দর্শকশূন্য গ্যালারিতে প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচ

ক্লাব ফুটবলের মত ঢাকার ক্রিকেটের আকর্ষণ ছিলো। যা বর্তমানে কমেছে অনেক আগেই, দর্শকও হারিয়েছে। সত্তর দশকের শেষভাগ থেকে শুরু করে ৮০-৯০ দশকের প্রায় পুরো সময় ঢাকাই ক্রিকেট মানেই ছিল অন্যরকম উত্তেজনা। 

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মোহামেডান-আবাহনী মহাদ্বৈরথ ও মর্যাদার লড়াইটিতে ১৫-২০ হাজার দর্শকের সমাগম ঘটত। অন্যান্য বড় ম্যাচেও গড়পড়তা ৭-৮ হাজার ক্রিকেট অনুরাগির দেখা মিলতো। কিন্তু সময় ব্যবধানে তা এখন কয়েকশ’তে দাঁড়িয়েছে।

করোনা আতঙ্কে অনেক বড়বড় আন্তর্জাতিক খেলাধুলার আসর সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে গেলেও, মাঠে দর্শক আসবে না ধরেই ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট লিগ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। সে অর্থে সমালোচনার ঝড় না বইলেও কেউ কেউ বাঁকা চোখে তাকিয়েছিলেন, কারো মুখে ছিল তীর্যক কথাবার্তা।

রবিবার (১৫ মার্চ) প্রায় দর্শকশূন্য শেরে বাংলায় হলো আবাহনী আর পারটেক্সের খেলা। যে দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। একাদশে লিটন দাস, নাঈম শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, আফিফ হোসেন ধ্রুব, তাইজুল ইসলাম, আরাফাত সানি, সাইফউদ্দীন আর মেহেদি হাসান রানার মত পরিচিত মুখ- সেই তারকাবহুল আবাহনীর ম্যাচ দেখতে শেরে বাংলায় ৫০ জন দর্শকও এসেছিলেন কি না সন্দেহ।

পূর্ব দিকের সাধারণ গ্যালারি ছিল সারাদিন ফাঁকা। দক্ষিণের ক্লাব হাউজে জনাদশেক দর্শক ছিলেন। শহীদ মোশতাক স্ট্যান্ডও ছিলো দর্শকশূন্য। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে আবাহনীর ম্যাচ মানেই ভক্ত ও সমর্থকদের হইচই আর হর্ষধ্বনি। আজ সে জায়গাও নীরব। আকাশী-হলুদ বিশাল পতাকা ওড়ানো থাকলেও আশপাশে সর্বোচ্চ জনাদশেক সমর্থক।

গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের হসপিটালিটি বক্সে হাতে গোনা অল্প কজন আবাহনী সমর্থক। এর বাইরে শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ডও খালি। সব মিলে ২৫-৩০ জন দর্শক। আবাহনীর ম্যাচে এত কম দর্শক কে দেখেছে কবে? তবে শেরে বাংলার প্রেসবক্সে অন্তত ২৫ জন আর গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে ক্যামেরাসহ ১৫ জন টিভি রিপোর্টার যোগ করলেও সব মিলে ১০০ জন হবে কি না সন্দেহ।

করোনা যতই শাখা প্রশাখা গজাক না কেন, দর্শক আর মিডিয়াকর্মী মিলে যদি একশরও কম থাকে, তাহলে আর কি ইবা বলার আছে? এত কম দর্শকে খেলা চললে আসলে কিছুই বলার থাকে না? এর দ্বিগুণ লোক তো শনিবার একাডেমি মাঠে প্রতিযোগী ক্লাবগুলোর অনুশীলনেই ছিল।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.