এবার তেল দিয়ে রাশিয়াকে কাবু করতে চায় পশ্চিমারা

ইউক্রেনের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো। এতে সাময়িকভাবে বিপদে পড়লেও যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়ায় পোয়াবারো হয়েছে রাশিয়ার। ক্রেতাদেশগুলোকে তারা রুবলে তেল কিনতে বাধ্য করায় রাশিয়ার মুদ্রা রুবলও চাঙা।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া যেন তেল রপ্তানি করে অর্থনীতি আর চাঙা রাখতে না পারে, সে লক্ষ্যে এক হয়েছে জি-৭ভুক্ত উন্নত দেশগুলো।

জি-৭-এর চলমান বৈঠকে রাশিয়ার তেলের দামের সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে একমত হওয়ার কথা ঘোষণা করতে চলেছে জি-৭ভুক্ত দেশগুলো। আমেরিকার সরকারি মহলের দাবি, মস্কোর তেল রপ্তানি খাতে আয় কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জার্মানিতে জি-৭-এর বৈঠক চলছে। সেখানেই দাম-সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। রাশিয়ার পণ্যে আরও শুল্ক চাপানো নিয়েও আলোচনা হচ্ছে এই বৈঠকে।

ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন আক্রমণ করায় রাশিয়ার ওপরে নানা আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে পশ্চিমা দুনিয়া। সে দেশের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করেছে বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ। এই অবস্থায় আয় ধরে রাখতে ভারতসহ তেল আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর কাছে কম দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে রাশিয়া। লক্ষ্য, এর মাধ্যমে মুনাফা ঘরে তোলা। সেই পথই এবার বন্ধ করতে চাইছে জি-৭। কীভাবে এই দর কার্যকর হবে এবং এর ফলে রাশিয়ার অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, আগামী কয়েক মাসে তা নিয়ে আলোচনা করবে তারা।

এই যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১৩৯ ডলার ছুঁয়েছিল। এ কারণে দেশে দেশে স্থানীয় মুদ্রার মান পড়ছে, শক্তিশালী হচ্ছে ডলার। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিরও অন্যতম কারণ অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দর। জি-৭ভুক্ত দেশগুলো রাশিয়ার তেলের দর বেঁধে দেওয়ায় সক্ষম হলে অনেক দেশ বিপাকে পড়বে।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব রাশিয়ার অর্থনীতিতে কতটা অনুভূত হবে, তা নিয়ে অনেক চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে। স্ট্যাটিসটার তথ্যানুসারে, এখন পর্যন্ত রাশিয়ার কোম্পানি ও নাগরিকদের ওপর ১০ হাজার ৫০০ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্লেষকেরা ধারণা করেছিলেন, এর মধ্যে রুশ অর্থনীতির ধসে পড়বে।

 

তেল

কিন্তু রাশিয়ার একটি সুবিধা হলো, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের পর থেকেই রাশিয়া নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করছে, অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার একধরনের অভিজ্ঞতা তাদের আছে। এই নিষেধাজ্ঞা যদি হঠাৎ করে আসত, তাহলে তারা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ত। এখন পর্যন্ত যে ভেঙে পড়েনি, এটাই তার কৃতিত্ব। রুবলের মান চাঙা রাখায় তারা যে কৃতিত্ব দেখিয়েছে, তা মূলত এই অভিজ্ঞতার আলোকে সম্ভব হয়েছে।

তেলের দাম বাড়ায় রাশিয়ার পোয়াবারো হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর ১০০ দিনের মধ্যে তেল ও গ্যাস বিক্রি করে রাশিয়া প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। কিন্তু রাশিয়া যতই লাভবান হোক না কেন, বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের রাশিয়ার অর্থনীতি ১০ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে। বিবিসির রাশিয়াবিষয়ক সম্পাদক রোজেনবার্গ বলেছেন, রাশিয়ার সুপারমার্কেটের তাক থেকে ইতিমধ্যে আমদানি পণ্য উধাও হয়ে গেছে।

তেল

 

দেশটির বিভিন্ন বিপণিবিতানে মানুষের ভিড় কমে গেছে। সেই সঙ্গে কমেছে পণ্যের সম্ভার। এই চিত্র দেখেই বোঝা যায়, রাশিয়ার অর্থনীতি চূড়ান্ত বিচারে ভালো অবস্থায় নেই। সেই সঙ্গে সামনে আসছে শীতকাল। দীর্ঘ শীতকালে জ্বালানির চাহিদা যাবে বেড়ে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইতিমধ্যে রাশিয়ার কাছে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন, তা না হলে শীতকালে অনেক মানুষ যুদ্ধে মারা যাবে, এই তাঁর শঙ্কা। সেই সঙ্গে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তারা রুশ জ্বালানির বিকল্প বের করে ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করবে, এমন পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে। তখন রাশিয়া বড় ধাক্কা খাবে। সেই ধাক্কা তার পক্ষে তখন কতটা সামলানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের শঙ্কা আছে।

 

 

 

শ্রীলঙ্কায় দুই সপ্তাহ পেট্রল–ডিজেল বিক্রি বন্ধ

সিরিয়া যুদ্ধের ১০ বছর, প্রতিদিন প্রাণ যাচ্ছে ৮৪ জনের

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.