দিনের বেলায়ও থেমে নেই মশার উৎপাত

সিলেট নগরে বেড়েছে মশার উপদ্রব। মশার জ্বালাতনে সবাই অতিষ্ঠ। দিনে-রাতে পাল্লা দিয়ে চলছে মশার রাজত্ব। মশারি না টানিয়ে দিনের বেলায়ও ঘুমানোর উপায় নেই। নগরে মশার উপদ্রব বাড়লেও তাতে নজর নেই সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক)। নগরবাসীর অভিযোগ, সিটি করপোরেশন সময় সময় স্প্রে করলেও মশার উপদ্রব কমাতে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সিলেট সিটি করপোরেশন জানায়, নগরের ২৭টি ওয়ার্ডে ১০ দিন করে মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হবে। এজন্য প্রস্তুতি নিয়েছে সিটি করপোরেশন। ইতোমধ্যে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। মশা নিধনে এ বছর প্রায় ৬০ লাখ টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। এছাড়া আরও ৭৫ লাখ টাকার ওষুধের চাহিদা পত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নগরীতে মশার উৎপাতে বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। সন্ধ্যার আগেই বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করেও এর কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সর্বত্রই মশার উপদ্রব বেড়েছে। নগরবাসী বলছেন, মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দিনের বেলা চায়ের দোকান কিংবা খোলা জায়গাও মশায় কামড়ায়। কয়েল জ্বালিয়ে, ওষুধ ছিটিয়ে, মশারি টানিয়ে মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। দিনে বাচ্চাদের মশারি টানিয়ে ঘুম পাড়াতে হচ্ছে।

সিলেট নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার বাসিন্দা জাহিদ মিয়া বলেন, বিকেল থেকেই মশার উপদ্রব শুরু হয়। মশার যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন মাঠের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকার কারণে মশার উপদ্রব বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে এলাকার শিশুরা। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিটি করপোরেশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নগরের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা তারেক জানান, মশার চরম অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। কোথাও এক মিনিটও নিরাপদে বসা যাচ্ছে না। তিনি বলেন মশার উৎপাত এতটাই বেশি যে, দরজা-জানালা খুলে রাখার উপায় নেই।

সিলেট সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখন কিউলেক্স মশার উপদ্রব কিছুটা বেড়েছে। সামনে আসছে ডেঙ্গুর মৌসুম। তাই আমরা আগে ভাগে প্রস্তুতি নিয়েছি। এবার মশা নিয়ে নগরবাসীকে তেমন সমস্যা পোহাতে হবে না।

এ বিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, ভারী বৃষ্টি হলে কিউলেক্স ও এডিস মশা কমে যাবে। এডিস মশার ডিম দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকে, তাই সামান্য বৃষ্টি হলে জমে থাকা বৃষ্টির পানি থেকে মশা জন্মাতে পারে। সিটি করপোরেশন ও নগরবাসীর উচিত কোথাও যাতে পানি না জমে সেদিকে লক্ষ্য রাখা।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.