মায়ের কোলে ফিরছে বিশ্বজয়ীরা, পথে পথে রাজসিক সংবর্ধনা

বিশ্বজয় হয়ে গেছে আরও আগেই। তারপর অপেক্ষা ছিল দেশে ফেরার। সেই অপেক্ষার পালাও শেষ হয়েছে। এবার দেশকে বিজয়ের উল্লাসে ভাসিয়ে মায়ের ছেলেরা ফিরছেন মায়ের কোলে। আর তাদেরকে ফুলে ফুলে বরণ করে নিচ্ছে ভক্ত-অনুরাগী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকার লোকজন। 

প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপ জয় করে ফেরা বাংলার লাল-সবুজের দামাল ছেলেরা দেশের মুখকে উজ্জ্বল করেছে বিশ্বমঞ্চে। তাদের নিয়ে বাংলাদেশের গোটা ক্রীড়াঙ্গন যেমন উচ্ছ্বসিত, আবার প্রত্যেকের নিজ নিজ গ্রামের লোকজনও গর্বে গৌরবান্বিত। 

গতকাল বুধবার বিকেলে চ্যাম্পিয়নরা দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। আকবর আলীদের নজর দেখতে দুপুরের পর থেকেই হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হতে থাকে ক্রিকেটপালন মানুষ। এরপর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ফুলের মালা গলায় পরে বিজয়ীর বেশে তারা একে একে বিমান থেকে বাংলার মাটিতে পদার্পণ করেন। এসময় ‘আকবর আকবর’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা বিমানবন্দর এলাকা। চ্যাম্পিয়নদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী এবং বিসিবি সভাপতি। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বিসিবি একাডেমিতে। সেখানে দেয়া হয় উষ্ণ সংবর্ধনা।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে যাদের বাড়ি ঢাকায় তারা রাতেই বাসায় চলে যায়। আর যাদের গ্রামের বাড়ি ঢাকার বাইরে তারা রাতে একাডেমিতেই থাকেন। তাদের বাড়ি ফেরার যাবতীয় ব্যবস্থা করে বিসিবি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বীর বেশে স্বজনদের কাছে ফিরতে থাকেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। 

বিশ্বজয়ীদের এই ফেরাটা হয়েছে রাজসিক। দেশ ও গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করা এই বিজয়ীদের ফেরার অপেক্ষায় এলাকাবাসীর সময় যেন আর ফুরোচ্ছিল না। 

বৃহস্পতিবার সকালে বিমানে করে বিশ্বজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী, শরিফুল ইসলাম  শাহীন আলম বিমানে করে সৈয়দপুর যান। এসময় বিমানবন্দরে স্থানীয় লোকজন তাদের ফুলে ফুলে বরণ করে নেয়। বিজয় ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ বাতাস। 

একইদিন সকালে হাসান মুরাদ কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে নিজ এলাকায় যান পারভেজ হোসেন ইমন ও শাহাদাত হোসেন। সিলেটে যান তানজিম হাসান সাকিব, রাজশাহীতে মেহরাব হোসেন, যশোরে অভিষেক দাস এবং তানজিদ হাসান তামিম ও তৌহিদ হৃদয় যান প্রিয় বগুড়া শহরে। 

অন্যদিকে সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে ফাইনালে তোলা মাহমুদুল হাসান জয় ও সতীর্থ শামীম হোসেন বাসে করে চাঁদপুরে যান। একইসময়ে বাংলাদেশ যুব দলের ব্যাটিং কোচ ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স ও বোলিং কোচ মাহবুব আলী জাকী বাসে চড়ে যান কুমিল্লায়।

এদিকে বিশ্বজয়ের নায়কদের বরণ করে নিতে তাদের নিজ নিজ এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। পথে পথে তোড়ন, ব্যানার ও ফ্যাস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়া মহল ও এলাকাবাসী পরম সম্মানে দেশের বীর সন্তানদের বরণ করে নিতে প্রস্তুতি কোনও কমতি রাখছেন না। 

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পরিবারেরও অপেক্ষার সময় যেন শেষই হচ্ছে না। প্রত্যেকের বাড়িতে গত কয়েকদিন ধরেই উৎসবের আমেজ। চলছে মিষ্টি বিতরণ। আসছেন সাংবাদিকরা। কথা বলছেন বিশ্বজয়ীদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে। আজ ঘরের ছেলের ঘরে ফেরার দিনে প্রত্যেক চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটারের বাড়িতে আনন্দের জোয়ার জেগেছে। 

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.