এবারও কিছু চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

টানা তিন বছরের বিপর্যয় থেকে কাঁচা চামড়ার বাজারকে রক্ষা করার সর্বাত্মক চেষ্টা ছিল এবার। কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচায় তার ফলও পাওয়া যাচ্ছিল। বিশেষ করে গত দুই বছর কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে যে হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, এবার তার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সরকার গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ৫ টাকা করে বাড়ানোর ফলে বাজারে কাঁচা চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে।

বুধবার ঈদুল আজহার দিনে রাজধানীর পোস্তা এলাকার আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। অবশ্য কিছু সাধারণ ও মৌসুমি ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করলেও আড়তদারদের মতে চামড়ার দাম তেমন কমেনি।

তবে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় বসানো অস্থায়ী কাঁচা চামড়ার হাটটি উচ্ছেদ করায় চামড়া বেচা-বিক্রিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি সবার প্রচেষ্টায় এবার চামড়ার বাজারে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত বছরের চেয়ে প্রতি পিসে দেড় থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়ে আমরা চামড়া কিনছি।

কিন্তু কোনও ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ করে সায়েন্সল্যাব এলাকায় বসানো অস্থায়ী কাঁচা চামড়ার হাটটি উচ্ছেদ করায় চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুনেছি, কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি না করে ফেরত নিয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোরবানি ঈদের দিন সায়েন্সল্যাব এলাকায় কাঁচা চামড়ার হাট দীর্ঘদিনের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কোনও নোটিশ ছাড়া এই হাট উচ্ছেদ করায় কাঁচা চামড়া নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ট্যানারি মালিক সবাই কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছে।

উল্লেখ্য, পশু কোরবানি শুরু হওয়ার পর প্রতিটি মহল্লা ও পাড়া থেকে চামড়া সংগ্রহে নেমে পড়েন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ছোট ব্যাপারীরা। তারা কাঁচা চামড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় সংগ্রহ করে সায়েন্সল্যাব এলাকায় বসানো অস্থায়ী কাঁচা চামড়ার হাটে গড়ে ৪০০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। কিন্তু বিকালে হাটটি উচ্ছেদের পর সবাইকে যেতে হচ্ছে পোস্তায়।

পোস্তার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা প্রতিটি গরুর চামড়া গড়ে ৭০০ টাকা করে কিনছেন। এর সঙ্গে লবণ যোগ করা, শ্রমিকের মজুরি ও ভ্যান ভাড়ায় প্রতিটিতে আরও ৩০০ টাকা করে খরচ হবে। সেই হিসাবে তারা লবণযুক্ত চামড়া এক হাজার টাকায় বিক্রি করতে চান।

এদিকে সায়েন্সল্যাব এলাকায় বসানো অস্থায়ী কাঁচা চামড়ার হাটটি উচ্ছেদ করাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন। তিনি বলেন, মহামারি করোনার সময়ে খোলা ময়দানে কোনও হাট বসা ঠিক না। কাঁচা চামড়ার নির্ধারিত জায়গা পোস্তায় চলে যাবে।

তার মতে, পশু জবাই হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ লাগানোর কথা। কিন্তু ৮ ঘণ্টা পরও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ায় লবণ লাগায়নি। লবণ না লাগিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার উপর স্তূপ করে রেখেছে। এ কারণে এবারও চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। তিনি বলেন, এবার প্রায় এক কোটি পিস চামড়া পাওয়া যাবে। এরমধ্যে দুই -এক হাজার পিস চামড়া নষ্ট হলে এটাকে তেমন কিছু বলা যাবে না।

আজকের আবহাওয়া ভালো ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ সারাদিন যদি রোদ থাকতো, তাহলে সব চামড়াই নষ্ট হয়ে যেত। তিনি উল্লেখ করেন, গতবারের চেয়ে এবার কাঁচা চামড়ার বাজার ভালো।

প্রসঙ্গত, রাস্তা ও ফুটপাত দখলসহ পরিবেশ বিনষ্ট করে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় বসানো অস্থায়ী কাঁচা চামড়ার হাটটি উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

এদিকে পোস্তায় কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৫–৩০ বর্গফুটের কাঁচা চামড়া গড়ে ৭০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে এর নিচের ১৪–২০ বর্গফুটের কাঁচা চামড়া গড়ে ৪০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। গত দুই বছর কাঁচা চামড়ার দরে বিপর্যয় নেমেছিল। কোনও কোনও জায়গায় গরুর চামড়ার দাম দেড় শ টাকায় নেমে এসেছিল। দাম না পেয়ে অনেকে কাঁচা চামড়া রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলেন, কেউ কেউ মাটিতে পুঁতে ফেলেছিলেন।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.