কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সিন্ডিকেটের ৭৬তম জরুরি সভায় তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয় বলে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

 

এতে বলা হয়, ‌‌‌খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং  বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার বিষয়টি ২ ও ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৭৬ তম জরুরি সভায় উত্থাপন করা হয়।

সিসিটিভির ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যাদি পর্যালোচনা করে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির আলোকে অসদাচরণের আওতায় সিন্ডিকেট ৯ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- কুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাদমান নাহিয়ান সেজান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তাহামিদুল হক ইশরাক, এলই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাদমান সাকিব, একই বিভাগের শিক্ষার্থী আ. স. ম. রাগিব আহসান মুন্না, সিই বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান, (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান, সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রিয়াজ খান নিলয়, এমই বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ রিফাত ও ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাইমুর রহমান অন্তু।

 

গত ৩০ নভেম্বর ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর সাক্ষাতের পর ড. সেলিমের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ক্যাম্পাসের বাসার টয়লেটে অচেতন হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

 

তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতি সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেছে।

 

আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার হলত্যাগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

 

অভিযোগ উঠেছে, ওই সাক্ষাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং মানসিক নির্যাতন চালান। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 

শুরুতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার কমিটির দুই সদস্য দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর শুক্রবার রাতে নতুন করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

 

কমিটিতে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. উদ্দিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া সদস্য করা হয়েছে কুয়েটের অধ্যাপক ড. খন্দকার মাহবুব, খুলনা জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের একজন প্রতিনিধিকে।

 

আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ভিসির কাছে জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

 

 

আরও পড়ুন

শিক্ষা  অপরাধ  স্বাস্থ্য  অর্থনীতি  রাজনীতি  আন্তর্জাতিক  খেলাধুলা  লাইফস্টাইল  সারাদেশ

ছাত্রলীগের ছাত্রলীগের 

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.