চুয়াডাঙ্গায় বিদেশ ফেরত যুবক করোনায় আক্রান্ত

চুয়াডাঙ্গায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক যুবক। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন । 

আক্রান্ত ওই যুবক গত ১২ মার্চ ইতালি থেকে দেশে ফেরেন বলে জানা গেছে। ১৪ মার্চ নিজ বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় আসেন। গত ১৬ মার্চ ওই যুবককে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে আইইডিসিআর ।  

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায় , করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় বিদেশ ফেরত ৮৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তারা সম্প্রতি ভারত, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, ইতালি, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২ জন, জীবননগর উপজেলায় ৩৩ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩৫ জন এবং দামুড়হুদা উপজেলায় ১৩ জন। 

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ওই যুবককে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার পরিবারকেও হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের তাদের বাড়িতেই থাকতে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। 

এদিকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১ জন। সুস্থ হয়ে তিনজন বাড়িতে ফিরে গেছেন।

উল্লেখ্য, চীনে করোনা ভাইরাস প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক আকারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এতে বিশ্বব্যাপী প্রচণ্ড আতঙ্ক ও ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে। 

করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ২৭৬ জনের। এর মধ্যে উৎপত্তিস্থল চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৪৫। চীনের বাইরে মারা গেছে ৬ হাজার ৩১ জন। 

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩৭ জন। এর মধ্যে ৮৫ হাজার ৮২৩ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৯২৮ জন। দেশটিতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ হাজার ৪২০ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩০৯ জন মানুষ। 

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ১ লাখ ৩০ হাজার ১৩৮ জন আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার ২৪৫ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ৬ হাজার ৮৯৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুর হার ১০ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৯০ শতাংশ।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৭৬টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.