম্মদ শাহজাদদের মত তারকা ক্রিকেটারে ভর্তি একটি দল আফগানিস্তান। সুপার টুয়েলভে এবার আরব আমিরাতের মাটিতে বিশ্বকাপে অনেক বড় চমক দেখানোর প্রত্যাশা নিয়েই খেলতে যাচ্ছে আফগানরা।

 

রশিদ খান, নবি এবং মুজিব-উর রহমানদের আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা দলটির অন্যতম সেরা পাথেয় হয়ে উঠতে পারে। আরব আমিরাতের উইকেট দেশটির ক্রিকেটারদের কাছে বেশ পরিচিত। এটা বাড়তি একটা সুবিধা এনে দিতে পারে আফগানদের। ব্যাট হাতে রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং হযরতুল্লাহ জাজাই যদি জ্বলে উঠতে পারেন ঠিক মত, তাহলে নিশ্চিত আফগান দলটি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে বিশ্বকাপে।

 

ক্রিকেটের সঙ্গে দেশটির পরিচয় উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। কিন্তু আফগানিস্তান এমন একটি দেশ, যেখানে দখলদার বিদেশী বেনিয়াদের দৃষ্টি নিবদ্ধ সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে। উনবিংশ শতাব্দী বলুন আর বিংশ শতাব্দী বলুন, দখলদারদের দৃষ্টি কখনওই সরেনি আফগানদের ওপর থেকে। দীর্ঘ সময় সোভিয়েত শ্বেত ভল্লুকদের সঙ্গে লড়াই চালানোর এক দশক পর আবার মার্কিনীদের লোলুপ দৃষ্টি। সব মিলিয়ে দেশটিতে বিকাশ লাভেরই সুযোগ পায়নি ক্রিকেট।

 

আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল

তবুও বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এসে নিত্য বারুদের গন্ধ আর বুলেট-বোমা-মাইনের শব্দ ভেদ করে দেশটিতে গজিয়ে উঠেছে ক্রিকেটের চারা। ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে। এখনও শৈশব পেরিয়ে হয়তো কৈশোরে পদার্পন করেছে আফগানদের ক্রিকেট। এরই মাঝে তারা যোগ্যতাবলে ঠাঁই করে নিয়েছে ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে। এর আগে খেলে ফেলেছে তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও।

 

২০১৫ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি। দ্বিতীয়বারেরমত ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলেছে তারা। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছে ২০১০ সাল থেকেই। এরপর ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ সালেও খেলেছে তারা। এবার নিয়ে তারা খেলছে পঞ্চমবার। এত অল্প সময়ে একটি দলের এভাবে এগিয়ে যাওয়া বিস্ময়করই বটে।

 

পাকিস্তানের রশিদ লতিফের হাত ধরেই মূলতঃ উত্থান আফগান ক্রিকেটের। প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনার সব মানসিকতাই তিনি তৈরি করে দিয়েছেন আফগান ক্রিকেটারদের মধ্যে। যদিও এখন রশিদ লতিফ নেই। ২০১৫ বিশ্বকাপে কোচের দায়িত্বে ছিলেন ইংল্যান্ডের অ্যান্ডি মোল। মাঝে কিছুদিন ছিলেন ভারতের লালচাঁদ রাজপুত, পাকিস্তানের ইনজামাম-উল হকরা। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলটির অভিভাবকত্বের দায়িত্বে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল সিমন্স।

 

এবার বিশ্বকাপে আফগানদের অভিভাবকত্ব করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অলরাউন্ডার ল্যান্স ক্লুজনার। সম্প্রতি তারা ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী ব্যাটিং কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে।

 

আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল

একঝাঁক উদীয়মান তারকা রয়েছে আফগান ক্রিকেটে। যারা সারা বিশ্বকে চমকে দিতে পারে যে কোনো মুহূর্তে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর লেগ স্পিনার রশিদ খান রয়েছেন আফগান দলে। অফ স্পিনার মুজিব-উর রহমানও সমান তালে প্রতিপক্ষের জন্য হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর।

 

উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিত হলেও দেশটিতে প্রাতিষ্ঠানিকতা পায় ১৯৯৫ সালে। এ বছরই প্রথম আফগানিস্তান ক্রিকেট ফেডারেশন গঠিত হয়। এরপর ২০০১ সালে আইসিসির সহযোগি সদস্য এবং ২০০৩ সালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সদস্য হয় আফগানিস্তান।

 

দেশটিতে একটি জাতীয় ক্রিকেট দলই গঠন হয়েছে প্রথম ২০০১ সালে। এরপর ২০০৯ সালে তারা প্রথম বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নেয়। যদিও ২০১১ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করতে পারেনি। তবে ২০১৩ সালে এসে আইসিসির ওয়ানডে মর্যাদা লাভ করে আফগানরা। এর আগেই ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জণ করে তারা। যা ছিল দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম কোন বড় আসরে খেলার অভিজ্ঞতা। এরপর ২০১২ এবং ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তারা।

বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল অবশ্য ঘোষণা করেনি আফগানিস্তান। ১৮ সদস্যের দল দিয়েছে তারা, যেটি পরে নামিয়ে আনা হবে ১৫ জনে। বিশ্বকাপের জন্য কোয়ারেন্টিন শুরুর পাঁচদিন আগে পর্যন্ত স্কোয়াডে পরিবর্তন আনার সুযোগ আছে।

 

দলে ফেরা শাহজাদ ২০১৯ সালের অগাস্টে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায়। পরে নিষেধাজ্ঞা শেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরেন, আবু ধাবিতে টি-টেন ক্রিকেটে ফেরেন এই বছরের শুরুতে। এবার ফিরতে পারলেন জাতীয় দলে।

 

দলে জায়গা পাওয়া হামিদ হাসান আফগানিস্তানের হয়ে সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০১৬ বিশ্বকাপে। আফগান ক্রিকেটের প্রথম তারকা মনে করা হয় এই ফাস্ট বোলারকে। অভিজ্ঞ অন্য দুই পেসার শাপুর জাদরান জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ এই সংস্করণে খেলেছেন দেড় বছর আগে, দওলত জাদরান দুই বছর আগে।

আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল

 

১৮ সদস্যের আফগানিস্তান দলঃ

রশিদ খান, মোহাম্মদ শাহজাদ, রহমানউল্লাহ গুরবাজ, করিম জানাত, হজরতউল্লাহ জাজাই, উসমান ঘানি, গুলাবদিন নাইব, নাভিন উল হক, আসগর আফগান, হামিদ হাসান, মোহাম্মদ নবী, শরাফউদ্দিন আশরাফ, নাজিবউল্লাহ জাদরান, দৌলত জাদরান, হাশমতউল্লাহ শহিদি, শাপুর জাদরান, মুজিব উর রহমান, কাইস আহমেদ।

আফগানিস্তান ওয়ানডে দলঃ

হাশমত শাহিদি (অধিনায়ক), রহমত শাহ (সহ-অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, রিয়াজ হাসান, নাজিব জাদরান, শহিদ কামাল, ইকরাম আলিখিল, মোহাম্মদ নবি, গুলবাদিন নাইব, আজমত ওমরজাই, রশিদ খান, ফজল হক ফারুকি, মুজিব উর রহমান, ইয়ামিন আহমেদজাই ও ফরিদ আহমাদ মালিক।

 

ট্রাভেলিং রিজার্ভঃ

কাইস আহমেদ ও সেলিফ সাফি।

 

আফগানিস্তান টি-টোয়েন্টি দলঃ

মোহাম্মদ নবি (অধিনায়ক), রহমানউল্লাহ গুরবাজ, হজরত জাজাই, উসমান ঘানি, দারউইশ রাসুলি, নাজিব জাদরান, আফসার জাজাই, করিম জানাত, আজমত ওমরজাই, শরাফুদ্দিন আশরাফ, মুজিব উর রহমান, রশিদ খান, কাইস আহমেদ, ফজল হক ফারুকি, নিজাত মাসুদ ও ফরিদ আহমেদ মালিক।

 

আরও পড়ুন

শিক্ষা  অপরাধ  স্বাস্থ্য  অর্থনীতি  রাজনীতি  আন্তর্জাতিক  খেলাধুলা  লাইফস্টাইল  সারাদেশ

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.