করোনা আতঙ্কে কেনাকাটায় তাড়া, বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

করোনা ভাইরাসের ঝাঁকুনিতে একরকম নিথর হয়ে আছে বিশ্ব অর্থনীতি। করোনাভাইরাস আতঙ্কে নিত্যপণ্যের কেনাকাটা বেশ বাড়ছে বাজারে। অনেকে মাত্রাতিরিক্ত কিনছেন। তাদের আশঙ্কা দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে আগেই কিনে মজুদ করছেন। ইতোমধ্যে নিত্যপণ্যের বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ প্রায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে নারায়ণগঞ্জে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলছে। করোনা আতঙ্কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। যে কারণে শিগগিরই অন্য সব প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন গুজবে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। প্রকৃত অর্থে পণ্যের দাম বৃদ্ধি না পেলেও করোনা আতঙ্ক পুঁজি করে একটি সিন্ডিকেড ও একদল মুনাফালোভী ব্যবসায়ী পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ অনেকটা হুজুগে পড়ে বেশি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) শহরের কয়েকটি বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, চালের দাম কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা বেড়েছে। মিনিকেট চাল ৫০-৫২ টাকা, নাজির ৫৪-৫৫ টাকা কেজিতে এবং লতা চাল ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বস্তা প্রতি ১ থেকে ৩শ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশাখ মাসে নতুন ধান আহরন করা হবে। এই শেষ মাসে ধানের মোকামগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে-এমন অজুহাতে পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও খোলা বাজারে এর সাথে করোনা আতঙ্ক যোগ হয়েছে। তবে খোলা বাজারের বিক্রেতারা এ নিয়ে মুখ খুলছে না।

ব্যবসায়ী সূত্র মতে, চালের বাজারে দাম কিছু বাড়লেও করোনার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। একদল মুনাফাভোগী চক্র গুজব ছড়িয়ে ফায়দা লুটে নিচ্ছে।

এছাড়া মশুরির ডাল দেশি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, হাইব্রিড ৭০ টাকা এবং নিম্নমানের মোটা ডাল ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। 
ক্রেতারা বলছেন, ডালের দাম এখন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়নি। এখন দাম আরো কমার কথা। তবে এভাবে গুজব ছড়াতে থাকলে ও সিন্ডিকেট গড়ে উঠলে অচিরেই দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

সয়াবিন তেল প্রতি ৫ লিটার রুপচাঁদা ৫০০ টাকা ও তীর ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা বাজারে প্রতি কেজি সয়াবিন তেল ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পায়নি। তবে তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা দাম বাড়িয়ে বিক্রির কথা বলছে। ব্যবসায়ীদের দাবি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। যার ফলে পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পেঁয়াজ প্রতি পাল্লায় ৩০-৪০ টাকা বৃদ্ধিতে ২১০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা বাজারে ৫-১০ টাকা বৃদ্ধিতে ৪৫-৫০টাকায় প্রত্যেক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে চাল ও ডালের পর পেঁয়াজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

এসব পণ্যের পাশাপাশি প্রায় সকল নিত্যপণ্যের দাম কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সুযোগ পেলেই মুনাফালোভী ক্রেতারা দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দীগুবাবুর বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী হারুন জানায়, কোন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি। শুধুমাত্র চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। সামনে বৈশাখে চালের দাম কমে যাবে। তবে করোনা আতঙ্কে বেচা বিক্রি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় দশগুণ বিক্রি বেড়েছে।

খোলা বাজারের বিক্রেতাদের মতে করোনা আতঙ্কে গত দুদিন যাবত বিক্রি বেড়েছে। সবার দোকান খালি হয়ে গেছে। ক্রেতাদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে।

ক্রেতারা বলছেন, বাংলাদেশেও দিনদিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিনদিন কোয়ারেন্টাইন ও হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা সন্দেহভাজনের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। রোগী শনাক্তের আগেই মাস্কের দাম বেড়ে যাওয়ার এখন নিত্যপণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই আগে থাকতেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে মজুদ করতে চাইছেন।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.