দরিদ্র পরিবারের হাসি ফোটালেন বিশ্বজয়ী শরিফুল

দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেসার শরিফুলের। নুন আনতে পান্তা পুড়ায় অবস্থা। এমন পরিবার থেকে উঠে এসে এখন বিশ্বজয়ী ক্রিকেট দলের সদস্য শরিফুল। স্বপ্ন আর স্বপ্ন নংয়, বাস্তব।

যুব  বিশ্বকাপ জয়ে আনন্দের ধারা বইছে দরিদ্র এ কৃষক পরিবারে। আনন্দ অশ্রু হয়ে ঝরেছে পুরো পরিবারে। কেঁদেই সবাই আনন্দ প্রকাশ করেন।

শরিফুলের বাবা-মা বলেন, ‘এত বড় আনন্দ আমাদের জীবনে আর আসেনি। অভাবের সংসারে শরিফুল দেশের জন্য যে সম্মান এনে দিয়েছেন তাতে ভরে গেছে আমাদের বুক। আমাদের প্রত্যাশা শরিফুল জাতীয় দলের হয়ে এভাবে দেশের বিজয় এনে দেবে।’

শরিফুলের বাবা একজন দ্ররিদ্র কৃষক। চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে শরিফুল দ্বিতীয়। বড় ছেলে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেন।

পঞ্চগড়ের বাঁহাতি এ পেসার বিশ্বকাপের ফাইনালে একটি মেডেন ওভারসহ ৩১ রান খরচ করে দুটি উইকেট নেন। দলের দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে দুটি ক্যাচ নেন। সরাসরি থ্রো করে একটি রান আউটও করেন।

শরিফুলের বাবা দুলাল মিয়া বলেন, শরিফুল ছোট থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহী ছিল। বড় হয়ে এত দ্রুত দেশের জন্য এত বড় সুনাম বয়ে আনবে এটা ভাবিনি। তবে স্বপ্ন দেখেছে ভালো কিছু করার। সে স্বপ্ন পূরণ হলো তার। এবার জাতীয় দলের হয়ে ভালো কিছু করতে পারলেই আমাদের মন ভরবে।

সোমবার সাত সকালেই পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউপির নগরপাড়ার শরিফুলদের বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

পাশাপাশি প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শরিফুলের বাবা-মাসহ পরিবারকে শুভেচ্ছা জানাতে মিষ্টি ও ফুল নিয়ে যান শরিফুলের বাড়িতে। শরিফুলের বাবা দুলাল মিয়া ও মা বুলবুলি বেগমকে মিষ্টি খাওয়ান দেবীগঞ্জের ইউএনও প্রত্যয় হাসান।

পাশাপাশি উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত জামান চৌধুরী জর্জসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শরিফুলের বাবা-মাকে মিষ্টি খাওয়ান। এ সময় তারা শরিফুলের পরিবারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। শরিফুল দেশে ফিরলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

ইউএনও প্রত্যয় হাসান বলেন, শরিফুল দেবীগঞ্জের গৌরব। দেশের পাশাপাশি আমাদের মুখও উজ্জল করেছেন শরিফুল। দেশে ফিরলে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.